ঢাকা ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

কোন কোন সম্পদের যাকাত দিতে হবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:০৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১
  • ২৩৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ইসলামী আইনে কোনও ব্যক্তির মালিকানাধীন সম্পদের পরিমাণের ভিত্তিতেই যাকাত নিরূপিত হয়। যাকাত প্রযোজ্য হয় এমন প্রধান প্রধান সম্পদগুলো হলো- স্বর্ণ-রৌপ্য, নগদ অর্থ, গবাদিপশু, ফসল ও সব ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য।

স্বর্ণ ও রৌপ্য (অলঙ্কার)
স্বর্ণ ও রৌপ্যের যাকাত সম্পর্কে আলেমগণ একাধিক মত পোষণ করেছেন। কেউ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, দেখতে হবে স্বর্ণ-রৌপ্য সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যের জন্য, না সঞ্চয় করে রাখার জন্য, না ব্যবসা বা অন্য কোন কাজের জন্য। অধিক বিশুদ্ধ মত হচ্ছে, নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ-রৌপ্যের ওপর হিজরী এক বছর পূর্ণ হলে যাকাত ওয়াজিব হবে, যে  উদ্দেশ্যেই তা সংগ্রহ করুক। স্বর্ণ-রৌপ্য ব্যতীত অন্যান্য ধাতব বস্তু যেমন হীরা, মুক্তা, ইয়াকুত, মোতি, মুক্তাদানা, গোমেদ-পীতবর্ণ মণি বিশেষ ইত্যাদি বস্তুর ওপর যাকাত ওয়াজিব হয় না, তার মূল্য যাই হোক না কেন। তবে ব্যবসার জন্য হলে ব্যবসায়ী পণ্য হিসেবে তার ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে।

নগদ অর্থ
ব্যাংক নোট অর্থাৎ টাকা, ডলার, পাউন্ড, ইউরো, রিয়াল ও অন্যান্য মুদ্রা যা নগদ অর্থ হিসেবে পরিচিত। অনুরূপ অর্থের ইন্সট্রুমেন্ট যেমন চেক, বিল, বিনিয়োগ সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কাগজপত্র যার বৈষয়িক মূল্য রয়েছে তার ওপর যাকাত দিতে হবে।

ব্যবসার পণ্য
যে সব পণ্য বা বস্তু দিয়ে ব্যবসা করা হয়, যেমন পণ্য, জমি, গাড়ি ও ব্যবসার অন্যান্য সামগ্রী যা কেনাবেচা করা হয়। অধিকাংশ আলিম মনে করেন, ব্যবসায়ী পণ্যে যাকাত ওয়াজিব।

চতুষ্পদ প্রাণী
উট, গরু ও ছাগলের যাকাত দিতে হবে। এ সব প্রাণী ছাড়া অন্যান্য প্রাণীর যাকাতের কথা হাদীসে উল্লেখ নেই। সুতরাং গৃহপালিত পাখি, মুরগি, ঘোড়া, গাধা, খরগোশ ও অন্যান্য প্রাণীতে যাকাত নেই, তার সংখ্যা যত বেশি হোক। তবে এ সব প্রাণী ব্যবসার জন্য নির্ধারিত হলে ব্যবসায়ী পণ্য হিসেবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে।

ফল ও ফসল
হাদীসে যে সব ফসলের নাম উল্লেখ করে যাকাত নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো হলো গম, যব, খেজুর ও কিশমিশ। এ চার প্রকার ব্যতীত যে সব ফল ও ফসল সঞ্চয় করার উপযুক্ত এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করলে নষ্ট হয় না, যেমন ভুট্টা, ধান-চাল ও অন্যান্য খাদ্যশস্য তাতেও যাকাত ওয়াজিব হবে। শাক-সবজির ওপর যাকাত নেই। তবে কাঁচাখেজুর ও আঙ্গুরের ওপর যাকাত দিতে হবে। কারণ তা সঞ্চয় করা যায়। যেমন আঙ্গুর সঞ্চয় করলে কিশমিশ হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

কোন কোন সম্পদের যাকাত দিতে হবে

আপডেট টাইম : ০১:০৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ইসলামী আইনে কোনও ব্যক্তির মালিকানাধীন সম্পদের পরিমাণের ভিত্তিতেই যাকাত নিরূপিত হয়। যাকাত প্রযোজ্য হয় এমন প্রধান প্রধান সম্পদগুলো হলো- স্বর্ণ-রৌপ্য, নগদ অর্থ, গবাদিপশু, ফসল ও সব ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য।

স্বর্ণ ও রৌপ্য (অলঙ্কার)
স্বর্ণ ও রৌপ্যের যাকাত সম্পর্কে আলেমগণ একাধিক মত পোষণ করেছেন। কেউ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, দেখতে হবে স্বর্ণ-রৌপ্য সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যের জন্য, না সঞ্চয় করে রাখার জন্য, না ব্যবসা বা অন্য কোন কাজের জন্য। অধিক বিশুদ্ধ মত হচ্ছে, নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ-রৌপ্যের ওপর হিজরী এক বছর পূর্ণ হলে যাকাত ওয়াজিব হবে, যে  উদ্দেশ্যেই তা সংগ্রহ করুক। স্বর্ণ-রৌপ্য ব্যতীত অন্যান্য ধাতব বস্তু যেমন হীরা, মুক্তা, ইয়াকুত, মোতি, মুক্তাদানা, গোমেদ-পীতবর্ণ মণি বিশেষ ইত্যাদি বস্তুর ওপর যাকাত ওয়াজিব হয় না, তার মূল্য যাই হোক না কেন। তবে ব্যবসার জন্য হলে ব্যবসায়ী পণ্য হিসেবে তার ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে।

নগদ অর্থ
ব্যাংক নোট অর্থাৎ টাকা, ডলার, পাউন্ড, ইউরো, রিয়াল ও অন্যান্য মুদ্রা যা নগদ অর্থ হিসেবে পরিচিত। অনুরূপ অর্থের ইন্সট্রুমেন্ট যেমন চেক, বিল, বিনিয়োগ সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কাগজপত্র যার বৈষয়িক মূল্য রয়েছে তার ওপর যাকাত দিতে হবে।

ব্যবসার পণ্য
যে সব পণ্য বা বস্তু দিয়ে ব্যবসা করা হয়, যেমন পণ্য, জমি, গাড়ি ও ব্যবসার অন্যান্য সামগ্রী যা কেনাবেচা করা হয়। অধিকাংশ আলিম মনে করেন, ব্যবসায়ী পণ্যে যাকাত ওয়াজিব।

চতুষ্পদ প্রাণী
উট, গরু ও ছাগলের যাকাত দিতে হবে। এ সব প্রাণী ছাড়া অন্যান্য প্রাণীর যাকাতের কথা হাদীসে উল্লেখ নেই। সুতরাং গৃহপালিত পাখি, মুরগি, ঘোড়া, গাধা, খরগোশ ও অন্যান্য প্রাণীতে যাকাত নেই, তার সংখ্যা যত বেশি হোক। তবে এ সব প্রাণী ব্যবসার জন্য নির্ধারিত হলে ব্যবসায়ী পণ্য হিসেবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবে।

ফল ও ফসল
হাদীসে যে সব ফসলের নাম উল্লেখ করে যাকাত নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো হলো গম, যব, খেজুর ও কিশমিশ। এ চার প্রকার ব্যতীত যে সব ফল ও ফসল সঞ্চয় করার উপযুক্ত এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করলে নষ্ট হয় না, যেমন ভুট্টা, ধান-চাল ও অন্যান্য খাদ্যশস্য তাতেও যাকাত ওয়াজিব হবে। শাক-সবজির ওপর যাকাত নেই। তবে কাঁচাখেজুর ও আঙ্গুরের ওপর যাকাত দিতে হবে। কারণ তা সঞ্চয় করা যায়। যেমন আঙ্গুর সঞ্চয় করলে কিশমিশ হয়।