ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

আড়াইহাজারে ফিরেছে আখের গুড়ের ঐতিহ্য

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২১
  • ২৫১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বেশ কয়েক বছর গুড় তৈরি বন্ধ করে দিয়েছিলেন চাষিরা। উন্নত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ কারিগরের অভাবে লোকসান গুনতে হয়েছিল কৃষকদের। তা ছাড়া কৃষিজমি ভরাট করে শিল্প-কারখানা তৈরি আর ভেজাল গুড় দখলে নিয়েছে দেশীয় বাজার। একসময় বিভিন্ন জেলার পাইকারদের পদচারণায় মুখরিত ছিল যে গ্রামটি আজ তা প্রচীন ঐতিহ্যের স্মৃতি হারাতে বসেছে। এর পরও তারা থেমে নেই। পূর্বপুরুষদের আদিপেশা অনেকেই ছাড়তে নারাজ।

হারানো ঐতিহ্যকে ফেরাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসেনি। অবশেষে স্থানীয় শিল্পপতি মাসুদ খানের একান্ত উদ্যোগে আখচাষিরা আশার আলো দেখছেন। তিনি এলাকার কৃষকদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করে চাষিদের আখ চাষে উত্সাহিত করেন। এর পর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক চাষাবাদ।

নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার বড় বিনাইরচর ও ছোট বিনাইরচর এলাকায় শত শত বছর ধরে গুড় তৈরির জন্য আখ চাষ করা হয়। ৫২৭, ৫৭০, ৮, রোহিঙ্গা, লোহাটাং গেণ্ডারী, খাকরী, মিরছিমালা, কাজলমালা, বাইশটেঙ্গি ও টেনাই নামের কয়েক প্রকার আখের চাষ হয় এই এলাকায়। তবে ৫৭০, রোহিঙ্গা ও লোহাটাং নামের এই আখের ফলন ভালো হয় বলে এখানে ব্যাপকভাবে চাষা হচ্ছে। আর এই আখ দিয়ে রসালো গুড় তৈরি করেন কৃষকরাই। সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়বিনাইরচর ও ছোট বিনানাইরচর এলাকায় প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে আখ চাষ হয়েছে। কেউ জমি থেকে আখ কেটে আনছেন। আবার দুই/তিন জন মিলে সেই আখ মেশিনে মাড়াই করছেন। এক জন মাড়াই করা আখের ছোবড়া বা খোসা রৌদ্রে শুকাচ্ছেন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য, আবার কেউ বিশাল পাত্রে রস ঢেলে তা আগুনে জ্বালিয়ে কাঁচা রস পাকা করছেন। এভাবে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা আগুনে রস পাকা করে তা পাত্রে ঢালছেন। ঠাণ্ডা হলেই তা গুড়ে পরিণত হয়। এর একেকটি কড়াইতে প্রায় ৫০ কেজি গুড় তৈরি হয়।

আখচাষি হাজি শহিদুল্লাহ জানান, কত বছর আগে এখানে আখ চাষ শুরু তা আমার জানা নেই। তবে পূর্বপুরুষরাও এ আখ চাষে জড়িত ছিলেন। আখের চাষাবাদ আমি আমার বাবার কাছে শিখেছি। আমার দুই বিঘা জমিতে এবার আখের চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ১৫ মণ গুড় আমরা উৎপাদন করতে পারি।

বিনাইরচর এলাকার ব্যবসায়ী মাসুদ খান বলেন, ইচ্ছা আর উদ্যোগ থাকলে সব কিছুই সম্ভব। শত বছরের ঐতিহ্য আখ চাষ বেশ কয়েক বছর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভালো আখের বীজ সংরক্ষণ করতে না পারায় ও গুড় তৈরিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। এ জন্য এলাকার কৃষকরা বেকার হয়ে পড়েছিলেন। তারপর নিজ থেকেই উদ্যোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভালো মানের বীজ সংগ্রহ করে কৃষকদের হাতে পৌঁছে দিলাম। তাদের উত্সাহ ও সাহস দিলাম। তাছাড়া আমি নিজেও ১৫ বিঘা জমিতে আখ চাষ করি। এখন আস্তে আস্তে সবাই আখ চাষে মনোযোগী হয়েছেন। সরকারিভাবে কৃষকরা সহায়তা পেলে বাণিজ্যিকভাবে এখানে আখ চাষ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

আড়াইহাজারে ফিরেছে আখের গুড়ের ঐতিহ্য

আপডেট টাইম : ১০:১৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বেশ কয়েক বছর গুড় তৈরি বন্ধ করে দিয়েছিলেন চাষিরা। উন্নত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ কারিগরের অভাবে লোকসান গুনতে হয়েছিল কৃষকদের। তা ছাড়া কৃষিজমি ভরাট করে শিল্প-কারখানা তৈরি আর ভেজাল গুড় দখলে নিয়েছে দেশীয় বাজার। একসময় বিভিন্ন জেলার পাইকারদের পদচারণায় মুখরিত ছিল যে গ্রামটি আজ তা প্রচীন ঐতিহ্যের স্মৃতি হারাতে বসেছে। এর পরও তারা থেমে নেই। পূর্বপুরুষদের আদিপেশা অনেকেই ছাড়তে নারাজ।

হারানো ঐতিহ্যকে ফেরাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসেনি। অবশেষে স্থানীয় শিল্পপতি মাসুদ খানের একান্ত উদ্যোগে আখচাষিরা আশার আলো দেখছেন। তিনি এলাকার কৃষকদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করে চাষিদের আখ চাষে উত্সাহিত করেন। এর পর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক চাষাবাদ।

নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার বড় বিনাইরচর ও ছোট বিনাইরচর এলাকায় শত শত বছর ধরে গুড় তৈরির জন্য আখ চাষ করা হয়। ৫২৭, ৫৭০, ৮, রোহিঙ্গা, লোহাটাং গেণ্ডারী, খাকরী, মিরছিমালা, কাজলমালা, বাইশটেঙ্গি ও টেনাই নামের কয়েক প্রকার আখের চাষ হয় এই এলাকায়। তবে ৫৭০, রোহিঙ্গা ও লোহাটাং নামের এই আখের ফলন ভালো হয় বলে এখানে ব্যাপকভাবে চাষা হচ্ছে। আর এই আখ দিয়ে রসালো গুড় তৈরি করেন কৃষকরাই। সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়বিনাইরচর ও ছোট বিনানাইরচর এলাকায় প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে আখ চাষ হয়েছে। কেউ জমি থেকে আখ কেটে আনছেন। আবার দুই/তিন জন মিলে সেই আখ মেশিনে মাড়াই করছেন। এক জন মাড়াই করা আখের ছোবড়া বা খোসা রৌদ্রে শুকাচ্ছেন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য, আবার কেউ বিশাল পাত্রে রস ঢেলে তা আগুনে জ্বালিয়ে কাঁচা রস পাকা করছেন। এভাবে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা আগুনে রস পাকা করে তা পাত্রে ঢালছেন। ঠাণ্ডা হলেই তা গুড়ে পরিণত হয়। এর একেকটি কড়াইতে প্রায় ৫০ কেজি গুড় তৈরি হয়।

আখচাষি হাজি শহিদুল্লাহ জানান, কত বছর আগে এখানে আখ চাষ শুরু তা আমার জানা নেই। তবে পূর্বপুরুষরাও এ আখ চাষে জড়িত ছিলেন। আখের চাষাবাদ আমি আমার বাবার কাছে শিখেছি। আমার দুই বিঘা জমিতে এবার আখের চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ১৫ মণ গুড় আমরা উৎপাদন করতে পারি।

বিনাইরচর এলাকার ব্যবসায়ী মাসুদ খান বলেন, ইচ্ছা আর উদ্যোগ থাকলে সব কিছুই সম্ভব। শত বছরের ঐতিহ্য আখ চাষ বেশ কয়েক বছর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভালো আখের বীজ সংরক্ষণ করতে না পারায় ও গুড় তৈরিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। এ জন্য এলাকার কৃষকরা বেকার হয়ে পড়েছিলেন। তারপর নিজ থেকেই উদ্যোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভালো মানের বীজ সংগ্রহ করে কৃষকদের হাতে পৌঁছে দিলাম। তাদের উত্সাহ ও সাহস দিলাম। তাছাড়া আমি নিজেও ১৫ বিঘা জমিতে আখ চাষ করি। এখন আস্তে আস্তে সবাই আখ চাষে মনোযোগী হয়েছেন। সরকারিভাবে কৃষকরা সহায়তা পেলে বাণিজ্যিকভাবে এখানে আখ চাষ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।