ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

সাবধান, যে শ্রেণির মুসলমানের জানাজা পড়েননি স্বয়ং রাসূল (সা.)

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০১৬
  • ৬৮৮ বার

সাধারণত কোন মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তাকে গোসল করিয়ে জানাযা পড়ানো হয় এবং তার পর দাফন করা হয়। কিন্তু মুসলমান হওয়ার পরও এক শ্রেণির মানুষের জানাযা পড়েননি স্বয়ং রাসূল (সা.)। কপাল পোড়া সেই শ্রেণি কারা?

পবিত্র কুরআনে শুধুমাত্র মুশরিকদের জন্য ক্ষমা চাইতে নিষেধ করা হয়েছে, অথবা যে ব্যাক্তির মুনাফেকী সর্বজনবিদিত ছিলো এবং রসূল সা.-কে জানানোও হয়েছিল, সেরূপ ব্যক্তির জানাযা পড়া থেকে তাঁকে বিরত রাখা হয়েছিল।

রসূল (সা.) স্বয়ং আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়াননি। হাদিসে শুধু এতোটুকুই পাওয়া যায়। মুসলিম শরিফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়ের শেষের দিকে হযরত জাবির বিন সামুরা থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে : ‘রসূল (সা.)-এর নিকট তীর বা বর্শার আঘাতে

আত্মহত্যা করেছে এমন এক ব্যক্তির লাশ আনা হয়। তিনি তার জানাযা পড়াননি।’

আবু দাউদ শরীফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়েও একটি হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন, ‘আমি এ ব্যক্তির জানাযা পড়াবোনা’।

তিরমিযী শরিফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়েও এই মর্মে একটি হাদিস সন্নিবেশিত হয়েছে। হাদিসটি নিম্নরূপ : ‘হযরত জাবের বিন সামুরা জানান, এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছিল, রসূল সা. তার জানাযা পড়াননি।’

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম তিরমিযী বলেন যে, আত্মহত্যাকারীদের জানাযা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে, প্রত্যেক মুসলমানের এমনকি আত্মহত্যাকারীরও জানাযা নামায জায়েয। ইমাম আহমদের মত হলো, নেতা ও শাসকের জানাযা পড়ানো ঠিক নয়। তবে অন্যদের পড়া উচিত।

সুনানে নাসায়ী থেকেও এই বক্তব্য সমর্থিত হয়। কেননা হাদিসে রসূল সা.-এর কেবল এতোটুকু কথা উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, ———— ‘তার জানাযা আমি তো পড়াবোনা।’ এর তাৎপর্য অন্য কথায় এই দাঁড়ায় যে, রসূল সা. শুধু নিজেই জানাযা নামায থেকে বিরত থেকেছেন, কিন্তু সাহাবায়ে কিরামকে পড়বার অনুমতি দিয়েছেন।

আত্মহননকারীর জানাযা পড়ার ব্যাপারটা ফিকাহ শাস্ত্রকারগণ ও হাদিসবেত্তাগণের মধ্যে বিতর্কিত এবং খোদ হানাফি ফিকাহবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ বয়েছে। এর মধ্যে কারো মতে, আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া জায়েয। তবে কেউ চাইলে নামাযে অংশগ্রহণ নাও করতে পারেন। আবার কারো মতে, জায়েয নেই।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমােদর সবাইকে হেফাজত করুন। আমীন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

সাবধান, যে শ্রেণির মুসলমানের জানাজা পড়েননি স্বয়ং রাসূল (সা.)

আপডেট টাইম : ১১:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০১৬

সাধারণত কোন মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তাকে গোসল করিয়ে জানাযা পড়ানো হয় এবং তার পর দাফন করা হয়। কিন্তু মুসলমান হওয়ার পরও এক শ্রেণির মানুষের জানাযা পড়েননি স্বয়ং রাসূল (সা.)। কপাল পোড়া সেই শ্রেণি কারা?

পবিত্র কুরআনে শুধুমাত্র মুশরিকদের জন্য ক্ষমা চাইতে নিষেধ করা হয়েছে, অথবা যে ব্যাক্তির মুনাফেকী সর্বজনবিদিত ছিলো এবং রসূল সা.-কে জানানোও হয়েছিল, সেরূপ ব্যক্তির জানাযা পড়া থেকে তাঁকে বিরত রাখা হয়েছিল।

রসূল (সা.) স্বয়ং আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়াননি। হাদিসে শুধু এতোটুকুই পাওয়া যায়। মুসলিম শরিফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়ের শেষের দিকে হযরত জাবির বিন সামুরা থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে : ‘রসূল (সা.)-এর নিকট তীর বা বর্শার আঘাতে

আত্মহত্যা করেছে এমন এক ব্যক্তির লাশ আনা হয়। তিনি তার জানাযা পড়াননি।’

আবু দাউদ শরীফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়েও একটি হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন, ‘আমি এ ব্যক্তির জানাযা পড়াবোনা’।

তিরমিযী শরিফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়েও এই মর্মে একটি হাদিস সন্নিবেশিত হয়েছে। হাদিসটি নিম্নরূপ : ‘হযরত জাবের বিন সামুরা জানান, এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছিল, রসূল সা. তার জানাযা পড়াননি।’

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম তিরমিযী বলেন যে, আত্মহত্যাকারীদের জানাযা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে, প্রত্যেক মুসলমানের এমনকি আত্মহত্যাকারীরও জানাযা নামায জায়েয। ইমাম আহমদের মত হলো, নেতা ও শাসকের জানাযা পড়ানো ঠিক নয়। তবে অন্যদের পড়া উচিত।

সুনানে নাসায়ী থেকেও এই বক্তব্য সমর্থিত হয়। কেননা হাদিসে রসূল সা.-এর কেবল এতোটুকু কথা উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, ———— ‘তার জানাযা আমি তো পড়াবোনা।’ এর তাৎপর্য অন্য কথায় এই দাঁড়ায় যে, রসূল সা. শুধু নিজেই জানাযা নামায থেকে বিরত থেকেছেন, কিন্তু সাহাবায়ে কিরামকে পড়বার অনুমতি দিয়েছেন।

আত্মহননকারীর জানাযা পড়ার ব্যাপারটা ফিকাহ শাস্ত্রকারগণ ও হাদিসবেত্তাগণের মধ্যে বিতর্কিত এবং খোদ হানাফি ফিকাহবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ বয়েছে। এর মধ্যে কারো মতে, আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া জায়েয। তবে কেউ চাইলে নামাযে অংশগ্রহণ নাও করতে পারেন। আবার কারো মতে, জায়েয নেই।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমােদর সবাইকে হেফাজত করুন। আমীন