ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকারের ১৭ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ৭৮ দেশের সঙ্গে বৈঠক, হজ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিকল্পনা সৌদির বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ নিচ্ছে সরকার গুগলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলারের মামলা এমপি নজরুলের জামিন হলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে, বললেন বিচারক মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির শ্রমবান্ধব সরকারের অগ্রাধিকার শ্রমিক অধিকার ও ব্যাপক কর্মসংস্থান: মাহ্দী আমিন

৭ জেলায় বন্যার তাণ্ডব, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪; পানিবন্দি সোয়া ১ লাখ পরিবার, ত্রাণে বড় চ্যালেঞ্জ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩ বার

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ধসের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সরকারি হিসাবে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে। পানিবন্দি রয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও স্থানীয়দের মতে, দুর্গম এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো সামনে আসেনি। অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত ক্ষতির হিসাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যার  পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর  পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকায় হঠাৎ করেই বসতবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমি তলিয়ে যায়। এতে হাজার হাজার পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রাণহানির সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে মারা গেছেন ৩১ জন, যা মোট মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি। চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন কক্সবাজারের, ১২ জন চট্টগ্রামের, ২ জন বান্দরবানের এবং ১ জন খাগড়াছড়ির বাসিন্দা।

সরকার জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৪২২ জন। তবে এই সংখ্যা পানিবন্দি পরিবারের তুলনায় অনেক কম। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, অনেক মানুষ কি এখনো নিজ বাড়িতে আটকা পড়ে আছেন, নাকি আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কতা, পাহাড় ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ বসতি এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা না গেলে প্রতিবছর একই ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

এদিকে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সামনে নতুন সংকট দেখা দিচ্ছে। বিশুদ্ধ  পানির অভাব, খাদ্যসংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্বাসন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে দ্রুত ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

৭ জেলায় বন্যার তাণ্ডব, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪; পানিবন্দি সোয়া ১ লাখ পরিবার, ত্রাণে বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট টাইম : ১১:৪৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ধসের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সরকারি হিসাবে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে। পানিবন্দি রয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও স্থানীয়দের মতে, দুর্গম এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো সামনে আসেনি। অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত ক্ষতির হিসাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যার  পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর  পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকায় হঠাৎ করেই বসতবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমি তলিয়ে যায়। এতে হাজার হাজার পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রাণহানির সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে মারা গেছেন ৩১ জন, যা মোট মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি। চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন কক্সবাজারের, ১২ জন চট্টগ্রামের, ২ জন বান্দরবানের এবং ১ জন খাগড়াছড়ির বাসিন্দা।

সরকার জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৪২২ জন। তবে এই সংখ্যা পানিবন্দি পরিবারের তুলনায় অনেক কম। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, অনেক মানুষ কি এখনো নিজ বাড়িতে আটকা পড়ে আছেন, নাকি আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কতা, পাহাড় ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ বসতি এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা না গেলে প্রতিবছর একই ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

এদিকে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সামনে নতুন সংকট দেখা দিচ্ছে। বিশুদ্ধ  পানির অভাব, খাদ্যসংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্বাসন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে দ্রুত ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।