ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
‘দেশে যদি তেলই না থাকে, তাহলে লংমার্চের গাড়ি কি তেলে চলে না এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্যাংকে পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ চায় সংসদীয় কমিটি প্রধানমন্ত্রীকে দুই বিষয়ে সতর্ক থাকতে বললেন মির্জা আব্বাস ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ জনগণের প্রয়োজনে যেকোনো সময় আন্দোলনের ডাক: ডা. শফিকুর রহমান ইতিহাসের সেরা ২ নারী গোয়েন্দা ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, লক্ষ্য কী দক্ষিণখানে অস্ত্র-মাদকসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

করোনার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে হবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২০
  • ২৯১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। এরইমধ্যে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। এখনো নতুন গান নিয়ে সব সময়ই ব্যস্ত থাকেন। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের পর থেকেই নিজে সাবধানে থাকছেন, সচেতনতা অবলম্বন করেছেন এ সংগীতশিল্পী। অন্য সবাইকেও সেই পরামর্শ দিচ্ছেন। নিজের বর্তমান ব্যস্ততা, অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আসিফ। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ফয়সাল রাব্বিকীন

কেমন আছেন? দিনকাল কেমন কাটছে?
মোটামুটি ভালো আছি। যেহেতু এখন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সারাবিশ্বসহ আমাদের দেশেও দেখা দিয়েছে, তাই সতর্কতার মধ্যে দিয়েই দিনকাল কাটছে।

এ অবস্থায় কাজ কি করা হচ্ছে?
পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন সচেতনতার বিকল্প নেই। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া আমরা ঘর থেকে বের হচ্ছি না। আমার স্টুডিওর প্রয়োজনীয় কাজগুলো আড্ডা এড়িয়ে করছি। অফিসিয়াল কাজও অনলাইনে বাসায় বসেই চলছে। পরিচ্ছনতা মেইনটেইন করে জনসামগম মুক্ত চলাচল এদেশে কঠিন। এই কঠিন কাজটি সম্পাদন করতেই হবে সবার নিরাপত্তার স্বার্থে। ইতিমধ্যে এয়ারপোর্ট হয়ে আগত যাত্রীদের ব্যাপারে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব  দেয়া হয়েছে, এটা অত্যন্ত পজিটিভ। জাতীয় স্বার্থে গোঁয়ার্তুমির কোনো সুযোগ নেই। সবাইকে যার যার জায়গা  থেকে বেঁচে থাকার জন্য ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। করোনার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে হবে। আমিও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সবারই সাধ্যানুযায়ী নিয়মকানুন মেনে সতর্কভাবে চলাচল করা  উচিত। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই দুর্যোগ  থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।

আপনিতো ফেসবুকে সচেতনতামূলক পোস্টও দিচ্ছেন?
এটা এমন একটা অবস্থা যা সবাইকে মিলে মোকাবেলা করতে হবে। যার যার দিক থেকে সঠিক পরামর্শ দেয়া উচিত। তবে একটি বিষয় খুব কষ্ট দিচ্ছে আমাকে। বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে হুহু করে। এক শ্রেণির পয়সাওয়ালারা খাদ্য মজুদ করতে ব্যস্ত। এই সুযোগে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সেই ক্রেতারাও সমান অপরাধী। সারা পৃথিবীতে কোনো ক্রাইসিস তৈরি হলে সব দেশের সমস্ত অরগ্যান এক হয়ে যায়। জিনিসপত্রের দামসহ সব কিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়। জনগণ, সরকার ও বিরোধীদল একযোগে দুর্যোগ থেকে মুক্তির জন্য কাজ করে। একমাত্র বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। এই মজুতদার মুনাফালোভীদের কারণে ১৯৭৪ সালে অসংখ্য মানুষ খাদ্যাভাবে মারা গিয়েছে। এদেরকে রুখতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্য নিরাপত্তা সেল গঠন করে কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে জেল জরিমানা, সম্পদ বাজেয়াপ্ত কিংবা আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। আপনার গানের অবস্থা কি?  
বেশ কিছু নতুন গানের কাজ করেছি। সেগুলো করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া না পর্যন্ত প্রকাশের ইচ্ছে নেই। কারণ সেই মানসিকতাও নেই শিল্পী-শ্রোতা কারোই। হয়তো সব কিছু বন্ধ থাকায় সাময়িক সমস্যা হবে। তবে এটা মেনে নিতে হবে। কারণ অন্য কোনো অপশন নেই। যতটা নিরাপদে এখন থাকা যায় ততটাই মঙ্গল। করোনা পরিস্থিতিকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। আমি সবাইকে বলবো, যতটুকু বাসায় থাকা যায় থাকুন। খুব জরুরী না হলে বাইরে বের হওয়ার দরকার নেই। নিজেকে পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সেই পরামর্শ দিন। আমি নিজেও তাই করছি। এটাই আমাদের এখন প্রধান কাজ হওয়া উচিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দেশে যদি তেলই না থাকে, তাহলে লংমার্চের গাড়ি কি তেলে চলে না এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

