ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

১১ ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি পৌনে ১৬ কোটি টাকা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১
  • ২৪০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ব্যাংকখাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা মোট বিতরণের ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। এর আগে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এবার খেলাপির সঙ্গে প্রভিশন ঘাটতিও বেড়েছে। মার্চ শেষে খেলাপিসহ ঋণমানের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারেনি ১১টি ব্যাংক।

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের চারটিই প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ মোট ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের প্রভিশন ১ হাজার ৩৫৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকের ৩ হাজার ৫৬৫ কোটি ৬৬ লাখ, জনতা ব্যাংকের ৫ হাজার ২৫৫ কোটি ১৭ লাখ ও রূপালী ব্যাংকের ৭৮৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এই চার ব্যাংকের মোট প্রভিশন ঘাটতি মোট ১০ হাজার ৫৬১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

 রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের চারটিই প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ মোট ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা 

অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ছয় ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৪৫৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ২৪৬ কোটি ২৩ লাখ, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১৯৫ কোটি ৪৯ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩৮৮ কোটি ১২ লাখ, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের ৭৩ কোটি এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১৫৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ছয় ব্যাংকের মোট ঘাটতি চার হাজার ৯৭৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

অন্যদিকে বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ১৬৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ নিয়ে মোট ১১ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে মোট ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি ৯ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যাংকখাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৮ কোটি। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। কিন্তু তিন মাস আগেও খেলাপি ঋণের হার ছিল ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

 ব্যাংকগুলোকে আবারও কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। ব্যাংকগুলোতে খেলাপি কমাতে হলে অবশ্যই গ্রাহককে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। সেটি হলো- নতুন ঋণ পেতে আগের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এটা করা না হলে খেলাপি কমানো যাবে 

সরকারি ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে দুই লাখ সাত হাজার ৭৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৪৩ হাজার ৪৫০ টাকা। বেসরকারি ব্যাংক আট লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৫ হাজার ৯০ কোটি টাকা।

বিশেষায়িত ব্যাংক ৩০ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বিতরণ করেছে, এর মধ্যে খেলাপি চার হাজার ৮৬ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংক ৫৯ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। তাদের খেলাপি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি আছে, সেসব ব্যাংক চলতি বছরের জুন প্রান্তিকে ঘাটতি পূরণ করতে পারবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে পরিবহন বন্ধ ছিল, ব্যবসায়ীদের ভালো ব্যবসা হয়নি। আবার প্যাকেজ আসতে পারে বা বাজেট বাস্তবায়ন ইত্যাদি।’

খেলাপি নিয়ে ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এবার খেলাপি বেড়েছে। এখন ব্যাংকগুলোকে আবার কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। ব্যাংকগুলোতে খেলাপি কমাতে হলে অবশ্যই গ্রাহককে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। সেটি হলো- নতুন ঋণ পেতে আগের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এটা করা না হলে খেলাপি কমানো যাবে না।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

১১ ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি পৌনে ১৬ কোটি টাকা

আপডেট টাইম : ০৭:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ব্যাংকখাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা মোট বিতরণের ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। এর আগে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এবার খেলাপির সঙ্গে প্রভিশন ঘাটতিও বেড়েছে। মার্চ শেষে খেলাপিসহ ঋণমানের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারেনি ১১টি ব্যাংক।

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের চারটিই প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ মোট ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের প্রভিশন ১ হাজার ৩৫৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকের ৩ হাজার ৫৬৫ কোটি ৬৬ লাখ, জনতা ব্যাংকের ৫ হাজার ২৫৫ কোটি ১৭ লাখ ও রূপালী ব্যাংকের ৭৮৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এই চার ব্যাংকের মোট প্রভিশন ঘাটতি মোট ১০ হাজার ৫৬১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

 রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের চারটিই প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ মোট ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা 

অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ছয় ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৪৫৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ২৪৬ কোটি ২৩ লাখ, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১৯৫ কোটি ৪৯ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩৮৮ কোটি ১২ লাখ, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের ৭৩ কোটি এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১৫৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ছয় ব্যাংকের মোট ঘাটতি চার হাজার ৯৭৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

অন্যদিকে বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ১৬৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ নিয়ে মোট ১১ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে মোট ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি ৯ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যাংকখাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৮ কোটি। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। কিন্তু তিন মাস আগেও খেলাপি ঋণের হার ছিল ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

 ব্যাংকগুলোকে আবারও কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। ব্যাংকগুলোতে খেলাপি কমাতে হলে অবশ্যই গ্রাহককে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। সেটি হলো- নতুন ঋণ পেতে আগের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এটা করা না হলে খেলাপি কমানো যাবে 

সরকারি ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে দুই লাখ সাত হাজার ৭৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৪৩ হাজার ৪৫০ টাকা। বেসরকারি ব্যাংক আট লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৫ হাজার ৯০ কোটি টাকা।

বিশেষায়িত ব্যাংক ৩০ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বিতরণ করেছে, এর মধ্যে খেলাপি চার হাজার ৮৬ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংক ৫৯ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। তাদের খেলাপি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি আছে, সেসব ব্যাংক চলতি বছরের জুন প্রান্তিকে ঘাটতি পূরণ করতে পারবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে পরিবহন বন্ধ ছিল, ব্যবসায়ীদের ভালো ব্যবসা হয়নি। আবার প্যাকেজ আসতে পারে বা বাজেট বাস্তবায়ন ইত্যাদি।’

খেলাপি নিয়ে ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এবার খেলাপি বেড়েছে। এখন ব্যাংকগুলোকে আবার কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। ব্যাংকগুলোতে খেলাপি কমাতে হলে অবশ্যই গ্রাহককে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। সেটি হলো- নতুন ঋণ পেতে আগের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এটা করা না হলে খেলাপি কমানো যাবে না।’