ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাবিবসহ ৮ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার রায় আজ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১০:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৪ বার

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হচ্ছে। ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট ৮ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ মামলার রায় দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে, এ মামলার রায়ের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে রায় প্রস্তুত না থাকায় সেদিন তা ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। পরে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন নতুন করে নির্ধারণ করে।

পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম মামলা হলেও রায় ঘোষণার দিক থেকে দ্বিতীয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া নিহত হন।

এ ঘটনায় তদন্ত শেষে গত বছরের ২১ এপ্রিল প্রসিকিউশনের কাছে ৯০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। যাচাই-বাছাই শেষে ২৫ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিনই অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরবর্তীতে ৮ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন এবং মো. নাসিরুল ইসলাম।

মামলার অপর চার আসামি এখনও পলাতক। তারা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।

গ্রেপ্তার আসামিদের উপস্থিতিতে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে গত বছরের ১৪ জুলাই অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর মাধ্যমে ৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। পরে ১১ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের বাবা শাহারিয়ার খান পলাশ।

টানা ২৩ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় ১০ ডিসেম্বর। এরপর ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয় যুক্তিতর্ক। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২৪ ডিসেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়।

এ মামলায় প্রমাণ হিসেবে প্রসিকিউশন ১৯টি ভিডিও, পত্রিকার ১১টি প্রতিবেদন, দুটি অডিও, বইসহ আরও ১১টি নথি এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ জব্দ তালিকায় সংযুক্ত করে আদালতে দাখিল করেছে।

যুক্তিতর্ক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষ আট আসামির সবার জন্য সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে। অন্যদিকে, আনা অভিযোগ সঠিক নয় উল্লেখ করে আসামিপক্ষ তাদের সবাইকে বেকসুর খালাস দেওয়ার আবেদন জানায়। এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে এই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ভবিষ্যৎ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

হাবিবসহ ৮ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার রায় আজ

আপডেট টাইম : ১০:১০:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হচ্ছে। ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট ৮ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ মামলার রায় দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে, এ মামলার রায়ের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে রায় প্রস্তুত না থাকায় সেদিন তা ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। পরে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন নতুন করে নির্ধারণ করে।

পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম মামলা হলেও রায় ঘোষণার দিক থেকে দ্বিতীয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া নিহত হন।

এ ঘটনায় তদন্ত শেষে গত বছরের ২১ এপ্রিল প্রসিকিউশনের কাছে ৯০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। যাচাই-বাছাই শেষে ২৫ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিনই অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরবর্তীতে ৮ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন এবং মো. নাসিরুল ইসলাম।

মামলার অপর চার আসামি এখনও পলাতক। তারা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।

গ্রেপ্তার আসামিদের উপস্থিতিতে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে গত বছরের ১৪ জুলাই অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর মাধ্যমে ৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। পরে ১১ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের বাবা শাহারিয়ার খান পলাশ।

টানা ২৩ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় ১০ ডিসেম্বর। এরপর ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয় যুক্তিতর্ক। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২৪ ডিসেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়।

এ মামলায় প্রমাণ হিসেবে প্রসিকিউশন ১৯টি ভিডিও, পত্রিকার ১১টি প্রতিবেদন, দুটি অডিও, বইসহ আরও ১১টি নথি এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ জব্দ তালিকায় সংযুক্ত করে আদালতে দাখিল করেছে।

যুক্তিতর্ক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষ আট আসামির সবার জন্য সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে। অন্যদিকে, আনা অভিযোগ সঠিক নয় উল্লেখ করে আসামিপক্ষ তাদের সবাইকে বেকসুর খালাস দেওয়ার আবেদন জানায়। এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে এই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ভবিষ্যৎ।