,

Untitled-1

প্রিয় নেতাকে নিয়ে কিছু কথা রাজনীতিকদের রাজনীতি করার সুযোগ দিন

এম লাদেনঃ গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেখলাম রাজনীতির মাঠে নেমেছেন দেশের বেশকিছু প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা।  জনপ্রিয় সাধারণ শিক্ষকরাও ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছিলেন অন্তত ১৮ জন শিক্ষক নেতা। তাদের মধ্যে আমি একজন নেতাকে অনেক বছর যাবত চিনি ও জানি। তিনি আমার শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ আসাদুল হক। তাঁহার জন্ম ১৯৫৩ সালের ১ জুলাই করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মুড়িকান্দি গ্রামে। তাঁর পিতা মরহুম আব্দুল করিম ফকির ও মাতা মরহুমা জয়তুন বানু।
শিক্ষা জীবনের প্রতিটি স্তরে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। এমএসসি পাশ করার পর পরই মহান পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে বেছে নেন। শিক্ষাকতা করতে গিয়ে ভালো শিক্ষক হিসাবে শিক্ষার্থীদের মনে যেভাবে আদর্শের প্রতিক হয়ে তাদের মন জয় করেছেন। তেমনি এই সদালাপী ও গুণী মানুষটি বিগত প্রায় চার দশক যাবৎ শিক্ষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি বাকশিসের সভাপতির পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষক-কর্মচারী ফ্রন্টের আহবায়ক।  রাজধানীর তেজগাঁও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে অবসর নেয়ার পর পরই রাজনৈতিক কর্মকানদের সাথে দিন রাত নিরলস ভাবে সময় দিয়ে আসছেন। এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের’ সদস্য সচিব হিসেবেও দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের প্রাণের সংগঠন বাকশিস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর।
কলেজ শিক্ষকদের এই সংগঠনটি কালের বিবর্তনে ইতিহাসের নানা বাঁক পেরিয়ে তার অবস্থানকে শুধু শক্তিশালি করেনি, গতানুগতিকতার  ছাড়িয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সুপ্রতিষ্ঠিত। দেশে বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে এই সংগঠনটির বলিষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে। আজ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেলসহ যা কিছু অর্জন হয়েছে। তার মূল নেতৃত্বে অবদান স্বীকার করতে হলে আসাদুল হকের আবদান অন্যতম। আমি একদিন গল্পের চলে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনার কোন ছেলে নাই, দুইটি মেয়ে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন, চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছেন, এখন স্বামী স্ত্রী দুজনে ঘরে বসে বসে বাকী জীবনে আল্লাহকে ডাকুন।
তিনি হাসতে হাসতে বললেন চার দশক আন্দোলন সংগ্রাম করেছি শিক্ষক ও ছাত্রদের জন্য। বাকি জীবনটুকু আমি আন্দোলন করতে চাই গরীব ও মেহনতি মানুষের জন্য। মহা কবি ইকবাল বলেছিলেন এসো আমরা মোমের মত জলি নিজেকে জালাই,  অন্যকে আলো দিয়ে আলোকিত করি। এবাদত বন্ধিগীতো করছি-ভবিষ্যতেও করবো। অলস সময় না কাটিয়ে মানুষের কল্যাণে সময় কাটালাম পাশাপাশি পর কালের জন্য কিছু উপার্জন করলাম এটা ভালো না। আমি ভাল কাজ করলে ভাল ফলাফল তো আশা করতেই পারি । আপনারা সাংবাদিক, মাপ করবেন-উপার্জন বলতে বালিশবর্তী টাকা আর সিন্ধুকবর্তী গয়না বুঝবেন না। মানুষের আশীর্বাদই আর ভালবাসাই আমার উপার্জন। কারণ রাজনীতিকে আমি মনে করি গণ-মানুষের স্বপ্ন পূরণের মাধ্যম।
