ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

রংপুরে বন্যায় প্রায় ৩ কোটি টাকার মাছ ক্ষতিগ্রস্ত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯
  • ৩২৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতি বৃষ্টির কারণে চলমান বন্যায় এখন পর্যন্ত রংপুর জেলায় কয়েকশ মৎস্য চাষী ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩ উপজেলায় ছোট-বড় মিলে মাছ এবং পোনা উৎপাদনকারী ৫৮২টি পুকুর ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা বলে জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে।

জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন গংগাচড়া উপজেলার মৎস্য চাষীরা। উপজেলার মোহনা গ্রামের মৎস্য চাষী সামিউল ইসলাম জানান, ৫০ শতকের পুকুরের মাছ রোববার রাতে ভেসে গেছে। ভেসে যাওয়া মাছের মধ্যে পাবদা, রুই, কাতলা ও গুলসা জাতীয় মাছ এবং পোনা। এখন সাড়ে ৩ একর পুুকুরে পানি প্রবেশ করা শুরু করেছে। তাই মাছ যাতে ভেসে যেতে না পারে এজন্য পুকুরের চারিদিকে নেট দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন।

তিনি জানান, পানি বৃদ্ধি পেলে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২ বছর আগে একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মৎস্য অফিস থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লিখে নিয়ে গেলেও কোনরকম সহযোগিতা পাননি। এর পরেই ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা হচ্ছে কাউনিয়া।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিরা জানান, পুকুরের চারিদিকে নেট এবং বাঁশের বানা দিয়েও মাছ রক্ষা করতে পারেননি। পানির তোড়ে পুকুরের চাষকৃত মাছ ভেসে গেছে। গংগাচড়া উপজেলায় বন্যায় ভেসে যাওয়া পুকুরের সংখ্যা হচ্ছে ৪৯৫টি। ভেসে যাওয়া মাছের পরিমাণ হচ্ছে ৭৫ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ভেসে গেছে ৪ লাখেরও বেশি পোনা। অবকাঠামেরা ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ লাখ ৫৫ হাজার টাকার। কাউনিয়া উপজেলায় বন্যায় ভেসে যাওয়া পুকুরের সংখ্যা হচ্ছে ৫০টি। ভেসে যাওয়া মাছের পরিমাণ হচ্ছে ৪ দশমিক ২৭ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা। অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার।

পীরগাছা উপজেলায় বন্যায় ভেসে যাওয়া পুকুরের সংখ্যা হচ্ছে ৩৭টি। ভেসে যাওয়া মাছের পরিমাণ হচ্ছে ৬ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। অবকাঠামেরা ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী আতিয়াহ্ তাইয়েবী জানান, চলমান বন্যায় রোববার পর্যন্ত জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের তালিকা করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা মৎস্য চাষিদের চাষকৃত মাছ যাতে ভেসে যেতে না পারে এজন্য পুকুরের চারিদিকে জাল দিয়ে ঘিরে দেয়ার জন্য মৎস্য বিভাগ থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বন্যায় ভেসে যাওয়া মোট পুকুরের সংখ্যা হচ্ছে ৫৮২টি। ভেসে যাওয়া মাছের আনুমানিক পরিমাণ হচ্ছে ৮৭ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক মূল্য হচ্ছে প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২৩ লাখ ১১ হাজার টাকার সমপরিমাণ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। সর্বমিলে ৩ কোটিরও বেশি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

রংপুরে বন্যায় প্রায় ৩ কোটি টাকার মাছ ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট টাইম : ০৫:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতি বৃষ্টির কারণে চলমান বন্যায় এখন পর্যন্ত রংপুর জেলায় কয়েকশ মৎস্য চাষী ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩ উপজেলায় ছোট-বড় মিলে মাছ এবং পোনা উৎপাদনকারী ৫৮২টি পুকুর ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা বলে জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে।

জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন গংগাচড়া উপজেলার মৎস্য চাষীরা। উপজেলার মোহনা গ্রামের মৎস্য চাষী সামিউল ইসলাম জানান, ৫০ শতকের পুকুরের মাছ রোববার রাতে ভেসে গেছে। ভেসে যাওয়া মাছের মধ্যে পাবদা, রুই, কাতলা ও গুলসা জাতীয় মাছ এবং পোনা। এখন সাড়ে ৩ একর পুুকুরে পানি প্রবেশ করা শুরু করেছে। তাই মাছ যাতে ভেসে যেতে না পারে এজন্য পুকুরের চারিদিকে নেট দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন।

তিনি জানান, পানি বৃদ্ধি পেলে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২ বছর আগে একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মৎস্য অফিস থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লিখে নিয়ে গেলেও কোনরকম সহযোগিতা পাননি। এর পরেই ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা হচ্ছে কাউনিয়া।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিরা জানান, পুকুরের চারিদিকে নেট এবং বাঁশের বানা দিয়েও মাছ রক্ষা করতে পারেননি। পানির তোড়ে পুকুরের চাষকৃত মাছ ভেসে গেছে। গংগাচড়া উপজেলায় বন্যায় ভেসে যাওয়া পুকুরের সংখ্যা হচ্ছে ৪৯৫টি। ভেসে যাওয়া মাছের পরিমাণ হচ্ছে ৭৫ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ভেসে গেছে ৪ লাখেরও বেশি পোনা। অবকাঠামেরা ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ লাখ ৫৫ হাজার টাকার। কাউনিয়া উপজেলায় বন্যায় ভেসে যাওয়া পুকুরের সংখ্যা হচ্ছে ৫০টি। ভেসে যাওয়া মাছের পরিমাণ হচ্ছে ৪ দশমিক ২৭ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা। অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার।

পীরগাছা উপজেলায় বন্যায় ভেসে যাওয়া পুকুরের সংখ্যা হচ্ছে ৩৭টি। ভেসে যাওয়া মাছের পরিমাণ হচ্ছে ৬ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। অবকাঠামেরা ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী আতিয়াহ্ তাইয়েবী জানান, চলমান বন্যায় রোববার পর্যন্ত জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের তালিকা করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা মৎস্য চাষিদের চাষকৃত মাছ যাতে ভেসে যেতে না পারে এজন্য পুকুরের চারিদিকে জাল দিয়ে ঘিরে দেয়ার জন্য মৎস্য বিভাগ থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বন্যায় ভেসে যাওয়া মোট পুকুরের সংখ্যা হচ্ছে ৫৮২টি। ভেসে যাওয়া মাছের আনুমানিক পরিমাণ হচ্ছে ৮৭ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক মূল্য হচ্ছে প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২৩ লাখ ১১ হাজার টাকার সমপরিমাণ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। সর্বমিলে ৩ কোটিরও বেশি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।