ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সিদ্ধান্তের ভার এরশাদের ওপর

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ অক্টোবর ২০১৮
  • ৩৮১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কিত দলীয় কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের একক ক্ষমতা পেলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম এবং পার্টির সংসদ সদস্যদের যৌথসভায় সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে না জোটগতভাবে নির্বাচন করবে সে ব্যাপারে পার্টির চেয়ারম্যানই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রেও পার্টির চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করা হবে। আগামী ২০শে অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাপার মহাসমাবেশকে সামনে রেখে এ যৌথসভার আয়োজন করা হয়। বৈঠকে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এমএ সাত্তার, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিরা অংশ নেন। বৈঠকের মাঝখানে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জাপার মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট যাবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আমরা দুইবার জোট গঠন করেছি। সামনেও জোট হবে কি না তা সময়ই বলে দেবে। জাতীয় পার্টি মোড়ে মোড়ে আগাবে। রাজনীতিতে কখন কি ঘটবে তা তো বলা যায় না। এখন একরকম অবস্থা, রাতে আরেকরকম পরিস্থিতি হবে, আবার সূর্যোদয়ের পরে অন্যরকম হবে।

জাতীয় পার্টি অবস্থা বুঝেই সিদ্ধান্ত নেবে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হলে জাতীয় পার্টি তাদের সঙ্গে যুক্ত হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সম্পর্কে আলোচনা হয়নি। আমাদের প্রেসিডিয়াম সভায় অনেক বিষয় আলোচনা হবে। জাপা মহাসচিব আরো বলেন, জাতীয় পার্টি মনে করে জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ অনিবার্য এবং আমরা সবসময়ই নির্বাচনের পক্ষে ছিলাম, এখনো আছি এবং সামনেও থাকবে। তবে, সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে দেশ-বিদেশ কর্তৃক সেটা সমাদৃত হবে। জাতীয় পার্টিও সেটা আশা করে।

জাতীয় পার্টি সবসময়ই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে। নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি তবে, অপেক্ষা করুন। সংবিধান মতেই এটা হবে, আগেও যেমন হয়েছে সে রকমই হবে। এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। সংবিধান মতে জাতীয় বিরোধী দল থাকার কথা। বিএনপি নির্বাচনে না আসলেও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে এমন ইঙ্গিত দিয়ে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, একাদশ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে সেভাবেই এগিয়ে চলছে। সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনটা গ্রহণযোগ্য হবে। না হলেও জাতীয় পার্টি নির্বাচন করবে।

আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেই নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। ব্রিফিংয়ে জাপা মহাসচিব দাবি করেন, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন সিঙ্গাপুর যাননি। এটা একটি উপহাস ও বিভ্রান্তিকর তথ্য। যারা বলেছে তিনি সিঙ্গাপুর গেছেন তারা মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলেছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তখন ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার জোটের বিষয়ে ড. কমালের আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ কেউ তাদের পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য এমন খবর প্রচার করে থাকতে পারে।

এটা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। সে বিষয় পরে জানানো হবে। আবার অনেক বিষয় বলাও ঠিক হবে না। ২০শে অক্টোবরের মহাসমাবেশ প্রসঙ্গে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন,  জাতীয় পার্টি যে সম্মিলিত জোট করেছে তাদের নেতাকর্মীরা এখানে অংশগ্রহণ করবে। এ নিয়ে বনানী কার্যলায়ে আজ লিয়াজোঁ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সিদ্ধান্তের ভার এরশাদের ওপর

আপডেট টাইম : ১০:৩৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ অক্টোবর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কিত দলীয় কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের একক ক্ষমতা পেলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম এবং পার্টির সংসদ সদস্যদের যৌথসভায় সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে না জোটগতভাবে নির্বাচন করবে সে ব্যাপারে পার্টির চেয়ারম্যানই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রেও পার্টির চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করা হবে। আগামী ২০শে অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাপার মহাসমাবেশকে সামনে রেখে এ যৌথসভার আয়োজন করা হয়। বৈঠকে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এমএ সাত্তার, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিরা অংশ নেন। বৈঠকের মাঝখানে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জাপার মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট যাবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আমরা দুইবার জোট গঠন করেছি। সামনেও জোট হবে কি না তা সময়ই বলে দেবে। জাতীয় পার্টি মোড়ে মোড়ে আগাবে। রাজনীতিতে কখন কি ঘটবে তা তো বলা যায় না। এখন একরকম অবস্থা, রাতে আরেকরকম পরিস্থিতি হবে, আবার সূর্যোদয়ের পরে অন্যরকম হবে।

জাতীয় পার্টি অবস্থা বুঝেই সিদ্ধান্ত নেবে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হলে জাতীয় পার্টি তাদের সঙ্গে যুক্ত হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সম্পর্কে আলোচনা হয়নি। আমাদের প্রেসিডিয়াম সভায় অনেক বিষয় আলোচনা হবে। জাপা মহাসচিব আরো বলেন, জাতীয় পার্টি মনে করে জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ অনিবার্য এবং আমরা সবসময়ই নির্বাচনের পক্ষে ছিলাম, এখনো আছি এবং সামনেও থাকবে। তবে, সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে দেশ-বিদেশ কর্তৃক সেটা সমাদৃত হবে। জাতীয় পার্টিও সেটা আশা করে।

জাতীয় পার্টি সবসময়ই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে। নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি তবে, অপেক্ষা করুন। সংবিধান মতেই এটা হবে, আগেও যেমন হয়েছে সে রকমই হবে। এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। সংবিধান মতে জাতীয় বিরোধী দল থাকার কথা। বিএনপি নির্বাচনে না আসলেও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে এমন ইঙ্গিত দিয়ে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, একাদশ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে সেভাবেই এগিয়ে চলছে। সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনটা গ্রহণযোগ্য হবে। না হলেও জাতীয় পার্টি নির্বাচন করবে।

আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেই নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। ব্রিফিংয়ে জাপা মহাসচিব দাবি করেন, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন সিঙ্গাপুর যাননি। এটা একটি উপহাস ও বিভ্রান্তিকর তথ্য। যারা বলেছে তিনি সিঙ্গাপুর গেছেন তারা মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলেছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তখন ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার জোটের বিষয়ে ড. কমালের আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ কেউ তাদের পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য এমন খবর প্রচার করে থাকতে পারে।

এটা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। সে বিষয় পরে জানানো হবে। আবার অনেক বিষয় বলাও ঠিক হবে না। ২০শে অক্টোবরের মহাসমাবেশ প্রসঙ্গে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন,  জাতীয় পার্টি যে সম্মিলিত জোট করেছে তাদের নেতাকর্মীরা এখানে অংশগ্রহণ করবে। এ নিয়ে বনানী কার্যলায়ে আজ লিয়াজোঁ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।