গণ-মানুষের এই স্বপ্ন পূরণ আর তাদের সামগ্রিক উন্নয়নের আকাঙ্খা থেকেই রাজনীতিতে আমার পদযাত্রা। আমি ছাত্র জীবনে থেকেই রাজনৈতিতে যুক্ত-১৯৬৮ সালে ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেই। ১৯৭১ সালের মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয় । যুদ্ধ শেষে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে ঘরে ফিরি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন উপলক্ষে গঠিত কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের পক্ষে ছাত্রলীগ নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য আমাকে ডেপুটি লিডার মনোনীত করেন।
পূর্বের রাজনৈতিক চর্চা ও বর্তমান অবস্থান থেকেই গণ মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। ছাত্রজীবন থেকেই সাধারণ মানুষের সুখে-দু:খে, বিপদে-আপদে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছি। মোট কথায় বলা যায় বিগত ৪০টি বছর বিরামহীন ভাবে মানুষের মঙ্গলে কাজ করে যাচ্ছেন এই মানুষ গড়ার কারিগর ব্যক্তিটি। বিশেষ করে নিজ এলাকা করিমগঞ্জ ও তাড়াইলের মানুষের প্রতি তাঁর রয়েছে এক অন্যরকম দায় বোধ। যখনই সুযোগ পেয়েছেন নিজ অবস্থান থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করেছেন। এলাকাবাসীর অভাব-অভিযোগ, সমস্যা-সংকট উত্তরণে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এই মানুষটি।
এসবের মাধ্যমে তিনিও জায়গা করে নিয়েছেন এলাকার মানুষের হৃদয়ে। জনগণের কল্যাণে নিবেদিত এই মানুষটিই অধ্যক্ষ আসাদুল হক। করিমগঞ্জ উপজেলার এই কৃতী সন্তান এলাকার ছোট-বড়, যুবক-যুবতী, নারী-পুরুষ, ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব মহলের প্রিয় মানুষ; তাদের প্রাণের মানুষ। আগামী নির্বাচনে তাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছেন কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের সাধারণ মানুষ। স্বভাবতই মানুষের সেই আকাঙ্খা পূরণে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন ৭১ -এর রণাঙ্গনের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই সৈনিক বর্তমানে সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র ও বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর সংগঠন এর। মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু গবেষণা ইন্সটিটিউট এর বোর্ড অব গভর্নরস এর সদস্য তিনি। এর বাইরেও তিনি নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। করিমগঞ্জ ও তাড়াইল নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী আসন থেকে ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বিতা করেন।
১৯৮৮ নির্বাচনের একদিন আগে সামরিক জান্তা এরশাদের নির্দেশে আসাদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ ও শিক্ষক সংগঠনের ব্যানারে জোট সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দেন আসাদুল হক। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে নিবেদিত থেকেছেন তিনি। এলাকায় নারী শিক্ষার প্রসার ও ধর্মীয় ধারায় আধুনিক শিক্ষার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দেওপুর আসাদুল হক বালিকা দাখিল মাদরাসা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী অবসর
সুবিধা বোর্ড এর সদস্য সচিব থাকাকালে এলাকার শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি অনন্য ভূমিকা রাখেন।
 বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করেছি বড় বড় দলগুলোও পাচ্ছেন না ভাল রাজনৈতিক বিদ যার ফলে দলে টানছে অভিনেতা, অভিনেত্রী, নাট্যকর্মী ব্যবসায়ীকে রাজনীতিতে। ফলে দেখা যাচ্ছে, একটা ব্যক্তি যে কাজে পারদর্শী তার কাজ কিংবা পেশা তাকে না দিয়ে উল্টা কাজ দিয়ে রাজনীতিও ধংস এবং যে সেক্টর থেকে আসছে-আমাদের সেই সেক্টরটিও ধংস। যার ফলে পাপিয়া শামীম গংদের উৎপত্তি। আমি মনে করি বড় বড় দল গুলোর কিংবা সরকার প্রধানের জানা উচিত। যতক্ষণ পর্যন্ত একটি দেশে অ-সুস্থ রাজনৈতিক বিদকে বর্জন না করবে এবং সুস্থ রাজনৈতিক-বিদ কিংবা একজন নিঃস্বার্থ নেতা তার স্ব-স্ব এলাকায় প্রথমে নির্ধারণ পরে নির্বাচন করতে না পারবে।
