ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী

সফল চাষী রাজা মিয়ার কথা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১২:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • ৬৬০ বার

ছাত্রজীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি তার বাবার গরু-ছাগলের খামারে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর তিনি মনোনিবেশ করেন মৎস্যচাষে। এভাবেই তিনি একদিকে একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠছিলেন, অপরদিকে তিনি গরু-ছাগল পালন ও মৎস্যচাষে দক্ষতা অর্জন করছিলেন।

তার এই জানা ও শেখার চেষ্টা এবং শ্রম বৃথা যায়নি। ফলে আজ তিনি মাছ চাষ, রেণু-পোনা উৎপাদন ও গরু-ছাগলের খামার করে সচ্ছলতার দেখা পেয়েছেন। জানাচ্ছিলাম বগুড়া সদরের রাজা মিয়ার কথা।

পরিশ্রমী রাজা মিয়া কেবল নিজেই স্বাবলম্বী হননি— তার খামারে ২০ জন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন। শুধু তা-ই নয়, তাকে অনুসরণ করে এলাকার বেকার যুবকরা আজ নিজ পায়ে দাঁড়াতে স্বপ্ন দেখছে, অনুপ্রাণিত হচ্ছে।

সফল মৎস্যচাষী রাজা মিয়া বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের বানদীঘি গ্রামের ডা. মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি পশু চিকিৎসক ছিলেন। এলাকায় পশু চিকিৎসার পাশাপাশি নিজেও পশুর খামার গড়ে তোলেন। তার ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে রাজা মিয়া সবার বড়।

কিশোর বয়সেই রাজা মিয়া পড়ালেখার পাশাপাশি ওই খামারে কাজ শুরু করেন। এরপর উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর গরু-ছাগল পালনের পাশাপাশি মৎস্যচাষে মনোনিবেশ করেন। সেখানে সফলতা পেয়ে তিনি মাছের রেণু-পোনা উৎপাদনেও মন দেন। এভাবেই তিল তিল করে গড়ে তোলা তার খামার এখন বেকার যুবকদের কাছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মডেলে পরিণত হয়েছে।

দু’ দশক ধরে রাজা মিয়া গরু-ছাগলের খামার ও মাছ চাষ করে আসছেন। বর্তমানে নিজের ও লিজ নেওয়া ১৮টি পুকুরে রুই, কাতলা, মাগুর শিং, পাবদা, টেংরা, কৈসহ দেশীয় মাছ চাষ করছেন। এভাবেই তিনি দেশী মাছের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

মাছ চাষের সাথে তিনি রেণু-পোনা উৎপাদন করেও ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন রাজা মিয়া। প্রতি কেজি দেশী মাগুর মাছের পোনা ১০০০ টাকা, শিং মাছের পোনা ৮০০ টাকা, টেংরা মাছের পোনা ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এ ছাড়া গরু ও ছাগল পালন করে তিনি সফলতা পেয়েছেন— গরুর দুধ বিক্রি করে ভাল উপার্জন হচ্ছে।

সফল চাষী রাজা মিয়া উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তিনি শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষীর সম্মাননা পেয়েছেন। তবে কিছু সমস্যা তো রয়েই যায়। রাজা মিয়া বললেন সমস্যার কথা, ‘সরকারের মৎস্য বিভাগ ও প্রাণী-সম্পদ বিভাগ নানা পরামর্শ দিলেও ব্যাংকিং সুবিধা দুষ্কর। একবার খামার সম্প্রসারণে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে দিনের পর দিন ঘুরেও ঋণ পাইনি। তাই আর ঋণের জন্য ব্যাংকে যাইনি।’

মাছের ঘাটতি পূরণে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ সফল চাষী বললেন, ‘সরকারি জলাশয় প্রকৃত মৎস্য চাষীদের বরাদ্দ প্রদান, ব্যাংক লোন প্রদান ও মৎস্য বিভাগের নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও পরামর্শ প্রদান করলে এ বিষয়ে আরও সফলতা আসবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

