ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

সরকার স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজাতে কাজ শুরু করেছে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ৪৭ বার

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নতুন সরকার স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজাতে কাজ শুরু করেছে। আর সেই পরিবর্তনের মূল শক্তি হবে ডাক্তার, নার্স ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা।

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন ডাক্তারের তুলনায় অন্তত তিনজন নার্স প্রয়োজন। কারণ ডাক্তাররা নির্দিষ্ট সময় দায়িত্ব পালন করলেও নার্সদের ২৪ ঘণ্টা রোগীর পাশে থাকতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সেই অনুপাতে নার্স নেই। ফলে বিদ্যমান নার্সদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আজও দেশের অধিকাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকা মেডিকেলের বারান্দায় শুয়েও মানুষ চিকিৎসা নেয়, কারণ তারা বিশ্বাস করে সেখানে অন্তত কিছু সেবা পাওয়া যাবে। আর সেই সেবাটা দিচ্ছেন দেশের ডাক্তার ও নার্সরাই।

নিজের শৈশব স্মৃতিচারণ করে এম এ মুহিত বলেন, ছোটবেলায় দুই নার্স আমাকে নিজের সন্তানের মতো আদর করে বড় করেছেন। আমার মা একজন গাইনি চিকিৎসক ছিলেন এবং সেই নার্সরা আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো ছিলেন। এ কারণে নার্সিং পেশার প্রতি আমার আলাদা সম্মান রয়েছে।

তিনি বলেন, নার্সিং পেশাকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই সময় নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠা, নারীদের কর্মসংস্থান ও বিদেশে নার্স পাঠানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এম এ মুহিত বলেন, গত দেড় দশকে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ভয়াবহ সংকটের চিত্র দেখেছি।

তিনি আরও বলেন, শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন হবে না। রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত না হওয়ায় কিডনি রোগসহ নানা জটিল রোগ দ্রুত বাড়ছে।

সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয় করে গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম চালানো হবে।

তিনি বলেন, নার্সিং শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও সরকার কাজ করছে। নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোতে ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে, যাতে বাংলাদেশি নার্সরা বিদেশে গিয়ে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে নার্সদের পক্ষ থেকে সাদা ইউনিফর্ম পুনর্বহাল, ডে-কেয়ার সুবিধা, পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার পাথওয়ে নিয়ে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে নার্সদের ঐতিহ্যবাহী সাদা পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জনমত ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল। এ দাবি লিখিতভাবে দিলে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করা হবে।

কর্মজীবী নার্সদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সুবিধার দাবিকে অত্যন্ত মানবিক ও যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়েও মন্ত্রণালয়ে আলোচনা শুরু করা হবে।

পদোন্নতি ও উচ্চশিক্ষার মূল্যায়নের বিষয়ে এম এ মুহিত বলেন, নার্সিং পেশায় একটি সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার পাথওয়ে থাকা প্রয়োজন, যাতে একজন নার্স ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারেন। সরকার এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সাধারণ মানুষের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্য পূরণে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া সফল হওয়া সম্ভব নয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

সরকার স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজাতে কাজ শুরু করেছে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১২:৩২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নতুন সরকার স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজাতে কাজ শুরু করেছে। আর সেই পরিবর্তনের মূল শক্তি হবে ডাক্তার, নার্স ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা।

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন ডাক্তারের তুলনায় অন্তত তিনজন নার্স প্রয়োজন। কারণ ডাক্তাররা নির্দিষ্ট সময় দায়িত্ব পালন করলেও নার্সদের ২৪ ঘণ্টা রোগীর পাশে থাকতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সেই অনুপাতে নার্স নেই। ফলে বিদ্যমান নার্সদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আজও দেশের অধিকাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকা মেডিকেলের বারান্দায় শুয়েও মানুষ চিকিৎসা নেয়, কারণ তারা বিশ্বাস করে সেখানে অন্তত কিছু সেবা পাওয়া যাবে। আর সেই সেবাটা দিচ্ছেন দেশের ডাক্তার ও নার্সরাই।

নিজের শৈশব স্মৃতিচারণ করে এম এ মুহিত বলেন, ছোটবেলায় দুই নার্স আমাকে নিজের সন্তানের মতো আদর করে বড় করেছেন। আমার মা একজন গাইনি চিকিৎসক ছিলেন এবং সেই নার্সরা আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো ছিলেন। এ কারণে নার্সিং পেশার প্রতি আমার আলাদা সম্মান রয়েছে।

তিনি বলেন, নার্সিং পেশাকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই সময় নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠা, নারীদের কর্মসংস্থান ও বিদেশে নার্স পাঠানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এম এ মুহিত বলেন, গত দেড় দশকে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ভয়াবহ সংকটের চিত্র দেখেছি।

তিনি আরও বলেন, শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন হবে না। রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত না হওয়ায় কিডনি রোগসহ নানা জটিল রোগ দ্রুত বাড়ছে।

সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয় করে গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম চালানো হবে।

তিনি বলেন, নার্সিং শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও সরকার কাজ করছে। নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোতে ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে, যাতে বাংলাদেশি নার্সরা বিদেশে গিয়ে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে নার্সদের পক্ষ থেকে সাদা ইউনিফর্ম পুনর্বহাল, ডে-কেয়ার সুবিধা, পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার পাথওয়ে নিয়ে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে নার্সদের ঐতিহ্যবাহী সাদা পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জনমত ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল। এ দাবি লিখিতভাবে দিলে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করা হবে।

কর্মজীবী নার্সদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সুবিধার দাবিকে অত্যন্ত মানবিক ও যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়েও মন্ত্রণালয়ে আলোচনা শুরু করা হবে।

পদোন্নতি ও উচ্চশিক্ষার মূল্যায়নের বিষয়ে এম এ মুহিত বলেন, নার্সিং পেশায় একটি সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার পাথওয়ে থাকা প্রয়োজন, যাতে একজন নার্স ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারেন। সরকার এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সাধারণ মানুষের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্য পূরণে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া সফল হওয়া সম্ভব নয়।