ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী ওএসডি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তিন যুগ পর ভোটগ্রহণ অধিবেশন ডাকা হবে না: চিফ হুইপ ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রদল সভাপতি বললেন ‘গুজব’ ঢাকায় ‘র’ প্রধানের রহস্যজনক সফর আদালতে আসেননি পরীমনি, মাদক মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার, আচরণবিধি চূড়ান্ত করল ইসি

বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শের ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করলেন শেখ রেহানা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মার্চ ২০১৭
  • ৩৯০ বার

আমরা যখন শিশু ছিলাম, তখন অধিকাংশ সময় বাবা ছিলেন কারাগারে। তাই অধিকাংশ সময় আমরা বাবার স্নেহ ও ভালবাসা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আমি যখন তোমাদের মত ছোট ছিলাম, তখন আমার বাবা অধিকাংশ সময় ছিলেন কারাগারে, লড়াই করেছেন দেশের জন্য বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ রেহানা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মদিন উপলক্ষে সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা শিশুদের সঙ্গে আলাপচারিতায় শৈশবে তার পিতার সংস্পর্শের স্মৃতিচারণ করেন।

তিনি যখন শিশুদের প্রশ্ন করেন কে তোমাদেরকে স্কুলে নিয়ে যায়, জবাবে অধিকাংশ শিশুই জানায় তাদের বাবা। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমি তোমাদের মতো ভাগ্যবান ছিলাম না। অধিকাংশ সময়ই হয় আমি একা যেতাম, নয়তো আমার মা স্কুলে নিয়ে যেতেন। ব্যতিক্রম হচ্ছে

বাবা যখন কারাগারের বাইরে থাকতেন, তিনি আমাকে স্কুলে নিয়ে যেতেন।’

শেখ রেহানা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন কাজ থেকে ফেরার সময় তাকে স্কুল থেকে তুলে নিতেন তখন ঈদের আনন্দের মতো খুশি লাগতো। ঈদের মতো ছুটির দিনগুলোতে অন্যান্য শিশুরা যখন বাবার সঙ্গে দোকানে গিয়ে কি কেনাকাটা করেছেন তা নিয়ে একে অপরের সঙ্গে গল্প করতো, তখন আমি নীরব থাকতাম। এক ছুটির দিন বাবা যখন বাড়িতে ছিলেন তখন আমি তাকে জোর করে নিউমার্কেট নিয়ে যাই। বঙ্গবন্ধু তাকে নিউমার্কেট নিয়ে যান এবং আইসক্রিম ও নতুন জামা-কাপড় কিনে দেন। সেদিন খুশিতে আমি নেচে উঠি।’

শেখ রেহানা বঙ্গবন্ধুর মতো মহান ব্যক্তিদের আরো বেশি জানার জন্য শিশুদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে কিভাবে জনগণকে সাহায্য করা যায়, জনগণের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা যায় এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো যায়, তা জানা যায়। তিনি মনোযোগ সহকারে পড়ালেখা করার এবং স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখার জন্য শিশুদের পরামর্শ দেন।

শেখ রেহানা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার বয়স যখন ৩ থেকে ৪ বছর তখন তার পরিবার এই বাড়িতে ওঠে। বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারের বাইরে থাকতেন, তখন বাড়িতে তার সঙ্গে বাস্কেট বল ও ব্যাডমিন্টন খেলতেন। কারামুক্ত হয়ে যখন বাড়িতে থাকতেন, তখন তিনি তার সঙ্গে কথা বলতেন, কারাগারের গল্প শোনাতেন।

শেখ রেহানা বঙ্গবন্ধু কোথায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পিতা-মাতার নাম কি শিশুদের জিজ্ঞাসা করলে তারা সঠিকভাবে জবাব দেয়। শেখ রেহানা শিশুদের জিজ্ঞাসা করেন তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে জানে কি-না। এ সময় শিশুদের সাথে সাথে তিনিও বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের

বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শের ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করলেন শেখ রেহানা

আপডেট টাইম : ১২:১৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মার্চ ২০১৭

আমরা যখন শিশু ছিলাম, তখন অধিকাংশ সময় বাবা ছিলেন কারাগারে। তাই অধিকাংশ সময় আমরা বাবার স্নেহ ও ভালবাসা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আমি যখন তোমাদের মত ছোট ছিলাম, তখন আমার বাবা অধিকাংশ সময় ছিলেন কারাগারে, লড়াই করেছেন দেশের জন্য বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ রেহানা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মদিন উপলক্ষে সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা শিশুদের সঙ্গে আলাপচারিতায় শৈশবে তার পিতার সংস্পর্শের স্মৃতিচারণ করেন।

তিনি যখন শিশুদের প্রশ্ন করেন কে তোমাদেরকে স্কুলে নিয়ে যায়, জবাবে অধিকাংশ শিশুই জানায় তাদের বাবা। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমি তোমাদের মতো ভাগ্যবান ছিলাম না। অধিকাংশ সময়ই হয় আমি একা যেতাম, নয়তো আমার মা স্কুলে নিয়ে যেতেন। ব্যতিক্রম হচ্ছে

বাবা যখন কারাগারের বাইরে থাকতেন, তিনি আমাকে স্কুলে নিয়ে যেতেন।’

শেখ রেহানা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন কাজ থেকে ফেরার সময় তাকে স্কুল থেকে তুলে নিতেন তখন ঈদের আনন্দের মতো খুশি লাগতো। ঈদের মতো ছুটির দিনগুলোতে অন্যান্য শিশুরা যখন বাবার সঙ্গে দোকানে গিয়ে কি কেনাকাটা করেছেন তা নিয়ে একে অপরের সঙ্গে গল্প করতো, তখন আমি নীরব থাকতাম। এক ছুটির দিন বাবা যখন বাড়িতে ছিলেন তখন আমি তাকে জোর করে নিউমার্কেট নিয়ে যাই। বঙ্গবন্ধু তাকে নিউমার্কেট নিয়ে যান এবং আইসক্রিম ও নতুন জামা-কাপড় কিনে দেন। সেদিন খুশিতে আমি নেচে উঠি।’

শেখ রেহানা বঙ্গবন্ধুর মতো মহান ব্যক্তিদের আরো বেশি জানার জন্য শিশুদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে কিভাবে জনগণকে সাহায্য করা যায়, জনগণের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা যায় এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো যায়, তা জানা যায়। তিনি মনোযোগ সহকারে পড়ালেখা করার এবং স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখার জন্য শিশুদের পরামর্শ দেন।

শেখ রেহানা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার বয়স যখন ৩ থেকে ৪ বছর তখন তার পরিবার এই বাড়িতে ওঠে। বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারের বাইরে থাকতেন, তখন বাড়িতে তার সঙ্গে বাস্কেট বল ও ব্যাডমিন্টন খেলতেন। কারামুক্ত হয়ে যখন বাড়িতে থাকতেন, তখন তিনি তার সঙ্গে কথা বলতেন, কারাগারের গল্প শোনাতেন।

শেখ রেহানা বঙ্গবন্ধু কোথায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পিতা-মাতার নাম কি শিশুদের জিজ্ঞাসা করলে তারা সঠিকভাবে জবাব দেয়। শেখ রেহানা শিশুদের জিজ্ঞাসা করেন তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে জানে কি-না। এ সময় শিশুদের সাথে সাথে তিনিও বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’