সফল চাষী রাজা মিয়ার কথা

আপডেট টাইম : ১২:১২:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৫

ছাত্রজীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি তার বাবার গরু-ছাগলের খামারে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর তিনি মনোনিবেশ করেন মৎস্যচাষে। এভাবেই তিনি একদিকে একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠছিলেন, অপরদিকে তিনি গরু-ছাগল পালন ও মৎস্যচাষে দক্ষতা অর্জন করছিলেন।

তার এই জানা ও শেখার চেষ্টা এবং শ্রম বৃথা যায়নি। ফলে আজ তিনি মাছ চাষ, রেণু-পোনা উৎপাদন ও গরু-ছাগলের খামার করে সচ্ছলতার দেখা পেয়েছেন। জানাচ্ছিলাম বগুড়া সদরের রাজা মিয়ার কথা।

পরিশ্রমী রাজা মিয়া কেবল নিজেই স্বাবলম্বী হননি— তার খামারে ২০ জন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন। শুধু তা-ই নয়, তাকে অনুসরণ করে এলাকার বেকার যুবকরা আজ নিজ পায়ে দাঁড়াতে স্বপ্ন দেখছে, অনুপ্রাণিত হচ্ছে।

সফল মৎস্যচাষী রাজা মিয়া বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের বানদীঘি গ্রামের ডা. মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি পশু চিকিৎসক ছিলেন। এলাকায় পশু চিকিৎসার পাশাপাশি নিজেও পশুর খামার গড়ে তোলেন। তার ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে রাজা মিয়া সবার বড়।

কিশোর বয়সেই রাজা মিয়া পড়ালেখার পাশাপাশি ওই খামারে কাজ শুরু করেন। এরপর উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর গরু-ছাগল পালনের পাশাপাশি মৎস্যচাষে মনোনিবেশ করেন। সেখানে সফলতা পেয়ে তিনি মাছের রেণু-পোনা উৎপাদনেও মন দেন। এভাবেই তিল তিল করে গড়ে তোলা তার খামার এখন বেকার যুবকদের কাছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মডেলে পরিণত হয়েছে।

দু’ দশক ধরে রাজা মিয়া গরু-ছাগলের খামার ও মাছ চাষ করে আসছেন। বর্তমানে নিজের ও লিজ নেওয়া ১৮টি পুকুরে রুই, কাতলা, মাগুর শিং, পাবদা, টেংরা, কৈসহ দেশীয় মাছ চাষ করছেন। এভাবেই তিনি দেশী মাছের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

মাছ চাষের সাথে তিনি রেণু-পোনা উৎপাদন করেও ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন রাজা মিয়া। প্রতি কেজি দেশী মাগুর মাছের পোনা ১০০০ টাকা, শিং মাছের পোনা ৮০০ টাকা, টেংরা মাছের পোনা ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এ ছাড়া গরু ও ছাগল পালন করে তিনি সফলতা পেয়েছেন— গরুর দুধ বিক্রি করে ভাল উপার্জন হচ্ছে।

সফল চাষী রাজা মিয়া উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তিনি শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষীর সম্মাননা পেয়েছেন। তবে কিছু সমস্যা তো রয়েই যায়। রাজা মিয়া বললেন সমস্যার কথা, ‘সরকারের মৎস্য বিভাগ ও প্রাণী-সম্পদ বিভাগ নানা পরামর্শ দিলেও ব্যাংকিং সুবিধা দুষ্কর। একবার খামার সম্প্রসারণে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে দিনের পর দিন ঘুরেও ঋণ পাইনি। তাই আর ঋণের জন্য ব্যাংকে যাইনি।’

মাছের ঘাটতি পূরণে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ সফল চাষী বললেন, ‘সরকারি জলাশয় প্রকৃত মৎস্য চাষীদের বরাদ্দ প্রদান, ব্যাংক লোন প্রদান ও মৎস্য বিভাগের নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও পরামর্শ প্রদান করলে এ বিষয়ে আরও সফলতা আসবে।’