ততক্ষণ পর্যস্ত ঐ দেশটির উন্নতি করা কিংবা রাজনৈতিক দলের সুনাম অর্জন করা কোন ভাবেই সম্ভব না। কারণ মানুষ অসুস্থ হলে সুস্থতার জন্য ওষুধ খায়। আর সুযোগ সন্ধানী রাজনীতিকরা জনগণের হক মেরে খায়, জনগণের অর্থ লুট করে, এটাই তাদের নেশা। মাদকের জন্য সরকার আইন করে সর্বউচ্চ সাজা মৃত্যু দন্ড। মাদক সেবীরা তো মাদক সেবন করছে নিজের টাকায়, বাপের টাকায়, জনগণের টাকায় নয়। কিন্তু সুযোগ সন্ধানী রাজনীতিকরা জনগনের সম্পদ লুটে নিতে নেশাগ্রস্থ। মাদক সেবীদের চেয়ে তারা ভয়াবহ অপরাধী।
কেননা তারা খাচ্ছে গরীবের হক লুটে-পুটে। তাদেরকে মৃত্যুদন্ড না দিয়ে তাদের জবাব দিহীতা দুদক পর্যন্ত। প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২/৩ বছর জেল কিংবা ২/৪ কোটি টাকা জরিমানা। এইটুকু সাজা কি তাদের জন্য যথেষ্ঠ? তবে সংখ্যায় কম হলেও কিছু নিবেদিত প্রাণ রাজনীতিক আছেন বলেই আমরা সমাজে এখন ও বসবাস করছি। কিংবা নিন্ম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উঠে আসতে পারছি। একজন ভাল রাজনীতিক নিঃস্বার্থ নেতা কখনও অন্যের হক লুটে পুটে খাতে পারেন না। কারণ তারা লোভি নয়-তারা ত্যাগী।
তারা পরের অর্থ গ্রহীতা নয়-তারা দাতা। তারা বর্বর নয়-তারা সভ্য। তারা নিষ্ঠুর নয়-তারা দয়ালু। তারা জেদি নয়-তারা অভিমানী। তারা দলের পাল্লা কোনটি আর বিরোধী দলের পাল্লা কোনটি চিনেন না। সমগ্র দল সমগ্র জনগণের নিকট তারা দায়বদ্ধ। তারা নিজেকে এই জগৎ এর গোলাম ভাবে-তারা পরজগতের বীর কিংবা বাদশাহ। তারা জনগণের নিকট যেমন প্রিয়, তেমনি আল্লাহর নিকটও প্রিয় বান্দা। রাষ্ট্র নায়ক নিপোলিয়ান বলেছেন-“তোমরা আমাকে একজন সুস্থ মা দাও, আমি তোমাদের একটি সুস্থ জাতি উপহার দেব।” ঠিক তেমনি সুস্থ রাজনীতিক, নিঃস্বার্থ অভিমানী বীরদেরকে আমরা যদি খুঁজে বের করে রাজনীতির আসনে বসাতে পারি- তাহলেই আমরা সুস্থ সমাজ কিংবা সভ্য জাতিতে রূপান্তরিত হতে পারবো।
অধ্যক্ষ আসাদুল হক এরমত মানুষ গড়ার কারিগরাই পারে সুস্থ রাজনীতি বিদদের ভূমিকা পালন করতে। একজন আদর্শ শিক্ষক কখনও লুটপাটের রাজনীতি করতে পারেন না, পারবেও না। ৪০ বছর তারা বহু পরিক্ষা দিয়েছেন দেশকে, সমাজকে, জাতিকে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে কাজ করে আসছেন। দলের দুর্দিনে পাশে থেকে তাদের আগলে রেখেছেন। তাই তিনি আওয়ামী লীগের কান্ডারি ও তৃণমূল নেতা হিসেবে এলাকায় খ্যাতি অর্জন করেছেন। এলাকাবাসী বলছেন, অধ্যক্ষ আসাদুল হক এর মতো একজন সৎ এবং কর্মী বান্ধব নেতা পেয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। এলাকায় অধ্যক্ষ আসাদুল হক এর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
এসব কারণে অধ্যক্ষ আসাদুল হক দলীয় মনোনয়ন লাভে এই আসনে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তাকে দেশ পরিচালনায় যোগ করে অ-সুস্থ রাজনৈতিকদিদের রাজনীতি থেকে দল থেকে দ্রুত বেড় করে দিলে দল কিংবা জাতি উপকৃত হতে হবে আমার দৃঢ় বিশ^াস। সব মিলিয়ে অধ্যক্ষ আসাদুল হক এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেলে দীর্ঘদিন জোটের নামে জাতীয় পার্টির কব্জায় থাকা আসনটি আওয়ামী লীগ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসী আরও মনে করেন মানুষ গড়ার কারিগররাই পারে সুস্থ ধারার রাজনীতি উপহার দিতে। তাদেরকে রাজনীতিতে স্থান দিয়ে অতিদ্রুত, সুযোগ সন্ধানীদের বিতাড়িত করুন, এটাই গণমানুষের দাবি।
Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর