ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শরণার্থী নিয়ে একই ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করছে জার্মানি-বাংলাদেশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৮
  • ৩৮৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ অভিবাসন সংকটে ইউরোপের দেশ জার্মানি এবং এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ একই ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করছে বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল। ঢাকায় অভিবাসন সংকট নিয়ে এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

ইনেস পোল বলেন, সিরিয়া থেকে প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী জার্মানিতে আশ্রয় নিয়েছেন। শুরুর দিকে সব ঠিক থাকলেও পরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এর পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, একটি সমাজে অন্য সংস্কৃতির এত মানুষকে একীভূত করা খুবই কঠিন কাজ। দ্বিতীয়ত, অনেকের মনে উগ্রপন্থা ছড়িয়ে পড়ার ভয়ও ঢুকে গেছে। বাংলাদেশে শুরুতে রোহিঙ্গাদের স্বাগত জানালেও, এখন সামাজিক-রাজনৈতিক নানা কারণে বিরুদ্ধ মনোভাব তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মাইগ্রেশন-চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অ্যাপ্রোচেস ইন দ্য ইস্ট অ্যান্ড দ্য ওয়েস্ট’ শীর্ষক এক সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী এবং ডয়চে ভেলের এশিয়া বিভাগের প্রধান দেবারতি গুহ।

ইনেস পোলের সাথে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে আসা দেবারতি গুহ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাবার হিসেবে চাল, ডাল ও তেল দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো ধরনের মাছ বা মাংস তারা পায় না। ফলে কিছু চাল-ডাল স্থানীয় বাজারে অল্প দামে বিক্রি করে তারা সে টাকা দিয়ে মাছ-মাংস কেনে। ফলে ওই অঞ্চলে এক ধরনের সমান্তরাল অর্থনীতির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, ক্যাম্প অঞ্চলে স্থানীয় বাংলাদেশিদের তুলনায় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থানীয়রাই সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছেন বলে মনে করেন তিনি। এর ফলে স্থানীয়রা এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শরণার্থী’ স্ট্যাটাস না দেওয়ায় অনেক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে উল্লেখ করে পোল বলেন, এখানে সবাই মনে করছে রোহিঙ্গারা খুব স্বল্প সময়ের জন্যই বাংলাদেশে থাকবে। এমন দৃষ্টিভঙ্গি রোহিঙ্গাদের জন্য ক্ষতিকর।

তবে তৌফিক ইমরোজ খালিদী এমন অবস্থা সৃষ্টির জন্য দায়ী করেন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে। একদিকে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগে ব্যর্থতা, অন্যদিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দেউলিয়াত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সূত্রঃ সময়ের কণ্ঠস্বর

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শরণার্থী নিয়ে একই ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করছে জার্মানি-বাংলাদেশ

আপডেট টাইম : ১২:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ অভিবাসন সংকটে ইউরোপের দেশ জার্মানি এবং এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ একই ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করছে বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল। ঢাকায় অভিবাসন সংকট নিয়ে এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

ইনেস পোল বলেন, সিরিয়া থেকে প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী জার্মানিতে আশ্রয় নিয়েছেন। শুরুর দিকে সব ঠিক থাকলেও পরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এর পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, একটি সমাজে অন্য সংস্কৃতির এত মানুষকে একীভূত করা খুবই কঠিন কাজ। দ্বিতীয়ত, অনেকের মনে উগ্রপন্থা ছড়িয়ে পড়ার ভয়ও ঢুকে গেছে। বাংলাদেশে শুরুতে রোহিঙ্গাদের স্বাগত জানালেও, এখন সামাজিক-রাজনৈতিক নানা কারণে বিরুদ্ধ মনোভাব তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মাইগ্রেশন-চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অ্যাপ্রোচেস ইন দ্য ইস্ট অ্যান্ড দ্য ওয়েস্ট’ শীর্ষক এক সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী এবং ডয়চে ভেলের এশিয়া বিভাগের প্রধান দেবারতি গুহ।

ইনেস পোলের সাথে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে আসা দেবারতি গুহ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাবার হিসেবে চাল, ডাল ও তেল দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো ধরনের মাছ বা মাংস তারা পায় না। ফলে কিছু চাল-ডাল স্থানীয় বাজারে অল্প দামে বিক্রি করে তারা সে টাকা দিয়ে মাছ-মাংস কেনে। ফলে ওই অঞ্চলে এক ধরনের সমান্তরাল অর্থনীতির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, ক্যাম্প অঞ্চলে স্থানীয় বাংলাদেশিদের তুলনায় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থানীয়রাই সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছেন বলে মনে করেন তিনি। এর ফলে স্থানীয়রা এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শরণার্থী’ স্ট্যাটাস না দেওয়ায় অনেক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে উল্লেখ করে পোল বলেন, এখানে সবাই মনে করছে রোহিঙ্গারা খুব স্বল্প সময়ের জন্যই বাংলাদেশে থাকবে। এমন দৃষ্টিভঙ্গি রোহিঙ্গাদের জন্য ক্ষতিকর।

তবে তৌফিক ইমরোজ খালিদী এমন অবস্থা সৃষ্টির জন্য দায়ী করেন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে। একদিকে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগে ব্যর্থতা, অন্যদিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দেউলিয়াত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সূত্রঃ সময়ের কণ্ঠস্বর