ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
১৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা মহররমের চাঁদ দেখা গেছে ২৬ জুন সারাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র আশুরা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী প্রতিটি জেলায় খামার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী আত্রাই নদীতে অবৈধ সৌতিজালের বিরুদ্ধে অভিযান নেটওয়ার্ক খুঁজতে আম গাছে প্রধান শিক্ষক, কী ঘটেছিল সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দেশে ফেরাতে আরব আমিরাতকে দুদকের চিঠি মাদরাসা শিক্ষকদের মে মাসের বেতন বিলম্ব: দ্রুত সমাধান ও স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের যুব সমাজকে মাদকমুক্ত করতে খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জোর দিতে হবে রাত পোহালেই আর্জেন্টিনার ম্যাচ, মাঠে নামলেই ইতিহাস গড়বেন মেসি

ইলিশ নিয়ে কারসাজি ব্যবসায়ীদের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ এপ্রিল ২০১৭
  • ৪৩১ বার

সবুজবাগের বাসিন্দা ইশরাত পারভীন। পরিবারের সঙ্গে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য ইলিশ কিনতে এসেছেন খিলগাঁও বাজারে। একটু দেখে শুনে এক ব্যবসায়ীর কাছে এক জোড়া ইলিশ দামাদামি করতে গিয়ে হয়েছেন অবাক। গত সপ্তাহে যে ইলিশ তিনি কিনেছেন ১২০০ টাকা জোড়া, আজ (গতকাল) সেই ইলিশের দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা ২ হাজার টাকা। অনেকটা রাগ করে বিক্রেতাকে তিনি বলছেন, গত সপ্তাহে আমি আপনার কাছ থেকে ১২০০ টাকা দিয়ে এরকম সাইজের ইলিশ নিয়েছি। এখন রাতারাতি এত দাম বেড়ে গেল কীভাবে। বিক্রেতা আলমগীর তখন বলছেন, আপা সামনে পহেলা বৈশাখ। আমাদেরকে বাজার থেকে এখন বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। তাই একটু বেশি দাম না নিলে লোকসান গুনতে হবে। একই অবস্থা মালিবাগের বাসিন্দা আলী হোসেনের। তিনিও মালিবাগ বাজারে ইলিশ কিনতে এসেছেন। ১ কেজি ওজনের ১ জোড়া ইলিশের দাম শুনে ওনার চোখ উঠেছে কপালে। ইলিশ ব্যবসায়ী হায়দার ১ জোড়া ইলিশের দাম হাকাচ্ছেন সাড়ে ৫ হাজার টাকা। অনেক দামাদামি করেও বিক্রেতা ৫শ টাকার বেশি দাম কমাননি। অনেকটা হতাশ হয়ে আলী হোসেন ইলিশ না কিনে অন্য মাছ কিনে বাজার থেকে চলে গেলেন। আলী হোসেন বলেন, আমি প্রতিদিনই এই বাজার থেকে মাছ, মাংস, সবজিসহ অন্যান্য পণ্য ক্রয় করি। দুদিন আগেও ১ হালি ইলিশ আমি কিনেছি ৫ হাজার টাকায়। আর আজ প্রায় একই সাইজের ১ জোড়া ইলিশের দাম নিচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। পহেলা বৈশাখের এখনো এক সপ্তাহ বাকি। কিন্তু তারা এখনই দাম চাইছে আকাশচুম্বী। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে অযথাই বাড়তি দাম নেন। এভাবে বাড়তি দাম নিলে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ঘরের মানুষেরা তো ইলিশ খেতে পারবে না। সরজমিন রাজধানীর খিলগাঁও, মালিবাগ, কাওরানবাজার, মোহাম্মদপুর, কাঁঠালবাগানসহ আরো কিছু বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইলিশ মাছের বিক্রেতারা ক্রেতার কাছ থেকে পহেলা বৈশাখের নামে বাড়তি দাম নিচ্ছে। ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৯০০-১০০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশ ১৪০০-১৫০০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০-২৫০০ টাকা এবং ১ কেজির ওপরের ইলিশ ৩০০০-৩৫০০ টাকা বিক্রি করছে। অথচ যাত্রাবাড়ী পাইকারি আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুচরা ব্যবসায়ীরা যে দামে ইলিশ বিক্রি করছে সে তুলনায় আড়তে দাম অনেক কম। যাত্রাবাড়ী আড়তের ইলিশ ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন জানান, ৫০০-৫৫০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ ৪৫০-৫০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশ ৬০০-৭০০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১২০০-১৩০০ টাকা আর ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ১৫০০-১৬০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। অসিম কুমার নামের আরেক ব্যবসায়ী জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর চাহিদার চেয়ে বেশি ইলিশ মজুদ করা আছে। এজন্য এ বছর আহামরি কোনো দাম বাড়বে না। তবে কিছু অসাধু খুচরা ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় বাজারে ইলিশের আমদানি কম থাকায় দাম বাড়াতে পারেন বলে তিনি মনে করেন। খিলগাঁও বাজারের খুচরা ইলিশ বিক্রেতা আব্দুস সালাম জানান, পহেলা বৈশাখ আসলেই ইলিশের বাজার একটু ঊর্ধ্বমুখী থাকে। কারণ এসময় ধনী-গরিব সবাই ইলিশ কিনতে আসে। এজন্য বাজারে ইলিশের একটা চাহিদা তৈরি হয়। তাই দাম এমনিতেই বেড়ে যায়। তিনি বলেন, এখনো পুরোপুরি দাম বাড়েনি। আগামী বুধ এবং বৃহস্পতিবার ইলিশের দাম অনেক বেড়ে যাবে। কাওরান বাজারের ইলিশ বিক্রেতা মো .মাসুদ জানান, দাম এখনো ততটা বাড়েনি। ছোট ইলিশে ২০০-৩০০ টাকা আর বড় ইলিশে ৪০০-৫০০ টাকা কেজি প্রতি বেড়েছে। তবে দু-একদিনের ভেতরে আরো অনেক বাড়বে। কাওরান বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ফার্মগেটের বাসিন্দা জালাল জানান, আজকেই যদি এত দাম হয়, তবে দুদিন পরে আর বাজারে আসাই যাবে না। তিনি বলেন, আমার জানামতে এ বছর ইলিশের মৌসুমে অনেক ইলিশ মজুদ করেছেন বড় বড় ব্যবসায়ীরা। তার পরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দাম বেশি নিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাওরান বাজারের এক ব্যবসায়ী এক ক্রেতার কাছে ১ জোড়া ইলিশ সাড়ে ৫ হাজার টাকা দাম হাঁকছেন। এতে বেশি দাম কেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বছরের এ একটা সময়ই ইলিশের বেচাবিক্রি একটু বেশি থাকে। তাই এ সময়টা আমরা একটু দামে বিক্রি করি কারণ এখন ক্রেতারা অন্য মাছ তেমন একটা কিনবে না। সবারই লক্ষ্য থাকে ইলিশ কেনার। এ জন্য চাহিদা তৈরি হয় বাজারে। ব্যবসায়ীরা একটু বেশি দাম নেবে। মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ীরাও বেশি দামে ইলিশ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সেখানকার একাধিক ক্রেতা। শাহিনা সুলতানা নামের এক ক্রেতা দাবি করছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিপ্রতি অন্তত ৩০০-৪০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। দু-একদিন পর আরো দাম বাড়বে বলে তিনি মনে করছেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন অন্য কথা। তারা বলছেন এখনো দাম বাড়েনি। তবে কয়েক দিন পর দাম বাড়বে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা

ইলিশ নিয়ে কারসাজি ব্যবসায়ীদের

আপডেট টাইম : ০৯:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ এপ্রিল ২০১৭

সবুজবাগের বাসিন্দা ইশরাত পারভীন। পরিবারের সঙ্গে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য ইলিশ কিনতে এসেছেন খিলগাঁও বাজারে। একটু দেখে শুনে এক ব্যবসায়ীর কাছে এক জোড়া ইলিশ দামাদামি করতে গিয়ে হয়েছেন অবাক। গত সপ্তাহে যে ইলিশ তিনি কিনেছেন ১২০০ টাকা জোড়া, আজ (গতকাল) সেই ইলিশের দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা ২ হাজার টাকা। অনেকটা রাগ করে বিক্রেতাকে তিনি বলছেন, গত সপ্তাহে আমি আপনার কাছ থেকে ১২০০ টাকা দিয়ে এরকম সাইজের ইলিশ নিয়েছি। এখন রাতারাতি এত দাম বেড়ে গেল কীভাবে। বিক্রেতা আলমগীর তখন বলছেন, আপা সামনে পহেলা বৈশাখ। আমাদেরকে বাজার থেকে এখন বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। তাই একটু বেশি দাম না নিলে লোকসান গুনতে হবে। একই অবস্থা মালিবাগের বাসিন্দা আলী হোসেনের। তিনিও মালিবাগ বাজারে ইলিশ কিনতে এসেছেন। ১ কেজি ওজনের ১ জোড়া ইলিশের দাম শুনে ওনার চোখ উঠেছে কপালে। ইলিশ ব্যবসায়ী হায়দার ১ জোড়া ইলিশের দাম হাকাচ্ছেন সাড়ে ৫ হাজার টাকা। অনেক দামাদামি করেও বিক্রেতা ৫শ টাকার বেশি দাম কমাননি। অনেকটা হতাশ হয়ে আলী হোসেন ইলিশ না কিনে অন্য মাছ কিনে বাজার থেকে চলে গেলেন। আলী হোসেন বলেন, আমি প্রতিদিনই এই বাজার থেকে মাছ, মাংস, সবজিসহ অন্যান্য পণ্য ক্রয় করি। দুদিন আগেও ১ হালি ইলিশ আমি কিনেছি ৫ হাজার টাকায়। আর আজ প্রায় একই সাইজের ১ জোড়া ইলিশের দাম নিচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। পহেলা বৈশাখের এখনো এক সপ্তাহ বাকি। কিন্তু তারা এখনই দাম চাইছে আকাশচুম্বী। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে অযথাই বাড়তি দাম নেন। এভাবে বাড়তি দাম নিলে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ঘরের মানুষেরা তো ইলিশ খেতে পারবে না। সরজমিন রাজধানীর খিলগাঁও, মালিবাগ, কাওরানবাজার, মোহাম্মদপুর, কাঁঠালবাগানসহ আরো কিছু বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইলিশ মাছের বিক্রেতারা ক্রেতার কাছ থেকে পহেলা বৈশাখের নামে বাড়তি দাম নিচ্ছে। ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৯০০-১০০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশ ১৪০০-১৫০০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০-২৫০০ টাকা এবং ১ কেজির ওপরের ইলিশ ৩০০০-৩৫০০ টাকা বিক্রি করছে। অথচ যাত্রাবাড়ী পাইকারি আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুচরা ব্যবসায়ীরা যে দামে ইলিশ বিক্রি করছে সে তুলনায় আড়তে দাম অনেক কম। যাত্রাবাড়ী আড়তের ইলিশ ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন জানান, ৫০০-৫৫০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ ৪৫০-৫০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশ ৬০০-৭০০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১২০০-১৩০০ টাকা আর ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ১৫০০-১৬০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। অসিম কুমার নামের আরেক ব্যবসায়ী জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর চাহিদার চেয়ে বেশি ইলিশ মজুদ করা আছে। এজন্য এ বছর আহামরি কোনো দাম বাড়বে না। তবে কিছু অসাধু খুচরা ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় বাজারে ইলিশের আমদানি কম থাকায় দাম বাড়াতে পারেন বলে তিনি মনে করেন। খিলগাঁও বাজারের খুচরা ইলিশ বিক্রেতা আব্দুস সালাম জানান, পহেলা বৈশাখ আসলেই ইলিশের বাজার একটু ঊর্ধ্বমুখী থাকে। কারণ এসময় ধনী-গরিব সবাই ইলিশ কিনতে আসে। এজন্য বাজারে ইলিশের একটা চাহিদা তৈরি হয়। তাই দাম এমনিতেই বেড়ে যায়। তিনি বলেন, এখনো পুরোপুরি দাম বাড়েনি। আগামী বুধ এবং বৃহস্পতিবার ইলিশের দাম অনেক বেড়ে যাবে। কাওরান বাজারের ইলিশ বিক্রেতা মো .মাসুদ জানান, দাম এখনো ততটা বাড়েনি। ছোট ইলিশে ২০০-৩০০ টাকা আর বড় ইলিশে ৪০০-৫০০ টাকা কেজি প্রতি বেড়েছে। তবে দু-একদিনের ভেতরে আরো অনেক বাড়বে। কাওরান বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ফার্মগেটের বাসিন্দা জালাল জানান, আজকেই যদি এত দাম হয়, তবে দুদিন পরে আর বাজারে আসাই যাবে না। তিনি বলেন, আমার জানামতে এ বছর ইলিশের মৌসুমে অনেক ইলিশ মজুদ করেছেন বড় বড় ব্যবসায়ীরা। তার পরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দাম বেশি নিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাওরান বাজারের এক ব্যবসায়ী এক ক্রেতার কাছে ১ জোড়া ইলিশ সাড়ে ৫ হাজার টাকা দাম হাঁকছেন। এতে বেশি দাম কেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বছরের এ একটা সময়ই ইলিশের বেচাবিক্রি একটু বেশি থাকে। তাই এ সময়টা আমরা একটু দামে বিক্রি করি কারণ এখন ক্রেতারা অন্য মাছ তেমন একটা কিনবে না। সবারই লক্ষ্য থাকে ইলিশ কেনার। এ জন্য চাহিদা তৈরি হয় বাজারে। ব্যবসায়ীরা একটু বেশি দাম নেবে। মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ীরাও বেশি দামে ইলিশ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সেখানকার একাধিক ক্রেতা। শাহিনা সুলতানা নামের এক ক্রেতা দাবি করছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিপ্রতি অন্তত ৩০০-৪০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। দু-একদিন পর আরো দাম বাড়বে বলে তিনি মনে করছেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন অন্য কথা। তারা বলছেন এখনো দাম বাড়েনি। তবে কয়েক দিন পর দাম বাড়বে।