ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী ওএসডি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তিন যুগ পর ভোটগ্রহণ অধিবেশন ডাকা হবে না: চিফ হুইপ ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রদল সভাপতি বললেন ‘গুজব’ ঢাকায় ‘র’ প্রধানের রহস্যজনক সফর আদালতে আসেননি পরীমনি, মাদক মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার, আচরণবিধি চূড়ান্ত করল ইসি

ভারতে যাতায়াত বন্ধ, মে মাসের আগে টিকা আসছে না

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১
  • ২৭৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ স্থলপথে ভারত থেকে দুই সপ্তাহের জন্য যাত্রী আসা বন্ধ করছে বাংলাদেশ ৷ দেশটিতে করোনা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিত রোববার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ৷

সোমবার থেকে ১৪ দিনের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত যাত্রী যাতায়াতের জন্য বন্ধ থাকবে৷ মন্ত্রীসভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে রোববার বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে খবর বের হয় ৷

অবশ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ৷ তিনি বলেন, ‘‘ভারতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আমাদের নাগরিকদের রক্ষায় সেখান থেকে আপাতত লোক আসা বন্ধ করছি আমরা৷ এটা দুই সপ্তাহের জন্য ৷’’ তবে যাত্রীদের যাতায়াত বন্ধ হলেও পণ্যবাহী যান চলাচল এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে বলে জানান মন্ত্রী ৷

লকডাউনের কারণে আগেই আকাশপথে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যান চলাচল বন্ধ করা হয়৷ পরবর্তীতে প্রবাসীদের ফেরত পাঠাতে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের আটটি গন্তব্যে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় ৷ সেক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে এখন আকাশ ও স্থলপথ দুই ধরনের যাতায়াতের সুযোগই বন্ধ হচ্ছে ৷

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে করোনা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে ৷ প্রায় প্রতিদিনই রোগী শনাক্তের রেকর্ড হচ্ছে৷ একাধিকবার রূপ বদলানো করোনার নতুন ধরন শনাক্ত হয়েছে দেশটিতে৷ সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে একে অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা ৷ এরিমধ্যে দেশটির সঙ্গে যাতায়াত বন্ধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য, ক্যানাডা, ফ্রান্স, ইটালিসহ বিভিন্ন দেশ৷ যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে৷ এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশও যাতায়াত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল ৷

টিকার জন্য অপেক্ষা

বাংলাদেশে করোনার টিকার প্রথম ডোজ দেয়া আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ ৷ ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট এর কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী পাওয়া আস্ট্রাজেনেকার যে টিকা এখত মজুত আছে তাতে এক সপ্তাহর বেশি চলবে না৷ রপ্তানি বন্ধ করায় খুব শিগগিরই নতুন করেও টিকা আসছে না ৷

অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রোববার জানিয়েছেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ ২১ লাখ ডোজ টিকা পাবে ৷ এরমধ্যে ভারতের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরামের কাছ থেকে বাংলাদেশের বেক্সিমকো আস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ টিকা আনবে৷ আর বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্স থেকে ফাইজারের এক লাখ টিকা পওয়ার কথা রয়েছে ৷

সংকট তৈরি হওয়ায় সম্প্রতি এর বাইরেও নানা সূত্র থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ৷ এরমধ্যে রাশিয়ার সাথে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশেই তাদের উদ্ভাবিত টিকা উৎপাদনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সরকার ৷ তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছে সরকার, যার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে৷ করোনা সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘টিকা কূটনীতিতে বাংলাদেশ শুরু থেকেই ভুল পথে হেঁটেছে ৷ আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে এখন আমাদের এখানেই করোনার টিকা উৎপাদিত হতো৷ চীন শুরুতেই সেই প্রস্তাব দিয়েছিলো ৷ আর ভারত থেকে অক্সফোর্ডের টিকা আসা বন্ধ হওয়ার পর নতুন যে উদ্যোগগুলো নেয়া হচ্ছে তা এখনো কথার মধ্যেই আছে৷ ফলপ্রসূ কিছু নয়৷’’

সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে বাংলাদেশ বেক্সিমকোর মাধ্যমে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করে৷ চুক্তি অনুযায়ী প্রথম চালানের ৫০ লাখ টিকা আসে গত জানুয়ারি মাসে ৷ ফেব্রুয়ারি মাসে আসে ২০ লাখ ৷ এরপর সেরাম আর কোনো টিকা পাঠায়নি৷ কথা ছিলো প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা পাঠাবে তারা ৷ কিন্তু ফেব্রুয়ারি ও মার্চের ৮০ লাখ ডোজ টিকা এখনো আসেনি ৷

