ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যেভাবে কপাল খুলছে নিবন্ধনধারীদের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৫০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯
  • ২৭৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এই বছরেই পরবর্তী শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হুসেন।

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ৩৯ হাজার পদের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার পদে প্রার্থীই পাওয়া যায়নি। প্রার্থী পাওয়া না যাওয়ার কারণ, সম্ভবত সেগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চল, আবার অনেকে দরখাস্ত করেছে একাধিক। যেখানে সুবিধা হয়েছে সেখান গিয়েছে। যার কারণে আবার বিজ্ঞাপন দিতে হবে। আমাদেরকে যদি এমপিওর নীতিমালার মহাপরিচালক মাউশির কাজে ব্যস্ত না করতেন, এতদিনে এই বিজ্ঞাপন দেয়া হয়ে যেত। আমি এখন ব্যস্ত আছি এইসব সমস্যা সমাধান করতে করতে।

তিনি বলেন, আমাদের যদি একটু সময় দেন, একটু সুযোগ দেন। ওই বিজ্ঞাপনটা বড় বিজ্ঞাপনের আগে দেয়ার ইচ্ছা ছিল। এখন যদি ওনারা কেউ মামলা করবেন, কেউ এটা-সেটা করবেন। সব সামাল দিয়ে এখন যদি দিতে হয়, দুইটা বিজ্ঞাপন একসাথে দিতে হবে। যদি আমাকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখা হয়। তা না হলে আমার ইচ্ছা ছিল ১৫ এর ফল ঘোষণার আগে ৬ হাজার বিজ্ঞাপনটা দেয়ার। আমি আবার বলছি, আমাকে যদি আপনারা ব্যস্ত রাখেন, তাহলে দুইটা বিজ্ঞাপন একসাথে দিতে হবে। তাতে করে ১৫ এর এরা একটু উপকৃত হবে। অন্যদের তেমন অসুবিধা হবে না। প্রতিযোগিতা বাড়বে, আর কিছুই না।

তাহলে বড় একটা বিজ্ঞাপন আর ৬ হাজার এর বিজ্ঞাপন-এই দুইটা নিয়ে কি পরিকল্পনা? দুই বিজ্ঞাপন কবে আসবে?

উত্তরে এস এম আশফাক হুসেন বলেন, এই বছরের মধ্যেই বড় বিজ্ঞাপনটা আসবে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ বলতে পারছিনা।

তিনি বলেন, আমাদের একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। শিক্ষকদের ভুলে এবারে প্রায় ১ হাজার জনের দুর্গতি হয়েছে। এবার পুরা যাচাই করবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার। যদি সামান্যতম উনিশবিশ পাওয়া যায়, ওই পদ আর দেয়া হবেনা। অনুমোদিত হওয়ার পরে দেয়া হবে। সেকারণে একটু সময় লাগছে। তবে এবছরই দিবো। আমাদের কাছে এখনো আছে সাতমাস। এনটিআরসি এর জন্য ৭মাস বিশাল ব্যাপার। ৭মাসে আমরা চেষ্টা করলে দুইটি বিজ্ঞাপন দিতে পারবো।

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমি আবারো বলছি, আমাদের গ্রাহকদের বলছি, আপনার আমাকে সহযোগিতা করুন। সহযোগিত বলতে এই-অন্যদের কাজ আমার উপর চাপায়েন না। মাউশিতে যে দরখাস্ত করার কথা, সেটা এখানে করে আমাকে যদি পড়তে সময় নষ্ট করান। আপনাদেরই লোকসান হচ্ছে। আমাকে আমার কাজ করতে দিন। মাউশির সেবা মাউশির কাছ থেকে নিন।

তিনি বলেন, খুব দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, আমি জয়েন করার পর প্রায় ১ লাখ নিয়োগের টার্গেট দিয়েছিলাম। এই টার্গেট থেকে বিচ্ছুতি হয়নি। ইতিমধ্যে টার্গেটের ৩৯ হাজার পূরণ করেছি। বাকি আরো ৬০ হাজার কিছুই না। এইটা আমার গ্রাহকদের সহযোগিতার উপর নির্ভর করে।

এস এম আশফাক হুসেন বলেন, আমি এমনও দেখতে পাচ্ছি, কেউ কেউ আছেন উল্টা-পাল্টা মামলা করে। এক আদালতে গিয়ে রায় আনতেছেন ৩৫ দিতে হবে। অন্য আদালতে গিয়ে রায় আনতেছেন ৩৫ বাদ দিতে হবে। এখন বিজ্ঞাপন দিতে গেলে উচ্চতর আদালতে গিয়ে দুই রায়কে চ্যালঞ্জ করতে হবে। উচ্চতর আদালতে গিয়ে চাইতে হবে আমাকে একটা রায় দিন। এই ভাবে সময় নষ্ট হবে। মামলার কারণে গত দুই বছর নিয়োগ একটাও হয়নি। এইভাবে চলতে থাকলে আরও চার বছরেও হবে না। আপনি মামলা করলে আমি মামলার মুখোমুখি হতে বাধ্য। সময় পেছাবে। আমিও আমার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবোনা। আমরা আমাদের কাজের মধ্যে কি প্রমাণ করতে পারিনি যে আমরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে কতটা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আরো ৬-৭ মাস আছে। এর মধ্যে যদি আমি আমার কথা রাখতে না পারি। দুশো এর জায়গায় দু হাজার মামলা করেন। পুরা এনটিআরসি পারলে অচল করে দিন।

বড় নিয়োগটা কত বড় নিয়োগ হতে পারে?

উত্তরে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বলেন, এখন যেহেতু শুন্য পদের তালিকা আসতেছে। সেহেতু নির্দিষ্ট কিছুই বলতে পারবো না। আনুমানিক বলতে পারি এবার ৬০ হাজারে আসার কথা। তবে ৭০ হাজারও হতে পারি, আবার ৫০ হাজারও হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

যেভাবে কপাল খুলছে নিবন্ধনধারীদের

আপডেট টাইম : ০৩:৫০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এই বছরেই পরবর্তী শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হুসেন।

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ৩৯ হাজার পদের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার পদে প্রার্থীই পাওয়া যায়নি। প্রার্থী পাওয়া না যাওয়ার কারণ, সম্ভবত সেগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চল, আবার অনেকে দরখাস্ত করেছে একাধিক। যেখানে সুবিধা হয়েছে সেখান গিয়েছে। যার কারণে আবার বিজ্ঞাপন দিতে হবে। আমাদেরকে যদি এমপিওর নীতিমালার মহাপরিচালক মাউশির কাজে ব্যস্ত না করতেন, এতদিনে এই বিজ্ঞাপন দেয়া হয়ে যেত। আমি এখন ব্যস্ত আছি এইসব সমস্যা সমাধান করতে করতে।

তিনি বলেন, আমাদের যদি একটু সময় দেন, একটু সুযোগ দেন। ওই বিজ্ঞাপনটা বড় বিজ্ঞাপনের আগে দেয়ার ইচ্ছা ছিল। এখন যদি ওনারা কেউ মামলা করবেন, কেউ এটা-সেটা করবেন। সব সামাল দিয়ে এখন যদি দিতে হয়, দুইটা বিজ্ঞাপন একসাথে দিতে হবে। যদি আমাকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখা হয়। তা না হলে আমার ইচ্ছা ছিল ১৫ এর ফল ঘোষণার আগে ৬ হাজার বিজ্ঞাপনটা দেয়ার। আমি আবার বলছি, আমাকে যদি আপনারা ব্যস্ত রাখেন, তাহলে দুইটা বিজ্ঞাপন একসাথে দিতে হবে। তাতে করে ১৫ এর এরা একটু উপকৃত হবে। অন্যদের তেমন অসুবিধা হবে না। প্রতিযোগিতা বাড়বে, আর কিছুই না।

তাহলে বড় একটা বিজ্ঞাপন আর ৬ হাজার এর বিজ্ঞাপন-এই দুইটা নিয়ে কি পরিকল্পনা? দুই বিজ্ঞাপন কবে আসবে?

উত্তরে এস এম আশফাক হুসেন বলেন, এই বছরের মধ্যেই বড় বিজ্ঞাপনটা আসবে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ বলতে পারছিনা।

তিনি বলেন, আমাদের একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। শিক্ষকদের ভুলে এবারে প্রায় ১ হাজার জনের দুর্গতি হয়েছে। এবার পুরা যাচাই করবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার। যদি সামান্যতম উনিশবিশ পাওয়া যায়, ওই পদ আর দেয়া হবেনা। অনুমোদিত হওয়ার পরে দেয়া হবে। সেকারণে একটু সময় লাগছে। তবে এবছরই দিবো। আমাদের কাছে এখনো আছে সাতমাস। এনটিআরসি এর জন্য ৭মাস বিশাল ব্যাপার। ৭মাসে আমরা চেষ্টা করলে দুইটি বিজ্ঞাপন দিতে পারবো।

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমি আবারো বলছি, আমাদের গ্রাহকদের বলছি, আপনার আমাকে সহযোগিতা করুন। সহযোগিত বলতে এই-অন্যদের কাজ আমার উপর চাপায়েন না। মাউশিতে যে দরখাস্ত করার কথা, সেটা এখানে করে আমাকে যদি পড়তে সময় নষ্ট করান। আপনাদেরই লোকসান হচ্ছে। আমাকে আমার কাজ করতে দিন। মাউশির সেবা মাউশির কাছ থেকে নিন।

তিনি বলেন, খুব দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, আমি জয়েন করার পর প্রায় ১ লাখ নিয়োগের টার্গেট দিয়েছিলাম। এই টার্গেট থেকে বিচ্ছুতি হয়নি। ইতিমধ্যে টার্গেটের ৩৯ হাজার পূরণ করেছি। বাকি আরো ৬০ হাজার কিছুই না। এইটা আমার গ্রাহকদের সহযোগিতার উপর নির্ভর করে।

এস এম আশফাক হুসেন বলেন, আমি এমনও দেখতে পাচ্ছি, কেউ কেউ আছেন উল্টা-পাল্টা মামলা করে। এক আদালতে গিয়ে রায় আনতেছেন ৩৫ দিতে হবে। অন্য আদালতে গিয়ে রায় আনতেছেন ৩৫ বাদ দিতে হবে। এখন বিজ্ঞাপন দিতে গেলে উচ্চতর আদালতে গিয়ে দুই রায়কে চ্যালঞ্জ করতে হবে। উচ্চতর আদালতে গিয়ে চাইতে হবে আমাকে একটা রায় দিন। এই ভাবে সময় নষ্ট হবে। মামলার কারণে গত দুই বছর নিয়োগ একটাও হয়নি। এইভাবে চলতে থাকলে আরও চার বছরেও হবে না। আপনি মামলা করলে আমি মামলার মুখোমুখি হতে বাধ্য। সময় পেছাবে। আমিও আমার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবোনা। আমরা আমাদের কাজের মধ্যে কি প্রমাণ করতে পারিনি যে আমরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে কতটা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আরো ৬-৭ মাস আছে। এর মধ্যে যদি আমি আমার কথা রাখতে না পারি। দুশো এর জায়গায় দু হাজার মামলা করেন। পুরা এনটিআরসি পারলে অচল করে দিন।

বড় নিয়োগটা কত বড় নিয়োগ হতে পারে?

উত্তরে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বলেন, এখন যেহেতু শুন্য পদের তালিকা আসতেছে। সেহেতু নির্দিষ্ট কিছুই বলতে পারবো না। আনুমানিক বলতে পারি এবার ৬০ হাজারে আসার কথা। তবে ৭০ হাজারও হতে পারি, আবার ৫০ হাজারও হতে পারে।