ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমতে পারে দেড় থেকে দুই শতাংশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০১৭
  • ৪৭৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নিরাপদ  বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সঞ্চয়পত্রে সুদের হার আগামী মাস থেকে কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। এই দফায় সঞ্চয়পত্রে সুদের হার দেড় থেকে দুই শতাংশ কমানো হতে পারে। সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমান অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাবার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রাণলয় সূত্রে জানা গেছে।এর আগে ২০১৫ সালের মে মাসে একবার সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে দেয়া হয়েছিল। তখনো সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার দেড় থেকে দুই শতাংশ কমানো হয়।
চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়কালে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৫৩ হাজার ৬৮৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় ৪০ দশমিক ৫৭ ভাগ বেশি। ও দিকে জুলাই-মার্চ, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার নিট ঋণ গ্রহণ করেছে ৩৭ হাজার ৬৪৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে একই সময়ে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ২৩ হাজার ১৮৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এই বাস্তবতায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করে ৪৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সদ্য ঘোষিত আগামী অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে অর্থবিভাগ থেকে বলা হয়েছে ‘সঞ্চয়পত্র বিক্রির এই গতিধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে এ খাত থেকে ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। এর ফলে সুদ বাবদ সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। যা স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে সরকারের বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। অন্য দিকে সরকারের সম্পদ উদ্বৃত্তের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের হার রিভিউ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।’
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী গত মাসে বলেছেন, আমাদের এখানে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার আসলেই বেশি। সাধারণত ব্যাংক আমানতের সুদের হারের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১-২ শতাংশ বেশি হয়ে থাকে। বর্তমানে এই ব্যবধান ৪ শতাংশের বেশি। এটা চলতে থাকলে এ খাতে বিনিয়োগ আরো বেড়ে যাবে। সরকারের ভবিষ্যৎ ঋণের বোঝা বেড়ে যাবে। সে কারণেই আমরা এটাকে রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি।
বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদের হার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে। অন্য দিকে বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের হার ১১ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। প্রাথমিকভাবে এই হার দেড় থেকে দুই শতাংশ কমানো হতে পারে। কিন্তু বিষয়টি স্পর্শকাতর বিষয় বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। কারণ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্রে অবসরভোগী ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ বেশি বিনিয়োগ করে থাকে। তাই এর পেছনে রাজনীতির বিষয়টি আমাদের ভাবতে হচ্ছে।
২০১৫ সালে ১০ মে বাজারে চালু সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমিয়ে দেয়া হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে প্রায় দুই ভাগ কমিয়ে করা হয় ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যান্য সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও দেড় শতাংশ কমানো হয়েছে।
আগে পাঁচ বছর মেয়াদি এক লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনলে মাসে এক হাজার ৭০ টাকা মুনাফা পাওয়া যেত। ২০১৫ সালে সুদ হার কমানোর পর এখন পাওয়া যাচ্ছে ৯১২ টাকা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমতে পারে দেড় থেকে দুই শতাংশ

আপডেট টাইম : ১২:১৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ নিরাপদ  বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সঞ্চয়পত্রে সুদের হার আগামী মাস থেকে কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। এই দফায় সঞ্চয়পত্রে সুদের হার দেড় থেকে দুই শতাংশ কমানো হতে পারে। সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমান অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাবার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রাণলয় সূত্রে জানা গেছে।এর আগে ২০১৫ সালের মে মাসে একবার সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে দেয়া হয়েছিল। তখনো সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার দেড় থেকে দুই শতাংশ কমানো হয়।
চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়কালে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৫৩ হাজার ৬৮৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় ৪০ দশমিক ৫৭ ভাগ বেশি। ও দিকে জুলাই-মার্চ, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার নিট ঋণ গ্রহণ করেছে ৩৭ হাজার ৬৪৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে একই সময়ে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ২৩ হাজার ১৮৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এই বাস্তবতায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করে ৪৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সদ্য ঘোষিত আগামী অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে অর্থবিভাগ থেকে বলা হয়েছে ‘সঞ্চয়পত্র বিক্রির এই গতিধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে এ খাত থেকে ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। এর ফলে সুদ বাবদ সরকারকে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। যা স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে সরকারের বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। অন্য দিকে সরকারের সম্পদ উদ্বৃত্তের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের হার রিভিউ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।’
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী গত মাসে বলেছেন, আমাদের এখানে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার আসলেই বেশি। সাধারণত ব্যাংক আমানতের সুদের হারের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১-২ শতাংশ বেশি হয়ে থাকে। বর্তমানে এই ব্যবধান ৪ শতাংশের বেশি। এটা চলতে থাকলে এ খাতে বিনিয়োগ আরো বেড়ে যাবে। সরকারের ভবিষ্যৎ ঋণের বোঝা বেড়ে যাবে। সে কারণেই আমরা এটাকে রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি।
বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদের হার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে। অন্য দিকে বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের হার ১১ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। প্রাথমিকভাবে এই হার দেড় থেকে দুই শতাংশ কমানো হতে পারে। কিন্তু বিষয়টি স্পর্শকাতর বিষয় বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। কারণ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সঞ্চয়পত্রে অবসরভোগী ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ বেশি বিনিয়োগ করে থাকে। তাই এর পেছনে রাজনীতির বিষয়টি আমাদের ভাবতে হচ্ছে।
২০১৫ সালে ১০ মে বাজারে চালু সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমিয়ে দেয়া হয়। পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে প্রায় দুই ভাগ কমিয়ে করা হয় ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যান্য সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও দেড় শতাংশ কমানো হয়েছে।
আগে পাঁচ বছর মেয়াদি এক লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনলে মাসে এক হাজার ৭০ টাকা মুনাফা পাওয়া যেত। ২০১৫ সালে সুদ হার কমানোর পর এখন পাওয়া যাচ্ছে ৯১২ টাকা।