ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু রমজানের প্রথম জুমায় বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল নকলের মতো মাদক-সন্ত্রাস-কিশোর গ্যাংমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে : শিক্ষামন্ত্রী রোজার শুরুতেই মাছ-মাংসের বাজারে আগুন মানুষকে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, ডাক্তার মানুষের পেছনে ঘুরবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মজুত যথেষ্ট: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির ৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইসিকে চিঠি একুশে ফেব্রুয়ারিতে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই : ডিএমপি কমিশনার ছায়া মন্ত্রিসভার সুফল পেতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জরুরি ড. ইউনূস যমুনা ছাড়ছেন কবে, সম্ভাব্য সময় জানা গেল

লেবুর হালি ২০০

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার

সিলেটের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা। চারদিকে দিগন্তজোড়া লেবু বাগান, যেখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার বস্তা লেবু সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ ‘প্রদীপের নিচে অন্ধকার’ এর মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছে স্থানীয় বাজারগুলোতে। পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে লেবুর এই স্বর্গরাজ্যেই এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। আকস্মিকভাবে লেবুর দাম বেড়ে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে।

মাত্র এক মাস আগেও যেখানে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হতো ২৫ থেকে ৪০ টাকায়, সেখানে বর্তমানে খুচরা বাজারে সাইজভেদে ৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। বড় সাইজের লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা পর্যন্ত, মাঝারি ১৫০-১৭৫ টাকা এবং ছোট ৮০-১০০ টাকা দরে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুই উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বাজারে লেবুর সরবরাহ তুলনামূলক কম। অনেক বিক্রেতা সীমিত পরিমাণ লেবু নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকলেও উচ্চ দামের কারণে বিক্রি কমে গেছে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, আড়ত থেকে সাইজভেদে প্রতি পিস লেবু ২০ থেকে ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শ্রমিক মজুরি, পরিবহন ও বাজার খরচ যোগ করে ন্যূনতম লাভে বিক্রি করতে গিয়ে হালিপ্রতি দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকায় তুলতে হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গলের লেবু বিক্রেতা মুসাব্বির মিয়া বলেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে লেবুর সরবরাহ এক-চতুর্থাংশ। আড়তে গিয়েও পর্যাপ্ত লেবু পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দামে কিনে কম লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আরেক বিক্রেতা রিপন মিয়া জানান, আগে প্রতিদিন ৫-৬ শত পিস লেবু বিক্রি হলেও এখন বিক্রি নেমে এসেছে ১০০-১৫০ পিসে। দাম শুনে অনেক ক্রেতাই ফিরে যাচ্ছেন।

ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানে ইফতারে লেবুর সরবতের বিকল্প নেই। কিন্তু আকাশচুম্বি দামের কারণে অনেকে লেবু কিনতে পারছেন না। ক্রেতা মোফাজ্জল আহমদ, রাজু মিয়া বলেন, আমাদের এলাকা লেবুর জন্য বিখ্যাত, অথচ এখানকার মানুষই চাহিদামতো লেবু কিনতে পারছেন না।

লেবু ব্যবসায়ী বারিক মিয়া জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাহাড়ি বাগানগুলোতে পানির অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে ফলন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ভরা মৌসুমে যেখানে প্রতি গাছে ২৫০-৩০০টি লেবু হয়, সেখানে এখন অনেক বাগানে ১০-১৫টির বেশি ফলন নেই।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, পুরো উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষাবাদ হয়। চলতি মৌসুমে বষ্টিপাত না হওয়ায় বর্তমানে লেবুর ফলন অনেকটা কম।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পুলিশ, উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পুলিশের সমন্বয়ে বাজার মনিটরিং করা হয়েছে। বাজার মনিটরিংয়ে খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতাদের সতর্ক করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

আই হ্যাভ এ প্ল্যান” সরকারের প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু

লেবুর হালি ২০০

আপডেট টাইম : ০৬:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিলেটের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা। চারদিকে দিগন্তজোড়া লেবু বাগান, যেখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার বস্তা লেবু সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ ‘প্রদীপের নিচে অন্ধকার’ এর মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছে স্থানীয় বাজারগুলোতে। পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে লেবুর এই স্বর্গরাজ্যেই এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। আকস্মিকভাবে লেবুর দাম বেড়ে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে।

মাত্র এক মাস আগেও যেখানে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হতো ২৫ থেকে ৪০ টাকায়, সেখানে বর্তমানে খুচরা বাজারে সাইজভেদে ৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। বড় সাইজের লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা পর্যন্ত, মাঝারি ১৫০-১৭৫ টাকা এবং ছোট ৮০-১০০ টাকা দরে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুই উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বাজারে লেবুর সরবরাহ তুলনামূলক কম। অনেক বিক্রেতা সীমিত পরিমাণ লেবু নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকলেও উচ্চ দামের কারণে বিক্রি কমে গেছে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, আড়ত থেকে সাইজভেদে প্রতি পিস লেবু ২০ থেকে ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শ্রমিক মজুরি, পরিবহন ও বাজার খরচ যোগ করে ন্যূনতম লাভে বিক্রি করতে গিয়ে হালিপ্রতি দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকায় তুলতে হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গলের লেবু বিক্রেতা মুসাব্বির মিয়া বলেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে লেবুর সরবরাহ এক-চতুর্থাংশ। আড়তে গিয়েও পর্যাপ্ত লেবু পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দামে কিনে কম লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আরেক বিক্রেতা রিপন মিয়া জানান, আগে প্রতিদিন ৫-৬ শত পিস লেবু বিক্রি হলেও এখন বিক্রি নেমে এসেছে ১০০-১৫০ পিসে। দাম শুনে অনেক ক্রেতাই ফিরে যাচ্ছেন।

ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানে ইফতারে লেবুর সরবতের বিকল্প নেই। কিন্তু আকাশচুম্বি দামের কারণে অনেকে লেবু কিনতে পারছেন না। ক্রেতা মোফাজ্জল আহমদ, রাজু মিয়া বলেন, আমাদের এলাকা লেবুর জন্য বিখ্যাত, অথচ এখানকার মানুষই চাহিদামতো লেবু কিনতে পারছেন না।

লেবু ব্যবসায়ী বারিক মিয়া জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাহাড়ি বাগানগুলোতে পানির অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে ফলন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ভরা মৌসুমে যেখানে প্রতি গাছে ২৫০-৩০০টি লেবু হয়, সেখানে এখন অনেক বাগানে ১০-১৫টির বেশি ফলন নেই।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, পুরো উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষাবাদ হয়। চলতি মৌসুমে বষ্টিপাত না হওয়ায় বর্তমানে লেবুর ফলন অনেকটা কম।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পুলিশ, উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পুলিশের সমন্বয়ে বাজার মনিটরিং করা হয়েছে। বাজার মনিটরিংয়ে খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতাদের সতর্ক করা হয়েছে।