ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

জুলাই-আগস্টে বন্যার শঙ্কা, ব্রহ্মপুত্র-মেঘনায় সতর্কতা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৪১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ১১ বার

উজানে ভারী বৃষ্টিপাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার উচ্চঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা এবং উজানের অতিবৃষ্টির ফলে নদ-নদীর পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, জুলাই ও আগস্ট মাস ঐতিহাসিকভাবেই বন্যার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময়ে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় অতিরিক্ত পানির প্রবাহ দেশের বন্যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

তিনি আরও বলেন, এফএফডব্লিউসি এখন দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই পূর্বাভাস দিতে সক্ষম, তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে তিনদিনের আগাম বার্তা দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেলেও আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে তা স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না থাকায় মেঘনা অববাহিকার বর্তমান পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে দেশের উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা বা প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এফএফডব্লিউসির বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানির স্তর আগামী চার দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে ৪ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে, যা সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বাড়লেও তা আপাতত বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। তবে সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীর পানি আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। বর্তমানে তিস্তা নদীর ডালিয়া ও তারাপুর পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে ১৯৮৮, ১৯৯৮ এবং ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় পানির প্রবাহ একই সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোই বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

১৯৮৮ সালের বন্যায় দেশের ৬০ শতাংশ ভূখণ্ড প্লাবিত হয়েছিল এবং ১৯৯৮ সালের বন্যা স্থায়ী হয়েছিল দুই মাসেরও বেশি সময়। পরবর্তীতে ২০০৪, ২০২২ এবং ২০২৪ সালের বন্যাতেও কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা উজানের অতিবৃষ্টির ঝুঁকিকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কর্তৃপক্ষ বন্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

জুলাই-আগস্টে বন্যার শঙ্কা, ব্রহ্মপুত্র-মেঘনায় সতর্কতা

আপডেট টাইম : ০২:৪১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

উজানে ভারী বৃষ্টিপাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার উচ্চঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা এবং উজানের অতিবৃষ্টির ফলে নদ-নদীর পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, জুলাই ও আগস্ট মাস ঐতিহাসিকভাবেই বন্যার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময়ে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় অতিরিক্ত পানির প্রবাহ দেশের বন্যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

তিনি আরও বলেন, এফএফডব্লিউসি এখন দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই পূর্বাভাস দিতে সক্ষম, তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে তিনদিনের আগাম বার্তা দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেলেও আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে তা স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না থাকায় মেঘনা অববাহিকার বর্তমান পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে দেশের উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা বা প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এফএফডব্লিউসির বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানির স্তর আগামী চার দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে ৪ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে, যা সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বাড়লেও তা আপাতত বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। তবে সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীর পানি আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। বর্তমানে তিস্তা নদীর ডালিয়া ও তারাপুর পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে ১৯৮৮, ১৯৯৮ এবং ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় পানির প্রবাহ একই সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোই বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

১৯৮৮ সালের বন্যায় দেশের ৬০ শতাংশ ভূখণ্ড প্লাবিত হয়েছিল এবং ১৯৯৮ সালের বন্যা স্থায়ী হয়েছিল দুই মাসেরও বেশি সময়। পরবর্তীতে ২০০৪, ২০২২ এবং ২০২৪ সালের বন্যাতেও কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা উজানের অতিবৃষ্টির ঝুঁকিকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কর্তৃপক্ষ বন্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।