ঢাকা ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

স্প্যানিশ সৌন্দর্যের বিশ্বজয়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ১২ বার
চার বছর আগে কাতারে লিওনেল মেসির হাত ধরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপূরণ হয়েছিল আর্জেন্টিনার। এবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই স্বপ্নের পুনরাবৃত্তি হলো না। ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে অতিরিক্ত সময়ে পাওয়া একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিল স্পেন।
পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য। বলের দখল, দ্রুতগতির পাসিং, উচ্চ প্রেসিং এবং ধারাবাহিক আক্রমণে শুরু থেকেই চাপে ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথম পাঁচ মিনিটেই লামিনে ইয়ামালের নিশ্চিত গোলের সুযোগ দুর্দান্তভাবে ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এরপর ফেরান তোরেস, দানি ওলমো, মিকেল ওইয়ারসাবালদের একের পর এক আক্রমণও প্রতিহত করেন তিনি।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা ম্যাচজুড়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতেই পারেনি। স্পেনের আগ্রাসী প্রেসিংয়ে লিওনেল মেসিদের মাঝমাঠ প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও স্পষ্ট গোলের সুযোগ খুব কমই তৈরি করতে পারে স্কালোনির দল।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য শেষ হয়। বিরতির পর কৌশলগত পরিবর্তন আনেন দুই কোচ। স্পেন মাঠে নামায় পেদ্রি ও ফেরান তোরেসকে, আর আর্জেন্টিনা লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মলিনাকে নামিয়ে মাঝমাঠ ও রক্ষণে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করে। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্পেনের হাতেই থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা একের পর এক ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন। বদলি নেমে রদ্রিকে ফাউল করে সতর্ক হন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। পরে ম্যাচের শেষ দিকে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এর মধ্যেও স্পেনের আধিপত্য অব্যাহত থাকে। ৯৬তম মিনিটে মিকেল মেরিনো জালে বল পাঠালেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ওপর ফাউলের কারণে সেটি বাতিল করে দেন রেফারি।
তবে স্পেনের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় স্পেন। দীর্ঘ সময় ধরে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া স্প্যানিশরা সেই এক গোলেই নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের শিরোপা। গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা, কিন্তু একজন কম নিয়ে খেলা দলটির পক্ষে আর সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি।
হারের পরও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। অসংখ্য দুর্দান্ত সেভ করে তিনি ম্যাচের শেষ পর্যন্ত দলকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত স্পেনের ধারাবাহিক আক্রমণ ও নিখুঁত দলীয় ফুটবলের সামনে হার মানতেই হয়েছে তাকে।
এই জয়ে নতুন প্রজন্মের স্পেন নিজেদের আধিপত্যের ঘোষণা দিল বিশ্ব ফুটবলে। লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রি, দানি ওলমো, রদ্রি ও সতীর্থদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে বিশ্বকাপের ট্রফি ফিরল স্পেনের ঘরে। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

স্প্যানিশ সৌন্দর্যের বিশ্বজয়

আপডেট টাইম : ১২:৪২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
চার বছর আগে কাতারে লিওনেল মেসির হাত ধরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপূরণ হয়েছিল আর্জেন্টিনার। এবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই স্বপ্নের পুনরাবৃত্তি হলো না। ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে অতিরিক্ত সময়ে পাওয়া একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিল স্পেন।
পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য। বলের দখল, দ্রুতগতির পাসিং, উচ্চ প্রেসিং এবং ধারাবাহিক আক্রমণে শুরু থেকেই চাপে ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথম পাঁচ মিনিটেই লামিনে ইয়ামালের নিশ্চিত গোলের সুযোগ দুর্দান্তভাবে ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এরপর ফেরান তোরেস, দানি ওলমো, মিকেল ওইয়ারসাবালদের একের পর এক আক্রমণও প্রতিহত করেন তিনি।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা ম্যাচজুড়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতেই পারেনি। স্পেনের আগ্রাসী প্রেসিংয়ে লিওনেল মেসিদের মাঝমাঠ প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও স্পষ্ট গোলের সুযোগ খুব কমই তৈরি করতে পারে স্কালোনির দল।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য শেষ হয়। বিরতির পর কৌশলগত পরিবর্তন আনেন দুই কোচ। স্পেন মাঠে নামায় পেদ্রি ও ফেরান তোরেসকে, আর আর্জেন্টিনা লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মলিনাকে নামিয়ে মাঝমাঠ ও রক্ষণে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করে। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্পেনের হাতেই থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা একের পর এক ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন। বদলি নেমে রদ্রিকে ফাউল করে সতর্ক হন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। পরে ম্যাচের শেষ দিকে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এর মধ্যেও স্পেনের আধিপত্য অব্যাহত থাকে। ৯৬তম মিনিটে মিকেল মেরিনো জালে বল পাঠালেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ওপর ফাউলের কারণে সেটি বাতিল করে দেন রেফারি।
তবে স্পেনের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় স্পেন। দীর্ঘ সময় ধরে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া স্প্যানিশরা সেই এক গোলেই নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের শিরোপা। গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা, কিন্তু একজন কম নিয়ে খেলা দলটির পক্ষে আর সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি।
হারের পরও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। অসংখ্য দুর্দান্ত সেভ করে তিনি ম্যাচের শেষ পর্যন্ত দলকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত স্পেনের ধারাবাহিক আক্রমণ ও নিখুঁত দলীয় ফুটবলের সামনে হার মানতেই হয়েছে তাকে।
এই জয়ে নতুন প্রজন্মের স্পেন নিজেদের আধিপত্যের ঘোষণা দিল বিশ্ব ফুটবলে। লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রি, দানি ওলমো, রদ্রি ও সতীর্থদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে বিশ্বকাপের ট্রফি ফিরল স্পেনের ঘরে। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার।