ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সংসদে শীর্ষ ৩০০ জন ঋণখেলাপির খেলাপির তালিকা দিলেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০১৯
  • ৩০৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জাতীয় সংসদে শীর্ষ ৩০০ জন ঋণখেলাপির তালিকা দিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার দেওয়া তথ্য মতে, নানা উদ্যোগ ও চেষ্টার মধ্যে গত সোয়া তিন বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এ সময় নতুন করে খেলাপি হয়েছে ৫৮ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী তালিকা দিয়ে জানান, শীর্ষ ৩০০ জনের কাছেই মোট খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেক আটকা। সব মিলিয়ে টাকার অংক ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।

সংসদে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ঋণ খেলাপিদের বেশিরভাগই সুপরিচিত নয়। তালিকার প্রথমেই নাম থাকা প্রতিষ্ঠানটিও তেমন পরিচিত নয়। মন্ত্রীর দেয়া তালিকা অনুযায়ি চট্টগ্রামের সামানাজ সুপার অয়েল এক হাজার ৪৯ কোটি টাকা, গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডাইং ৯৮৪ কোটি টাকা, রিমেক্স ফুডওয়্যার লিমিটেডের খেলাপি ঋণ আছে ৯৭৬ কোটি।

এ ছাড়া কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম লিমিটেড ৮২৮ কোটি টাকা, মাহিন এন্ট্রাপ্রাইজ লিমিটেড ৮২৫ কোটি, রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যার লিমিটেড ৭৯৮ কোটি টাকা, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ৭৭৬ কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে না।

এসএ ওয়েল রিফাইনারি লিমিটেড ৭০৭ কোটি, সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড ৬১০ কোটি, গ্রামীণ শক্তি ৬০১ কোটি, সুপ্রভ স্পিনিং লিমিটেড ৫৮২ কোটি, কম্পিউটার সোর্স লিমিটেড ৫৭৫ কোটি, সিমরান কম্পোজিট লিমিটেডের ৫৬৪ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

ম্যাক্স স্পিনিং মিলস ৫২৬ কোটি, বেনটেক্স ইন্ডাজট্রিজ লিমিটেড ৫২৩ কোটি, আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস লিমিটেড ৫২৩ কোটি, সিদ্দিক ট্রেডার্স ৫১১, রুবাইয়া ভেজিটেবল ওয়েলস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৫০১ কোটি, রাইজিং স্টিল লিমিটেডকে ৪৯৫ কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে।

এস কে এন্টারপ্রাইজ ৮৮ কোটি টাকা, সাফিন শিপিং লাইন লিমিটেড ৮৮ কোটি, সুপ্রিম জুট অ্যান্ড নিটেক্স লিমিটেড ৮৮ কোটি, ফরচুন স্টিল ৮৭ কোটি, মোস্তফা ওয়েল প্রোডাক্টস লিমিটেড ৮৬ কোটি, এম এস হাবিবুল ইসলাম ৮৬ কোটি, মাবিয়া স্টিল কমপ্লেক্স লিমিটেড ৮৬ কোটি, পদ্মা এগ্রো ট্রেডার্স ৮৬ কোটি, আমান ট্রেডিং করপোরেশন ৮৫ কোটি, পলিমার নিটওয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৮৫ কোটি, ইমারাল্ড অটোব্রিকস লিমিটেড ৮৫ কোটি, ম্যাজেস্টিক হোল্ডিং লিমিটেড ৮৫ কোটি, ওয়াফা এন্টারপ্রাইজ ৮৪ কোটি, দেশবন্ধু সুগার মিল লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ৮৪ কোটি টাকা।

বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণ রয়েছে মনিকা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল ৮৩ কোটি, এস এ ট্রেডার্স ৮৩ কোটি, দ্য অ্যারিস্টক্র্যাট এগ্রো লিমিটেড ৮৩ কোটি, ইউরোপা বেভারেজ অ্যান্ড ফুডস লিমিটেড ৮৩ কোটি, ফ্যাশন ক্রাফট নিটওয়্যার লিমিটেড ৮৩ কোটি, এটলাস গ্রিনপেক লিমিটেড ৮৩ কোটি, ইমারাল্ড স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড ৮৩ কোটি, শাহনেওয়াজ জুট মিলস প্রাইভেট লিমিটেড ৮২ কোটি, মার লিমিটেড ৮২ কোটি, ড্রেস মি ফ্যাশনস লিমিটেড ৮২ কোটি, মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স পো ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান লিমিটেড ৮১ কোটি, শাহিল ফ্যাশনস লিমিটেড ৮১ কোটি, ফস্টার রিয়েল এস্টেট লিমিটেড ৮১ কোটি, ইমাম ট্রেডার্স ৮১ কোটি, স্মাহ লিমিটেড ৮০ কোটি, গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবার ৮০ কোটি, ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ ৮০ কোটি, এম নূর সোয়েটার্স লিমিটেড ৭৯ কোটি, খান সন্স টেক্সটাইলস লিমিটেড ৭৯ কোটি, ঝুমা এন্টারপ্রাইজ ৭৯ কোটি, এন এইচ কে ফেব্রিক্স অ্যান্ড টেক্সটাইল ৭৮ কোটি, গ্রান্ডেউর শিপিং লাইন্স লিমিটেড ৭৮ কোটি টাকা।

২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন এমন ১৪ হাজার ৬১৭ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্যও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এদের বড় একটি অংশ ঋণ খেলাপি। যাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ১৮৩ কোটি টাকা।

সংসদ সদস্য লুৎফুন নেসা খান তার প্রশ্নে ২০০৯ সালে ঋণ খেলাপি কত ছিল ও তাদের কাছে প্রাপ্ত ঋণের পরিমাণ এবং ২০১৮ সালে ওই সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণও জানতে চেয়েছিলেন।

তবে এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি অর্থমন্ত্রী। জানান, ডাটা ওয়ারহাউজ না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইজে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের পূর্বের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ২০০৯ সালের ঋণের তথ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে ঋণ খেলাপির সংখ্যা ছিল এক লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ জন এবং তাদের কাছে ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। আর ডিসেম্বর ২০১৮ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপির সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ এবং অর্থের পরিমাণ এক লাখ ২ হাজার ৩১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকা দেখতে ক্লিক করুন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংসদে শীর্ষ ৩০০ জন ঋণখেলাপির খেলাপির তালিকা দিলেন

আপডেট টাইম : ১২:০৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জাতীয় সংসদে শীর্ষ ৩০০ জন ঋণখেলাপির তালিকা দিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার দেওয়া তথ্য মতে, নানা উদ্যোগ ও চেষ্টার মধ্যে গত সোয়া তিন বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এ সময় নতুন করে খেলাপি হয়েছে ৫৮ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী তালিকা দিয়ে জানান, শীর্ষ ৩০০ জনের কাছেই মোট খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেক আটকা। সব মিলিয়ে টাকার অংক ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।

সংসদে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ঋণ খেলাপিদের বেশিরভাগই সুপরিচিত নয়। তালিকার প্রথমেই নাম থাকা প্রতিষ্ঠানটিও তেমন পরিচিত নয়। মন্ত্রীর দেয়া তালিকা অনুযায়ি চট্টগ্রামের সামানাজ সুপার অয়েল এক হাজার ৪৯ কোটি টাকা, গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডাইং ৯৮৪ কোটি টাকা, রিমেক্স ফুডওয়্যার লিমিটেডের খেলাপি ঋণ আছে ৯৭৬ কোটি।

এ ছাড়া কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম লিমিটেড ৮২৮ কোটি টাকা, মাহিন এন্ট্রাপ্রাইজ লিমিটেড ৮২৫ কোটি, রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যার লিমিটেড ৭৯৮ কোটি টাকা, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ৭৭৬ কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে না।

এসএ ওয়েল রিফাইনারি লিমিটেড ৭০৭ কোটি, সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড ৬১০ কোটি, গ্রামীণ শক্তি ৬০১ কোটি, সুপ্রভ স্পিনিং লিমিটেড ৫৮২ কোটি, কম্পিউটার সোর্স লিমিটেড ৫৭৫ কোটি, সিমরান কম্পোজিট লিমিটেডের ৫৬৪ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

ম্যাক্স স্পিনিং মিলস ৫২৬ কোটি, বেনটেক্স ইন্ডাজট্রিজ লিমিটেড ৫২৩ কোটি, আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস লিমিটেড ৫২৩ কোটি, সিদ্দিক ট্রেডার্স ৫১১, রুবাইয়া ভেজিটেবল ওয়েলস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৫০১ কোটি, রাইজিং স্টিল লিমিটেডকে ৪৯৫ কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে।

এস কে এন্টারপ্রাইজ ৮৮ কোটি টাকা, সাফিন শিপিং লাইন লিমিটেড ৮৮ কোটি, সুপ্রিম জুট অ্যান্ড নিটেক্স লিমিটেড ৮৮ কোটি, ফরচুন স্টিল ৮৭ কোটি, মোস্তফা ওয়েল প্রোডাক্টস লিমিটেড ৮৬ কোটি, এম এস হাবিবুল ইসলাম ৮৬ কোটি, মাবিয়া স্টিল কমপ্লেক্স লিমিটেড ৮৬ কোটি, পদ্মা এগ্রো ট্রেডার্স ৮৬ কোটি, আমান ট্রেডিং করপোরেশন ৮৫ কোটি, পলিমার নিটওয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৮৫ কোটি, ইমারাল্ড অটোব্রিকস লিমিটেড ৮৫ কোটি, ম্যাজেস্টিক হোল্ডিং লিমিটেড ৮৫ কোটি, ওয়াফা এন্টারপ্রাইজ ৮৪ কোটি, দেশবন্ধু সুগার মিল লিমিটেডের খেলাপি ঋণ ৮৪ কোটি টাকা।

বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণ রয়েছে মনিকা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল ৮৩ কোটি, এস এ ট্রেডার্স ৮৩ কোটি, দ্য অ্যারিস্টক্র্যাট এগ্রো লিমিটেড ৮৩ কোটি, ইউরোপা বেভারেজ অ্যান্ড ফুডস লিমিটেড ৮৩ কোটি, ফ্যাশন ক্রাফট নিটওয়্যার লিমিটেড ৮৩ কোটি, এটলাস গ্রিনপেক লিমিটেড ৮৩ কোটি, ইমারাল্ড স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড ৮৩ কোটি, শাহনেওয়াজ জুট মিলস প্রাইভেট লিমিটেড ৮২ কোটি, মার লিমিটেড ৮২ কোটি, ড্রেস মি ফ্যাশনস লিমিটেড ৮২ কোটি, মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স পো ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান লিমিটেড ৮১ কোটি, শাহিল ফ্যাশনস লিমিটেড ৮১ কোটি, ফস্টার রিয়েল এস্টেট লিমিটেড ৮১ কোটি, ইমাম ট্রেডার্স ৮১ কোটি, স্মাহ লিমিটেড ৮০ কোটি, গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবার ৮০ কোটি, ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ ৮০ কোটি, এম নূর সোয়েটার্স লিমিটেড ৭৯ কোটি, খান সন্স টেক্সটাইলস লিমিটেড ৭৯ কোটি, ঝুমা এন্টারপ্রাইজ ৭৯ কোটি, এন এইচ কে ফেব্রিক্স অ্যান্ড টেক্সটাইল ৭৮ কোটি, গ্রান্ডেউর শিপিং লাইন্স লিমিটেড ৭৮ কোটি টাকা।

২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন এমন ১৪ হাজার ৬১৭ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্যও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এদের বড় একটি অংশ ঋণ খেলাপি। যাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ১৮৩ কোটি টাকা।

সংসদ সদস্য লুৎফুন নেসা খান তার প্রশ্নে ২০০৯ সালে ঋণ খেলাপি কত ছিল ও তাদের কাছে প্রাপ্ত ঋণের পরিমাণ এবং ২০১৮ সালে ওই সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণও জানতে চেয়েছিলেন।

তবে এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি অর্থমন্ত্রী। জানান, ডাটা ওয়ারহাউজ না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইজে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের পূর্বের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ২০০৯ সালের ঋণের তথ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে ঋণ খেলাপির সংখ্যা ছিল এক লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ জন এবং তাদের কাছে ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। আর ডিসেম্বর ২০১৮ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপির সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ এবং অর্থের পরিমাণ এক লাখ ২ হাজার ৩১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকা দেখতে ক্লিক করুন