শুধু একটি দেশের উপর নির্ভরশীল থাকার নীতি সঠিক ছিল না বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরীও ৷ তিনি বলেন, ‘‘করোনার টিকার জন্য একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর করা ঠিক হয়নি ৷ তার ফল এখন আমরা পাচ্ছি৷ আমাদের এখন উচিত হবে খুব দ্রুত আরো কার্যকর উৎসের সাথে যোগাযোগ চূড়ান্ত করা ৷’’

বাংলাদেশে চুক্তির বাইরে ভারত সরকারের কাছ থেকে শুরুতেই ২০ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পেয়েছে ৷ এছাড়া নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময় উপহার হিসেবে পেয়েছে আরো ১২ লাখ ৷ ভারতের সেনা প্রধান বাংলাদেশের সেনা প্রধানকে উপহার দিয়েছেন এক লাখ৷ সব মিলিয়ে বাংলাদেশ টিকা পেয়েছে এক কোটি তিন লাখ ৷ দুই ডোজ করে এই টিকা ৫১ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দেওয়া সম্ভব ৷

বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া শুরু হয় গত ৭ ফেব্রুয়ারি৷ এরপর দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়া শুরু হয় ৮ এপ্রিল থেকে ৷ এ পর্যন্ত করোনার প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে মোট টিকা দেয়া হয়েছে ৭৯ লাখ ৫৪ হাজার ১৭৬ জনকে৷ তার মধ্যে প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে ৫৭ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮০, আর দ্বিতীয় ডোজ ২১ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৬ জন ৷ সেই হিসাবে এখন বাংলাদেশে করোনার টিকা মজুদ আছে ২৩ লাখ ৪৫ হাজার ডোজ ৷
এই টিকা দিয়ে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া সম্ভব নয়৷ তাই সোববার থেকে প্রথম ডোজের টিকা আর দেয়া হচ্ছে না ৷ প্রথম ধাপে এক কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সরকার ৷

এদিকে বাংলাদেশে একদিনে করোনায় মৃত্যু আবারো ১০০ ছাড়িয়েছে৷ রোববার ২৪ ঘন্টায় ১০১ জন মারা গেছেন ৷

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের

ভারতে যাতায়াত বন্ধ, মে মাসের আগে টিকা আসছে না

আপডেট টাইম : ০৫:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ স্থলপথে ভারত থেকে দুই সপ্তাহের জন্য যাত্রী আসা বন্ধ করছে বাংলাদেশ ৷ দেশটিতে করোনা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিত রোববার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ৷

সোমবার থেকে ১৪ দিনের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত যাত্রী যাতায়াতের জন্য বন্ধ থাকবে৷ মন্ত্রীসভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে রোববার বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে খবর বের হয় ৷

অবশ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ৷ তিনি বলেন, ‘‘ভারতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আমাদের নাগরিকদের রক্ষায় সেখান থেকে আপাতত লোক আসা বন্ধ করছি আমরা৷ এটা দুই সপ্তাহের জন্য ৷’’ তবে যাত্রীদের যাতায়াত বন্ধ হলেও পণ্যবাহী যান চলাচল এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে বলে জানান মন্ত্রী ৷

লকডাউনের কারণে আগেই আকাশপথে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যান চলাচল বন্ধ করা হয়৷ পরবর্তীতে প্রবাসীদের ফেরত পাঠাতে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের আটটি গন্তব্যে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় ৷ সেক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে এখন আকাশ ও স্থলপথ দুই ধরনের যাতায়াতের সুযোগই বন্ধ হচ্ছে ৷

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে করোনা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে ৷ প্রায় প্রতিদিনই রোগী শনাক্তের রেকর্ড হচ্ছে৷ একাধিকবার রূপ বদলানো করোনার নতুন ধরন শনাক্ত হয়েছে দেশটিতে৷ সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে একে অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা ৷ এরিমধ্যে দেশটির সঙ্গে যাতায়াত বন্ধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য, ক্যানাডা, ফ্রান্স, ইটালিসহ বিভিন্ন দেশ৷ যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে৷ এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশও যাতায়াত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল ৷

টিকার জন্য অপেক্ষা

বাংলাদেশে করোনার টিকার প্রথম ডোজ দেয়া আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ ৷ ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট এর কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী পাওয়া আস্ট্রাজেনেকার যে টিকা এখত মজুত আছে তাতে এক সপ্তাহর বেশি চলবে না৷ রপ্তানি বন্ধ করায় খুব শিগগিরই নতুন করেও টিকা আসছে না ৷

অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রোববার জানিয়েছেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ ২১ লাখ ডোজ টিকা পাবে ৷ এরমধ্যে ভারতের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরামের কাছ থেকে বাংলাদেশের বেক্সিমকো আস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ টিকা আনবে৷ আর বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্স থেকে ফাইজারের এক লাখ টিকা পওয়ার কথা রয়েছে ৷

সংকট তৈরি হওয়ায় সম্প্রতি এর বাইরেও নানা সূত্র থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ৷ এরমধ্যে রাশিয়ার সাথে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশেই তাদের উদ্ভাবিত টিকা উৎপাদনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সরকার ৷ তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছে সরকার, যার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে৷ করোনা সংক্রান্ত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘টিকা কূটনীতিতে বাংলাদেশ শুরু থেকেই ভুল পথে হেঁটেছে ৷ আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে এখন আমাদের এখানেই করোনার টিকা উৎপাদিত হতো৷ চীন শুরুতেই সেই প্রস্তাব দিয়েছিলো ৷ আর ভারত থেকে অক্সফোর্ডের টিকা আসা বন্ধ হওয়ার পর নতুন যে উদ্যোগগুলো নেয়া হচ্ছে তা এখনো কথার মধ্যেই আছে৷ ফলপ্রসূ কিছু নয়৷’’

সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে বাংলাদেশ বেক্সিমকোর মাধ্যমে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করে৷ চুক্তি অনুযায়ী প্রথম চালানের ৫০ লাখ টিকা আসে গত জানুয়ারি মাসে ৷ ফেব্রুয়ারি মাসে আসে ২০ লাখ ৷ এরপর সেরাম আর কোনো টিকা পাঠায়নি৷ কথা ছিলো প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা পাঠাবে তারা ৷ কিন্তু ফেব্রুয়ারি ও মার্চের ৮০ লাখ ডোজ টিকা এখনো আসেনি ৷

শুধু একটি দেশের উপর নির্ভরশীল থাকার নীতি সঠিক ছিল না বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরীও ৷ তিনি বলেন, ‘‘করোনার টিকার জন্য একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর করা ঠিক হয়নি ৷ তার ফল এখন আমরা পাচ্ছি৷ আমাদের এখন উচিত হবে খুব দ্রুত আরো কার্যকর উৎসের সাথে যোগাযোগ চূড়ান্ত করা ৷’’

বাংলাদেশে চুক্তির বাইরে ভারত সরকারের কাছ থেকে শুরুতেই ২০ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পেয়েছে ৷ এছাড়া নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময় উপহার হিসেবে পেয়েছে আরো ১২ লাখ ৷ ভারতের সেনা প্রধান বাংলাদেশের সেনা প্রধানকে উপহার দিয়েছেন এক লাখ৷ সব মিলিয়ে বাংলাদেশ টিকা পেয়েছে এক কোটি তিন লাখ ৷ দুই ডোজ করে এই টিকা ৫১ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দেওয়া সম্ভব ৷

বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া শুরু হয় গত ৭ ফেব্রুয়ারি৷ এরপর দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়া শুরু হয় ৮ এপ্রিল থেকে ৷ এ পর্যন্ত করোনার প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে মোট টিকা দেয়া হয়েছে ৭৯ লাখ ৫৪ হাজার ১৭৬ জনকে৷ তার মধ্যে প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে ৫৭ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮০, আর দ্বিতীয় ডোজ ২১ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৬ জন ৷ সেই হিসাবে এখন বাংলাদেশে করোনার টিকা মজুদ আছে ২৩ লাখ ৪৫ হাজার ডোজ ৷
এই টিকা দিয়ে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া সম্ভব নয়৷ তাই সোববার থেকে প্রথম ডোজের টিকা আর দেয়া হচ্ছে না ৷ প্রথম ধাপে এক কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সরকার ৷

এদিকে বাংলাদেশে একদিনে করোনায় মৃত্যু আবারো ১০০ ছাড়িয়েছে৷ রোববার ২৪ ঘন্টায় ১০১ জন মারা গেছেন ৷