ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

আ.লীগের ৪৮ শতাংশ ভোট যাবে বিএনপির দিকে, জামায়াত পাবে ২৯ শতাংশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭৩ বার

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত এক জনমত জরিপের ফলে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার এবার ভোট দিতে আগ্রহী। ৮ শতাংশ ভোটার এখনো নিশ্চিত নন। আর আগের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের প্রায় অর্ধেক (৪৮ দশমিক ২ শতাংশ) এবার বিএনপিকে ভোট দিতে ইচ্ছুক।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া ১৩ শতাংশ অন্যান্য দলকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন এবং ২ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন।

গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই জনমত জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ফ্যাক্টস (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ যৌথভাবে এই জরিপ পরিচালনা করেছে।

জরিপ পরিচালনাকারী দুটি সংস্থা দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনের ভোটারদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করে। এতে অংশ নেন মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার। জরিপটি দুই ধাপে সম্পন্ন হয়, যা শুরু হয় ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর এবং শেষ হয় ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি।

জরিপের ফল তুলে ধরে সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ জানান, জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা দুর্নীতির ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। এ ছাড়া ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ধর্মকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখছেন।

ভোটারদের কাছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে বলে জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জরিপ অনুযায়ী, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা জামায়াতকে ভোট দেবেন। একই শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে ২৭ শতাংশ বিএনপিকে এবং ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। আর ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার এখনো তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাননি।

জরিপে দেখা গেছে, ভোটাররা ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা বিশেষ দক্ষতার চেয়ে জনদরদি প্রার্থীকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দল ও প্রার্থী উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার কেবল দলকে গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন। শুধু প্রার্থীকে গুরুত্ব দেবেন বলে মত দিয়েছেন ৩০ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার। আর ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, দল নাকি প্রার্থী—কোনটি তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাহাবুল হক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

আ.লীগের ৪৮ শতাংশ ভোট যাবে বিএনপির দিকে, জামায়াত পাবে ২৯ শতাংশ

আপডেট টাইম : ১০:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত এক জনমত জরিপের ফলে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার এবার ভোট দিতে আগ্রহী। ৮ শতাংশ ভোটার এখনো নিশ্চিত নন। আর আগের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের প্রায় অর্ধেক (৪৮ দশমিক ২ শতাংশ) এবার বিএনপিকে ভোট দিতে ইচ্ছুক।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, আগে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া ১৩ শতাংশ অন্যান্য দলকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন এবং ২ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন।

গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই জনমত জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ফ্যাক্টস (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ যৌথভাবে এই জরিপ পরিচালনা করেছে।

জরিপ পরিচালনাকারী দুটি সংস্থা দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনের ভোটারদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করে। এতে অংশ নেন মোট ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার। জরিপটি দুই ধাপে সম্পন্ন হয়, যা শুরু হয় ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর এবং শেষ হয় ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি।

জরিপের ফল তুলে ধরে সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ জানান, জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা দুর্নীতির ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। এ ছাড়া ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ধর্মকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখছেন।

ভোটারদের কাছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে বলে জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জরিপ অনুযায়ী, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা জামায়াতকে ভোট দেবেন। একই শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে ২৭ শতাংশ বিএনপিকে এবং ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। আর ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার এখনো তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাননি।

জরিপে দেখা গেছে, ভোটাররা ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা বিশেষ দক্ষতার চেয়ে জনদরদি প্রার্থীকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দল ও প্রার্থী উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার কেবল দলকে গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন। শুধু প্রার্থীকে গুরুত্ব দেবেন বলে মত দিয়েছেন ৩০ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার। আর ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, দল নাকি প্রার্থী—কোনটি তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাহাবুল হক।