ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা হতে পারে আজ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ১৪ বার
শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায়ের তারিখ আজই ঘোষণা হতে পারে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলার উভয়পক্ষের আইনজীবীরা তাদের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন করবেন। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রায়ের দিন নির্ধারণ করতে পারেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জোর আবেদন জানান হবে। আদালতের কার্যক্রমের গতি বিবেচনা করে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই মামলার রায় প্রকাশ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে বুধবার (৩ জুন) এই মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে বসার পর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। আদালত এ সময় মামলার সমস্ত অভিযোগ ও সাক্ষীদের জবানবন্দি দুই আসামির সামনে পড়ে শোনান এবং তাদের বক্তব্য জানতে চান। কাঠগড়ায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকলেও, তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শুনানির শুরুতে প্রধান আসামি সোহেল রানা দায় এড়ানোর চেষ্টা করে পুরো ঘটনাটি ‘ডলার’ নামের অন্য এক ব্যক্তির ওপর চাপানোর চেষ্টা করে। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সে বলে, ‘আমি নির্দোষ স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তারে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে। আমারে শাস্তি দিলে ডলারেও একই শাস্তি দিতে হবে।’
তবে কিছুক্ষণ পরেই নিজের অপরাধ স্বীকার করে সে কান্নাকাটি শুরু করেন এবং তার একটি ছোট সন্তান রয়েছে উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সাথে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে সে। অন্যদিকে স্বপ্না বেগমও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে মুক্তি কামনা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আসামিদের এই ধরনের কান্নাকাটি ও বক্তব্যকে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত ও বিলম্বিত করার একটি সুকৌশলী অপপ্রয়াস বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ আদালতকে জানান, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে তারা নতুন করে কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করবেন না।
এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) ট্রাইব্যুনাল নজিরবিহীন দ্রুততায় মাত্র এক দিনেই এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। মামলায় রামিসার বাবা, মা, বোন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তৈরি করা চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা হত্যা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা হতে পারে আজ

আপডেট টাইম : ১০:২৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায়ের তারিখ আজই ঘোষণা হতে পারে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলার উভয়পক্ষের আইনজীবীরা তাদের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন করবেন। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রায়ের দিন নির্ধারণ করতে পারেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জোর আবেদন জানান হবে। আদালতের কার্যক্রমের গতি বিবেচনা করে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই মামলার রায় প্রকাশ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে বুধবার (৩ জুন) এই মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বিচারক এজলাসে বসার পর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। আদালত এ সময় মামলার সমস্ত অভিযোগ ও সাক্ষীদের জবানবন্দি দুই আসামির সামনে পড়ে শোনান এবং তাদের বক্তব্য জানতে চান। কাঠগড়ায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকলেও, তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শুনানির শুরুতে প্রধান আসামি সোহেল রানা দায় এড়ানোর চেষ্টা করে পুরো ঘটনাটি ‘ডলার’ নামের অন্য এক ব্যক্তির ওপর চাপানোর চেষ্টা করে। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সে বলে, ‘আমি নির্দোষ স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তারে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে। আমারে শাস্তি দিলে ডলারেও একই শাস্তি দিতে হবে।’
তবে কিছুক্ষণ পরেই নিজের অপরাধ স্বীকার করে সে কান্নাকাটি শুরু করেন এবং তার একটি ছোট সন্তান রয়েছে উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একই সাথে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে সে। অন্যদিকে স্বপ্না বেগমও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে মুক্তি কামনা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আসামিদের এই ধরনের কান্নাকাটি ও বক্তব্যকে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত ও বিলম্বিত করার একটি সুকৌশলী অপপ্রয়াস বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ আদালতকে জানান, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে তারা নতুন করে কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করবেন না।
এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) ট্রাইব্যুনাল নজিরবিহীন দ্রুততায় মাত্র এক দিনেই এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। মামলায় রামিসার বাবা, মা, বোন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তৈরি করা চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।