করোনার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে হবে

আপডেট টাইম : ১০:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। এরইমধ্যে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। এখনো নতুন গান নিয়ে সব সময়ই ব্যস্ত থাকেন। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের পর থেকেই নিজে সাবধানে থাকছেন, সচেতনতা অবলম্বন করেছেন এ সংগীতশিল্পী। অন্য সবাইকেও সেই পরামর্শ দিচ্ছেন। নিজের বর্তমান ব্যস্ততা, অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আসিফ। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ফয়সাল রাব্বিকীন

কেমন আছেন? দিনকাল কেমন কাটছে?
মোটামুটি ভালো আছি। যেহেতু এখন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সারাবিশ্বসহ আমাদের দেশেও দেখা দিয়েছে, তাই সতর্কতার মধ্যে দিয়েই দিনকাল কাটছে।

এ অবস্থায় কাজ কি করা হচ্ছে?
পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন সচেতনতার বিকল্প নেই। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া আমরা ঘর থেকে বের হচ্ছি না। আমার স্টুডিওর প্রয়োজনীয় কাজগুলো আড্ডা এড়িয়ে করছি। অফিসিয়াল কাজও অনলাইনে বাসায় বসেই চলছে। পরিচ্ছনতা মেইনটেইন করে জনসামগম মুক্ত চলাচল এদেশে কঠিন। এই কঠিন কাজটি সম্পাদন করতেই হবে সবার নিরাপত্তার স্বার্থে। ইতিমধ্যে এয়ারপোর্ট হয়ে আগত যাত্রীদের ব্যাপারে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব  দেয়া হয়েছে, এটা অত্যন্ত পজিটিভ। জাতীয় স্বার্থে গোঁয়ার্তুমির কোনো সুযোগ নেই। সবাইকে যার যার জায়গা  থেকে বেঁচে থাকার জন্য ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। করোনার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে হবে। আমিও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সবারই সাধ্যানুযায়ী নিয়মকানুন মেনে সতর্কভাবে চলাচল করা  উচিত। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই দুর্যোগ  থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।

আপনিতো ফেসবুকে সচেতনতামূলক পোস্টও দিচ্ছেন?
এটা এমন একটা অবস্থা যা সবাইকে মিলে মোকাবেলা করতে হবে। যার যার দিক থেকে সঠিক পরামর্শ দেয়া উচিত। তবে একটি বিষয় খুব কষ্ট দিচ্ছে আমাকে। বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে হুহু করে। এক শ্রেণির পয়সাওয়ালারা খাদ্য মজুদ করতে ব্যস্ত। এই সুযোগে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সেই ক্রেতারাও সমান অপরাধী। সারা পৃথিবীতে কোনো ক্রাইসিস তৈরি হলে সব দেশের সমস্ত অরগ্যান এক হয়ে যায়। জিনিসপত্রের দামসহ সব কিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়। জনগণ, সরকার ও বিরোধীদল একযোগে দুর্যোগ থেকে মুক্তির জন্য কাজ করে। একমাত্র বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। এই মজুতদার মুনাফালোভীদের কারণে ১৯৭৪ সালে অসংখ্য মানুষ খাদ্যাভাবে মারা গিয়েছে। এদেরকে রুখতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্য নিরাপত্তা সেল গঠন করে কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে জেল জরিমানা, সম্পদ বাজেয়াপ্ত কিংবা আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। আপনার গানের অবস্থা কি?  
বেশ কিছু নতুন গানের কাজ করেছি। সেগুলো করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া না পর্যন্ত প্রকাশের ইচ্ছে নেই। কারণ সেই মানসিকতাও নেই শিল্পী-শ্রোতা কারোই। হয়তো সব কিছু বন্ধ থাকায় সাময়িক সমস্যা হবে। তবে এটা মেনে নিতে হবে। কারণ অন্য কোনো অপশন নেই। যতটা নিরাপদে এখন থাকা যায় ততটাই মঙ্গল। করোনা পরিস্থিতিকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। আমি সবাইকে বলবো, যতটুকু বাসায় থাকা যায় থাকুন। খুব জরুরী না হলে বাইরে বের হওয়ার দরকার নেই। নিজেকে পরিষ্কার রাখুন, অন্যকেও সেই পরামর্শ দিন। আমি নিজেও তাই করছি। এটাই আমাদের এখন প্রধান কাজ হওয়া উচিত।