ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী ওএসডি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তিন যুগ পর ভোটগ্রহণ অধিবেশন ডাকা হবে না: চিফ হুইপ ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রদল সভাপতি বললেন ‘গুজব’ ঢাকায় ‘র’ প্রধানের রহস্যজনক সফর আদালতে আসেননি পরীমনি, মাদক মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার, আচরণবিধি চূড়ান্ত করল ইসি

১১ ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি পৌনে ১৬ কোটি টাকা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১
  • ২৪৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ব্যাংকখাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা মোট বিতরণের ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। এর আগে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এবার খেলাপির সঙ্গে প্রভিশন ঘাটতিও বেড়েছে। মার্চ শেষে খেলাপিসহ ঋণমানের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারেনি ১১টি ব্যাংক।

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের চারটিই প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ মোট ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের প্রভিশন ১ হাজার ৩৫৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকের ৩ হাজার ৫৬৫ কোটি ৬৬ লাখ, জনতা ব্যাংকের ৫ হাজার ২৫৫ কোটি ১৭ লাখ ও রূপালী ব্যাংকের ৭৮৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এই চার ব্যাংকের মোট প্রভিশন ঘাটতি মোট ১০ হাজার ৫৬১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

 রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের চারটিই প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ মোট ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা 

অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ছয় ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৪৫৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ২৪৬ কোটি ২৩ লাখ, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১৯৫ কোটি ৪৯ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩৮৮ কোটি ১২ লাখ, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের ৭৩ কোটি এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১৫৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ছয় ব্যাংকের মোট ঘাটতি চার হাজার ৯৭৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

অন্যদিকে বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ১৬৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ নিয়ে মোট ১১ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে মোট ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি ৯ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যাংকখাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৮ কোটি। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। কিন্তু তিন মাস আগেও খেলাপি ঋণের হার ছিল ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

 ব্যাংকগুলোকে আবারও কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। ব্যাংকগুলোতে খেলাপি কমাতে হলে অবশ্যই গ্রাহককে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। সেটি হলো- নতুন ঋণ পেতে আগের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এটা করা না হলে খেলাপি কমানো যাবে 

সরকারি ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে দুই লাখ সাত হাজার ৭৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৪৩ হাজার ৪৫০ টাকা। বেসরকারি ব্যাংক আট লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৫ হাজার ৯০ কোটি টাকা।

বিশেষায়িত ব্যাংক ৩০ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বিতরণ করেছে, এর মধ্যে খেলাপি চার হাজার ৮৬ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংক ৫৯ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। তাদের খেলাপি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি আছে, সেসব ব্যাংক চলতি বছরের জুন প্রান্তিকে ঘাটতি পূরণ করতে পারবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে পরিবহন বন্ধ ছিল, ব্যবসায়ীদের ভালো ব্যবসা হয়নি। আবার প্যাকেজ আসতে পারে বা বাজেট বাস্তবায়ন ইত্যাদি।’

খেলাপি নিয়ে ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এবার খেলাপি বেড়েছে। এখন ব্যাংকগুলোকে আবার কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। ব্যাংকগুলোতে খেলাপি কমাতে হলে অবশ্যই গ্রাহককে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। সেটি হলো- নতুন ঋণ পেতে আগের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এটা করা না হলে খেলাপি কমানো যাবে না।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের

১১ ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি পৌনে ১৬ কোটি টাকা

আপডেট টাইম : ০৭:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ব্যাংকখাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা মোট বিতরণের ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। এর আগে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এবার খেলাপির সঙ্গে প্রভিশন ঘাটতিও বেড়েছে। মার্চ শেষে খেলাপিসহ ঋণমানের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারেনি ১১টি ব্যাংক।

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের চারটিই প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ মোট ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের প্রভিশন ১ হাজার ৩৫৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকের ৩ হাজার ৫৬৫ কোটি ৬৬ লাখ, জনতা ব্যাংকের ৫ হাজার ২৫৫ কোটি ১৭ লাখ ও রূপালী ব্যাংকের ৭৮৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এই চার ব্যাংকের মোট প্রভিশন ঘাটতি মোট ১০ হাজার ৫৬১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

 রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের চারটিই প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ মোট ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা 

অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ছয় ব্যাংকে প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৪৫৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ২৪৬ কোটি ২৩ লাখ, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১৯৫ কোটি ৪৯ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩৮৮ কোটি ১২ লাখ, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের ৭৩ কোটি এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১৫৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ছয় ব্যাংকের মোট ঘাটতি চার হাজার ৯৭৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

অন্যদিকে বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ১৬৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ নিয়ে মোট ১১ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে মোট ১৫ হাজার ৭০৫ কোটি ৯ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যাংকখাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৮ কোটি। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। কিন্তু তিন মাস আগেও খেলাপি ঋণের হার ছিল ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

 ব্যাংকগুলোকে আবারও কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। ব্যাংকগুলোতে খেলাপি কমাতে হলে অবশ্যই গ্রাহককে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। সেটি হলো- নতুন ঋণ পেতে আগের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এটা করা না হলে খেলাপি কমানো যাবে 

সরকারি ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে দুই লাখ সাত হাজার ৭৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৪৩ হাজার ৪৫০ টাকা। বেসরকারি ব্যাংক আট লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৫ হাজার ৯০ কোটি টাকা।

বিশেষায়িত ব্যাংক ৩০ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বিতরণ করেছে, এর মধ্যে খেলাপি চার হাজার ৮৬ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংক ৫৯ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। তাদের খেলাপি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি আছে, সেসব ব্যাংক চলতি বছরের জুন প্রান্তিকে ঘাটতি পূরণ করতে পারবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে পরিবহন বন্ধ ছিল, ব্যবসায়ীদের ভালো ব্যবসা হয়নি। আবার প্যাকেজ আসতে পারে বা বাজেট বাস্তবায়ন ইত্যাদি।’

খেলাপি নিয়ে ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এবার খেলাপি বেড়েছে। এখন ব্যাংকগুলোকে আবার কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে। ব্যাংকগুলোতে খেলাপি কমাতে হলে অবশ্যই গ্রাহককে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। সেটি হলো- নতুন ঋণ পেতে আগের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এটা করা না হলে খেলাপি কমানো যাবে না।’