ঢাকা ০৯:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী ওএসডি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তিন যুগ পর ভোটগ্রহণ অধিবেশন ডাকা হবে না: চিফ হুইপ ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রদল সভাপতি বললেন ‘গুজব’ ঢাকায় ‘র’ প্রধানের রহস্যজনক সফর আদালতে আসেননি পরীমনি, মাদক মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার, আচরণবিধি চূড়ান্ত করল ইসি

অতি উচ্চাভিলাষী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০১৭
  • ৩১৭ বার

প্রস্তাবিত বাজেট অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতা বিবর্জিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, এ বাজেট দিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এই বাজেট হলো সরকারের টাকা আয় করার বাজেট। আর এই বাজেটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বেশি মনোযোগী হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু গাণিতিক হিসাবই প্রাধান্য পেয়েছে। জিডিপি’র যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা পূরণ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা। গতকাল জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তারা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতা বিবর্জিত। এ বাজেটকে নির্বাচনী বাজেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নিতান্তই অবাস্তব বাজেট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন বাজেট কখনও ঘোষণা করা হয়নি। কেননা বাজেট বাস্তবায়নে আমাদের অর্থ সংগ্রহের মতো ভালো ব্যবস্থা নেই। কিংবা ব্যয়েরও সামর্থ্য নেই।
বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। অবশ্য পরে সেটা সংশোধনের মাধ্যমে বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। যেখানে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার মতো কাটছাঁট করা হয়েছে। প্রতি অর্থবছরেই বাজেটের শেষের দিকে এসে সংশোধন করা হয়। আর তখন দেখানো হয় বাজেটে সফলতা অর্জন হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেটে বিশেষ করে রাজস্ব আহরণ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন কোনো ক্ষেত্রেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু গাণিতিক হিসাবই প্রধান্য পেয়েছে। আগামী অর্থবছরের জন্য ধার্যকৃত ৭.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বাজেটের যে গাণিতিক হিসাব রয়েছে, তা থেকে এবারের বাজেটও ভিন্ন কিছু নয়। এই বাজেট হচ্ছে সরকারের টাকা আয়ের বাজেট। সরকার টাকা আয় করবে আর সরকারই ভোগ করবে। তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগের কোনো ক্ষেত্র তৈরি হবে না। শিল্পের উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নেই। এক পোশাক শিল্পের উপরেই বাজেটে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে অন্য শিল্প গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। শিল্প-বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থানের বাড়বে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, বিশাল বাজেটের জন্য সাধারণ মানুষের পকেট কেটে টাকা আদায় করা হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বাজেটে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড পাবলিক পলিসি বিভাগের শিক্ষক ড. মিজানুর রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে এটা অনেক বড় বাজেট। বাজেটে জিডিপি’র যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। আগামী বাজেটে সরকারের অর্থ আয়ের যে পরিকল্পনা তাতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। কারণ রাজস্ব আয় বাড়াতে কর হার না বাড়িয়ে করজাল সম্প্রসারিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেটা প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, বাজেটে সরকার প্রবৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশ অর্জনের প্রত্যাশা করছে। তবে এই পরিমাণ অর্জন কতটা সম্ভব তা বোধগম্য নয়। তবে বাজেটের ভালো দিক হলো বড় বড় প্রকল্পে অর্থায়ন বাড়িয়েছে। যা বাজেটের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। এতে মনে হচ্ছে, এই বাজেটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বেশি মনোযোগী হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেটে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও রয়েছে।
এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তদারকির মান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে অনেক কিছুই প্রতিফলিত হয়েছে। আবার আমাদের অনেক প্রস্তাব প্রতিফিলত হয়নি। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দিতে চান। তবে ভ্যাট, ট্যাক্স যৌক্তিক করতে হবে। ব্যক্তিশ্রেণির কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু কমানো হয়নি। আশা করছি চূড়ান্ত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমাদের প্রস্তাব বিবেচনায় রাখবেন বলে তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’- নাম দিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের

অতি উচ্চাভিলাষী

আপডেট টাইম : ০৫:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০১৭

প্রস্তাবিত বাজেট অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতা বিবর্জিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, এ বাজেট দিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এই বাজেট হলো সরকারের টাকা আয় করার বাজেট। আর এই বাজেটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বেশি মনোযোগী হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু গাণিতিক হিসাবই প্রাধান্য পেয়েছে। জিডিপি’র যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা পূরণ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা। গতকাল জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তারা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতা বিবর্জিত। এ বাজেটকে নির্বাচনী বাজেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নিতান্তই অবাস্তব বাজেট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন বাজেট কখনও ঘোষণা করা হয়নি। কেননা বাজেট বাস্তবায়নে আমাদের অর্থ সংগ্রহের মতো ভালো ব্যবস্থা নেই। কিংবা ব্যয়েরও সামর্থ্য নেই।
বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। অবশ্য পরে সেটা সংশোধনের মাধ্যমে বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। যেখানে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার মতো কাটছাঁট করা হয়েছে। প্রতি অর্থবছরেই বাজেটের শেষের দিকে এসে সংশোধন করা হয়। আর তখন দেখানো হয় বাজেটে সফলতা অর্জন হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেটে বিশেষ করে রাজস্ব আহরণ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন কোনো ক্ষেত্রেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। প্রস্তাবিত বাজেটে শুধু গাণিতিক হিসাবই প্রধান্য পেয়েছে। আগামী অর্থবছরের জন্য ধার্যকৃত ৭.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বাজেটের যে গাণিতিক হিসাব রয়েছে, তা থেকে এবারের বাজেটও ভিন্ন কিছু নয়। এই বাজেট হচ্ছে সরকারের টাকা আয়ের বাজেট। সরকার টাকা আয় করবে আর সরকারই ভোগ করবে। তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগের কোনো ক্ষেত্র তৈরি হবে না। শিল্পের উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নেই। এক পোশাক শিল্পের উপরেই বাজেটে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে অন্য শিল্প গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। শিল্প-বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থানের বাড়বে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, বিশাল বাজেটের জন্য সাধারণ মানুষের পকেট কেটে টাকা আদায় করা হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বাজেটে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড পাবলিক পলিসি বিভাগের শিক্ষক ড. মিজানুর রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে এটা অনেক বড় বাজেট। বাজেটে জিডিপি’র যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। আগামী বাজেটে সরকারের অর্থ আয়ের যে পরিকল্পনা তাতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। কারণ রাজস্ব আয় বাড়াতে কর হার না বাড়িয়ে করজাল সম্প্রসারিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেটা প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি বলেন, বাজেটে সরকার প্রবৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশ অর্জনের প্রত্যাশা করছে। তবে এই পরিমাণ অর্জন কতটা সম্ভব তা বোধগম্য নয়। তবে বাজেটের ভালো দিক হলো বড় বড় প্রকল্পে অর্থায়ন বাড়িয়েছে। যা বাজেটের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। এতে মনে হচ্ছে, এই বাজেটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বেশি মনোযোগী হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেটে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও রয়েছে।
এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তদারকির মান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে অনেক কিছুই প্রতিফলিত হয়েছে। আবার আমাদের অনেক প্রস্তাব প্রতিফিলত হয়নি। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দিতে চান। তবে ভ্যাট, ট্যাক্স যৌক্তিক করতে হবে। ব্যক্তিশ্রেণির কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু কমানো হয়নি। আশা করছি চূড়ান্ত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমাদের প্রস্তাব বিবেচনায় রাখবেন বলে তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’- নাম দিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।