ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা: ২১ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু, সাক্ষ্য ১৯ জুলাই

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:২৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৪ বার

রাজধানীর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আদালত ২১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে মামলাটির বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৯ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী এ এস এম শাহাদাৎ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটি এখন পূর্ণাঙ্গ বিচারপর্বে প্রবেশ করেছে এবং নির্ধারিত তারিখে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য উপস্থাপন শুরু করবে।

যাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে তারা হলেন— মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ওরফে মাহমুদুল হাসান (মহিন), মো. তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, মো. আলমগীর, মো. মনির ওরফে লম্বা মনির, মো. সজীব বেপারী, মো. নানু কাজী, মো. রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু, মো. জহিরুল ইসলাম, সাগর, মো. রুমান বেপারী, মো. আবির হোসেন, মো. পারভেজ, মো. জহিরুল ওরফে জলিল, মো. ইমরান, মো. শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, মো. জিয়াউদ্দিন রাজিব, মো. হোসেন চৌকিদার, মো. সারোয়ার হোসেন টিটু, মো. মঙ্গল মিয়া ওরফে মনির হোসেন এবং অপু দাস। তাদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে, তিনজন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন এবং বাকি আটজন এখনো পলাতক।

শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে তদন্তে সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে প্রকাশ্যে একদল দুর্বৃত্ত ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পাথর দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ঘটনার পরদিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ মামলার তদন্ত এগিয়ে নেয়।

তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, তৎকালীন কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

পরবর্তীতে তদন্তে নতুন তথ্য ও প্রমাণ যুক্ত হওয়ায় চলতি বছরের ১০ মে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ আদালতে ২১ আসামির বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বর্তমানে মামলার ১৩ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং আটজন এখনও পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ড রাজধানীর ব্যবসায়ী মহল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি ওঠে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা: ২১ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু, সাক্ষ্য ১৯ জুলাই

আপডেট টাইম : ০৫:২৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আদালত ২১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে মামলাটির বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৯ জুলাই দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী এ এস এম শাহাদাৎ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটি এখন পূর্ণাঙ্গ বিচারপর্বে প্রবেশ করেছে এবং নির্ধারিত তারিখে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য উপস্থাপন শুরু করবে।

যাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে তারা হলেন— মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ওরফে মাহমুদুল হাসান (মহিন), মো. তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, মো. আলমগীর, মো. মনির ওরফে লম্বা মনির, মো. সজীব বেপারী, মো. নানু কাজী, মো. রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু, মো. জহিরুল ইসলাম, সাগর, মো. রুমান বেপারী, মো. আবির হোসেন, মো. পারভেজ, মো. জহিরুল ওরফে জলিল, মো. ইমরান, মো. শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, মো. জিয়াউদ্দিন রাজিব, মো. হোসেন চৌকিদার, মো. সারোয়ার হোসেন টিটু, মো. মঙ্গল মিয়া ওরফে মনির হোসেন এবং অপু দাস। তাদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে, তিনজন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন এবং বাকি আটজন এখনো পলাতক।

শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে তদন্তে সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে প্রকাশ্যে একদল দুর্বৃত্ত ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পাথর দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ঘটনার পরদিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত চলাকালে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ মামলার তদন্ত এগিয়ে নেয়।

তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, তৎকালীন কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

পরবর্তীতে তদন্তে নতুন তথ্য ও প্রমাণ যুক্ত হওয়ায় চলতি বছরের ১০ মে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ আদালতে ২১ আসামির বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বর্তমানে মামলার ১৩ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং আটজন এখনও পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ড রাজধানীর ব্যবসায়ী মহল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি ওঠে।