,

IMG_20210717_194203

কোরবানি ঈদে করোনার ঝুঁকি এড়াতে তৎপর মিঠামইন থানা পুলিশ

রফিকুল ইসলামঃ কিশোরগঞ্জের মিঠামইন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির রব্বানীর নেতৃত্বে একটি চৌকস  পুলিশি দল ক্যাচমেন্ট এলাকার বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে চলমান করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায়ের দিকগুলো বর্ণনা করে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্ক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যাতে বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ হাওরপাড়ের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে না পড়ে।

ক’দিন পরেই আসছে কোরবানির ঈদ। ঈদ উদযাপনের জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহর থেকে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে।

এতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া ও সারাদেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনসচেতনতা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর পক্ষে ঢাকা রেঞ্জ মসজিদভিত্তিক প্রচারণা চালাচ্ছে। এবারও কোরবানির পশু বেচা-কেনা থেকে শুরু করে ঈদ পালিত হবে গতবারের মতো ভিন্নভাবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

এর অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন থানা পুলিশ কর্মকর্তারা ক্যাচমেন্ট এলাকার বিভিন্ন মসজিদে জুম্মার নামাজে খুৎবার আগে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সেই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যই দিয়ে চলেছেন।

গতকাল গেল শুক্রবার (১৬ জুলাই) জুম্মার দিন। এদিন ‘স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলুন, নিজে সুস্থ থাকুন ও অপরকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করুন’ — এমনি প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে নিয়ে ওসি মো. জাকির রব্বানীর নেতৃত্বে ৯ জন চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা ৯টি জামে মসজিদে গিয়ে মানুষকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনাগুলির ওপর খোলাখুলি বক্তব্য দিয়ে উদ্ভুদ্ধ করছেন।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাশরুকুর রহমান খালেদের দিকনির্দেশনায় আদিষ্ট হয়ে ওসি মো. জাকির রব্বানী একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে মসজিদভিত্তিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ওসি মো. জাকির রব্বানী ঢাকী ইউনিয়নেের মামুদপুর উত্তরহাটি জামে মসজিদে, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম মিঠামইন সদর ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া জামে মসজিদে, কাটখাল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি তাজউদ্দিন আহম্মেদ কাটখাল ইউনিয়নের কাটখাল বাজার জামে মসজিদে, এসআই উপপরিদর্শক (এসআই) এবিএম রুহুল কাইয়ুম ঢাকী  ইউনিয়নের শান্তিপুর পশ্চিমহাটি জামে মসজিদে, এসআই মো. নূরুল হুদা গোপদিঘী ইউনিয়নের কাচারি জামে মসজিদে, এসআই মো. আব্দুর রহমান মিঠামইন সদর ইউনিয়নের কাজীপাড়া জামে মসজিদে, এসআই মো. লুৎফর রহমান ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া বাজার জামে মসজিদে, এসআই মো. মাসুদ মিয়া কাটখাল ইউনিয়নের কাটখাল বাজার দক্ষিণ জামে মসজিদে ও এসআই শেখ জিয়াউল রাব্বি কাটখাল ইউনিয়নের নতুন বাজার জামে মসজিদে উপস্থিত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে জনসচেতনতামূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে বলেছেন কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য নিজে ও তাদের পরিবার-পরিজন এবং সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের কৌশলী হতে হবে এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের দেয়া ১১টি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধগুলো কার্যকরভাবে পালন করতে হবে, যা ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতার বিকল্প নেই।

ওসি মো. জাকির রব্বানী বলেন, মহামারি করোনাভাইরাস এসে মানবজীবনকেই এক কঠিন অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে, পাল্টে দিয়েছে স্বাভাবিক গতিধারাকে।

ঈদের উৎসব আনন্দ ভাগাভাগি করেতে ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষের স্রোত দেখা যাচ্ছে পথে-ঘাটে ও বিভিন্ন যানবাহনে উল্লেখ করে তিনি বলছেন, যারা বাড়িতে আসছেন, করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সবসময় মাস্ক পড়া এবং সঙ্গে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিও। স্বাস্থ্যবিধি মানায় অবহেলা হলে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে হাওরজুড়ে।

ওসি জাকির রব্বানী তাই বলেন, নিজে সচেতন হলেই শুধু যে পরিবার সুরক্ষিত থাকবে তা কেবল নয়, হাওর তথা গোটা দেশই থাকবে ঝুঁকিমুক্ত।

স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসলে পরিস্থিতি আরো ভয়ানক হতে পারে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাই এ দুঃসময়ে জাঁকজমক করে ঈদ পালন করার কোনো সুযোগ নেই।

আরো সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদের মধ্যে ধর্মীয় উৎসবের অংশ হিসেবে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে যাওয়া, খাওয়া-দাওয়া করা — এসব এবারও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নিজে ঘরে পরিবারপরিজন নিয়েই আনন্দকে সীমাবদ্ধ রাখতে এবং দাওয়াত দেয়া ও নেয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।

তিনি বললেন, ঈদ উৎসবের আরেকটি প্রথা কোলাকুলি করা, হ্যান্ডশেক করা, পায়ে ধরে সালম করা, এগুলো এবারও বাদ দিতে হবে। কারণ, এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

ওসি মো. জাকির রব্বানী জীবন বাঁচানোই সবচাইতে জরুরি উল্লেখ করে বলেন, সচেতন থাকা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। আমি ভালো থাকলে আমার পরিবার ভালো থাকবে। তাই, ঈদের পরে রূপের হাওর পরিভ্রমণে পরিবার নিয়ে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে পছন্দ করি, উপভোগ করতে পছন্দ করি প্রেসিডেন্ট রিসোর্টসহ  বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে যেতে। এবারও এগুলো পরিহার করতে হবে।

শেষে তিনি জানান, এবাবের কোরবানির ঈদেও কোথাও খোলা ময়দানে ঈদের নামাজ যেন অনুষ্ঠিত না হয়। মসজিদের ভেতরে ঈদের নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রেও মেনে চলতে হবে কিছু বিধিনিষেধ। করোনা মহামারির শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশে মসজিদে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে যেসব নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছিল — বাসা থেকে ওজু করে আসা, এক সারি পরপর নামাজে দাঁড়ানো, মসজিদের প্রবেশ পথে স্যানিটাইজার বা সাবান-পানি রাখা। তাছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু জবাই করারও আহ্বান জানান ওসি মো. জাকির রব্বানী।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, কোরবানি ঈদে ঘরমুখো মানুষ যদি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানে তবে করোনার ব্যাপকতা ছড়িয়ে পড়তে পারে সারাদেশে। সরকার এ বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ইতোমধ্যে নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ঢাকা রেঞ্জ সরকারের নির্দেশে করোনার বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক না হয়ে আমাদের ধৈর্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে যার যার অবস্থান থেকে ঈদ পালনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঘরে থাকাটাই সর্বোচ্চ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সহযোগী সম্পাদক, আজকের সূর্যোদয়, ঢাকা।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর