ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস

সাবধান, যে শ্রেণির মুসলমানের জানাজা পড়েননি স্বয়ং রাসূল (সা.)

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০১৬
  • ৬৯৩ বার

সাধারণত কোন মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তাকে গোসল করিয়ে জানাযা পড়ানো হয় এবং তার পর দাফন করা হয়। কিন্তু মুসলমান হওয়ার পরও এক শ্রেণির মানুষের জানাযা পড়েননি স্বয়ং রাসূল (সা.)। কপাল পোড়া সেই শ্রেণি কারা?

পবিত্র কুরআনে শুধুমাত্র মুশরিকদের জন্য ক্ষমা চাইতে নিষেধ করা হয়েছে, অথবা যে ব্যাক্তির মুনাফেকী সর্বজনবিদিত ছিলো এবং রসূল সা.-কে জানানোও হয়েছিল, সেরূপ ব্যক্তির জানাযা পড়া থেকে তাঁকে বিরত রাখা হয়েছিল।

রসূল (সা.) স্বয়ং আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়াননি। হাদিসে শুধু এতোটুকুই পাওয়া যায়। মুসলিম শরিফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়ের শেষের দিকে হযরত জাবির বিন সামুরা থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে : ‘রসূল (সা.)-এর নিকট তীর বা বর্শার আঘাতে

আত্মহত্যা করেছে এমন এক ব্যক্তির লাশ আনা হয়। তিনি তার জানাযা পড়াননি।’

আবু দাউদ শরীফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়েও একটি হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন, ‘আমি এ ব্যক্তির জানাযা পড়াবোনা’।

তিরমিযী শরিফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়েও এই মর্মে একটি হাদিস সন্নিবেশিত হয়েছে। হাদিসটি নিম্নরূপ : ‘হযরত জাবের বিন সামুরা জানান, এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছিল, রসূল সা. তার জানাযা পড়াননি।’

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম তিরমিযী বলেন যে, আত্মহত্যাকারীদের জানাযা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে, প্রত্যেক মুসলমানের এমনকি আত্মহত্যাকারীরও জানাযা নামায জায়েয। ইমাম আহমদের মত হলো, নেতা ও শাসকের জানাযা পড়ানো ঠিক নয়। তবে অন্যদের পড়া উচিত।

সুনানে নাসায়ী থেকেও এই বক্তব্য সমর্থিত হয়। কেননা হাদিসে রসূল সা.-এর কেবল এতোটুকু কথা উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, ———— ‘তার জানাযা আমি তো পড়াবোনা।’ এর তাৎপর্য অন্য কথায় এই দাঁড়ায় যে, রসূল সা. শুধু নিজেই জানাযা নামায থেকে বিরত থেকেছেন, কিন্তু সাহাবায়ে কিরামকে পড়বার অনুমতি দিয়েছেন।

আত্মহননকারীর জানাযা পড়ার ব্যাপারটা ফিকাহ শাস্ত্রকারগণ ও হাদিসবেত্তাগণের মধ্যে বিতর্কিত এবং খোদ হানাফি ফিকাহবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ বয়েছে। এর মধ্যে কারো মতে, আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া জায়েয। তবে কেউ চাইলে নামাযে অংশগ্রহণ নাও করতে পারেন। আবার কারো মতে, জায়েয নেই।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমােদর সবাইকে হেফাজত করুন। আমীন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা

সাবধান, যে শ্রেণির মুসলমানের জানাজা পড়েননি স্বয়ং রাসূল (সা.)

আপডেট টাইম : ১১:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০১৬

সাধারণত কোন মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তাকে গোসল করিয়ে জানাযা পড়ানো হয় এবং তার পর দাফন করা হয়। কিন্তু মুসলমান হওয়ার পরও এক শ্রেণির মানুষের জানাযা পড়েননি স্বয়ং রাসূল (সা.)। কপাল পোড়া সেই শ্রেণি কারা?

পবিত্র কুরআনে শুধুমাত্র মুশরিকদের জন্য ক্ষমা চাইতে নিষেধ করা হয়েছে, অথবা যে ব্যাক্তির মুনাফেকী সর্বজনবিদিত ছিলো এবং রসূল সা.-কে জানানোও হয়েছিল, সেরূপ ব্যক্তির জানাযা পড়া থেকে তাঁকে বিরত রাখা হয়েছিল।

রসূল (সা.) স্বয়ং আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়াননি। হাদিসে শুধু এতোটুকুই পাওয়া যায়। মুসলিম শরিফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়ের শেষের দিকে হযরত জাবির বিন সামুরা থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে : ‘রসূল (সা.)-এর নিকট তীর বা বর্শার আঘাতে

আত্মহত্যা করেছে এমন এক ব্যক্তির লাশ আনা হয়। তিনি তার জানাযা পড়াননি।’

আবু দাউদ শরীফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়েও একটি হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেন, ‘আমি এ ব্যক্তির জানাযা পড়াবোনা’।

তিরমিযী শরিফের জানাযা সংক্রান্ত অধ্যায়েও এই মর্মে একটি হাদিস সন্নিবেশিত হয়েছে। হাদিসটি নিম্নরূপ : ‘হযরত জাবের বিন সামুরা জানান, এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছিল, রসূল সা. তার জানাযা পড়াননি।’

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম তিরমিযী বলেন যে, আত্মহত্যাকারীদের জানাযা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে, প্রত্যেক মুসলমানের এমনকি আত্মহত্যাকারীরও জানাযা নামায জায়েয। ইমাম আহমদের মত হলো, নেতা ও শাসকের জানাযা পড়ানো ঠিক নয়। তবে অন্যদের পড়া উচিত।

সুনানে নাসায়ী থেকেও এই বক্তব্য সমর্থিত হয়। কেননা হাদিসে রসূল সা.-এর কেবল এতোটুকু কথা উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, ———— ‘তার জানাযা আমি তো পড়াবোনা।’ এর তাৎপর্য অন্য কথায় এই দাঁড়ায় যে, রসূল সা. শুধু নিজেই জানাযা নামায থেকে বিরত থেকেছেন, কিন্তু সাহাবায়ে কিরামকে পড়বার অনুমতি দিয়েছেন।

আত্মহননকারীর জানাযা পড়ার ব্যাপারটা ফিকাহ শাস্ত্রকারগণ ও হাদিসবেত্তাগণের মধ্যে বিতর্কিত এবং খোদ হানাফি ফিকাহবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ বয়েছে। এর মধ্যে কারো মতে, আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া জায়েয। তবে কেউ চাইলে নামাযে অংশগ্রহণ নাও করতে পারেন। আবার কারো মতে, জায়েয নেই।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমােদর সবাইকে হেফাজত করুন। আমীন