ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাইকোর্টে খালাস পাবেন তারেক, অাশা জয়নুলের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ অক্টোবর ২০১৮
  • ৩৮১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাইকোর্টে খালাস পাবেন বলে মনে করেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, বিচারিক আদালতের দেয়া আজকের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানসহ সব আসামিকে হাইকোর্টে আপিলের মাধ্যমে খালাস করানো হবে।

রায়ের পর আজ বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে জয়নুল আবেদীন এই আশা প্রকাশ করেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) মুফতি হান্নান ও তারেক রহমানের নাম প্রাথমিকভাবে (সাক্ষ্যে) বলেননি। ৪১০ দিন তাকে (মুফতি হান্নান) রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের আইনে আছে একটি মামলায় ১৫ দিনের বেশি কাউকে রিমান্ডে নেওয়া যাবে না। কিন্তু মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে রেখে অমানসিক নির্যাতন করে তারেক রহমানের নাম বলানো হয়েছে। যদিও তারেক রহমানের কোনো সম্পৃক্ততা এখানে ছিল না।

আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, এই মামলায় সাক্ষী ছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা)। মুফতি হান্নান ও প্রধানমন্ত্রী সাক্ষীতে তারেকের নাম বললে বুঝতাম তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। কিন্তু একদিকে তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) তারেক রহমানের নাম বলেননি (সাক্ষ্যে) অন্যদিকে তিনি সাক্ষ্য দিতে আদালতেও যাননি। তাই এই মামলায় তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়ার কিছু নেই। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, মুফতি হান্নানের ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে বিএনপির অনেককে সাজা দেওয়া হয়েছে। লুৎফুজ্জামান বাবর, পিন্টুকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সেই ১৬৪ ধারার জবানবন্দি আদালতে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সাজা হতে পারে না। তাই এই সাজা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।

জয়নুল বলেন, এই সরকার আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদেরকে সাজা দিয়েছে, অথচ মামলায় সাজা দেওয়ার মতো কোনো কিছুই ছিল না। একদিকে তারা আদালতকে ব্যবহার করেছে, অন্যদিকে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য সারা দেশে একটি নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

জয়নুল বলেন, এই মামলায় তারেক রহমানসহ যাদেরকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে আমরা আশা করি, আপিল করে তাদের সবাইকে খালাস করাতে সক্ষম হব।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল থানায় করা হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেয়া হয়েছে। জীবিত ৪৯ আসামির বাকিরা বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইকোর্টে খালাস পাবেন তারেক, অাশা জয়নুলের

আপডেট টাইম : ১০:৩১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ অক্টোবর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাইকোর্টে খালাস পাবেন বলে মনে করেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, বিচারিক আদালতের দেয়া আজকের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানসহ সব আসামিকে হাইকোর্টে আপিলের মাধ্যমে খালাস করানো হবে।

রায়ের পর আজ বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে জয়নুল আবেদীন এই আশা প্রকাশ করেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) মুফতি হান্নান ও তারেক রহমানের নাম প্রাথমিকভাবে (সাক্ষ্যে) বলেননি। ৪১০ দিন তাকে (মুফতি হান্নান) রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের আইনে আছে একটি মামলায় ১৫ দিনের বেশি কাউকে রিমান্ডে নেওয়া যাবে না। কিন্তু মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে রেখে অমানসিক নির্যাতন করে তারেক রহমানের নাম বলানো হয়েছে। যদিও তারেক রহমানের কোনো সম্পৃক্ততা এখানে ছিল না।

আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, এই মামলায় সাক্ষী ছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা)। মুফতি হান্নান ও প্রধানমন্ত্রী সাক্ষীতে তারেকের নাম বললে বুঝতাম তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। কিন্তু একদিকে তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) তারেক রহমানের নাম বলেননি (সাক্ষ্যে) অন্যদিকে তিনি সাক্ষ্য দিতে আদালতেও যাননি। তাই এই মামলায় তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়ার কিছু নেই। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, মুফতি হান্নানের ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে বিএনপির অনেককে সাজা দেওয়া হয়েছে। লুৎফুজ্জামান বাবর, পিন্টুকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সেই ১৬৪ ধারার জবানবন্দি আদালতে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সাজা হতে পারে না। তাই এই সাজা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।

জয়নুল বলেন, এই সরকার আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদেরকে সাজা দিয়েছে, অথচ মামলায় সাজা দেওয়ার মতো কোনো কিছুই ছিল না। একদিকে তারা আদালতকে ব্যবহার করেছে, অন্যদিকে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য সারা দেশে একটি নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

জয়নুল বলেন, এই মামলায় তারেক রহমানসহ যাদেরকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে আমরা আশা করি, আপিল করে তাদের সবাইকে খালাস করাতে সক্ষম হব।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল থানায় করা হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেয়া হয়েছে। জীবিত ৪৯ আসামির বাকিরা বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন।