ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরমপন্থি তৎপরতার তথ্য দিলে অর্থ পুরস্কার: আইজিপি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৯ বার

অবৈধ অস্ত্র, গোপন আস্তানা কিংবা চরমপন্থি তৎপরতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলে অর্থ পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। একই সঙ্গে তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

শনিবার বিকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইজিপি। রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কোথাও অবৈধ অস্ত্র বা চরমপন্থি কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেলে তা গোপনে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, সম্প্রতি কিছু বিপজ্জনক বিস্ফোরক ও নাশকতার পরিকল্পনার আলামত পাওয়া গেছে। যদিও আগের তুলনায় চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা কম, তবুও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান, তল্লাশি ও অস্ত্র উদ্ধারের সময় পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

ধর্মীয় উগ্রবাদ ও চরমপন্থার ঝুঁকি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, এসব বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদারিত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীল ও আইনানুগ আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন আইজিপি। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় পুলিশের প্রধান লক্ষ্য হবে জনগণ যেন নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে- সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা।

বলপ্রয়োগের বিষয়ে আইজিপি বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী একান্ত প্রয়োজনের বাইরে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করা যাবে না। এ সংক্রান্ত সব নির্দেশনা ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) ও পুলিশ রেগুলেশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং তা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আইন প্রয়োগে নতুন কোনো বাধা বা নিষেধাজ্ঞা নেই। আইন যেমন আছে, তেমনভাবেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা অবৈধ সুবিধার প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা হবে কমিশনের অধীনে গঠিত এনফোর্সমেন্ট ও ইনকোয়ারি কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া। ভোটের দিন সব ইউনিটকে সক্রিয় রেখে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি।

আইজিপি বলেন, নির্বাচনের সময় ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে পুলিশের ভাবার প্রয়োজন নেই। পেশাদারিত্ব, আত্মমর্যাদা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করলেই পুলিশের সাফল্য নিশ্চিত হবে।

বিশেষ কল্যাণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. মো. জিললুর রহমান, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

চরমপন্থি তৎপরতার তথ্য দিলে অর্থ পুরস্কার: আইজিপি

আপডেট টাইম : ১১:৩৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

অবৈধ অস্ত্র, গোপন আস্তানা কিংবা চরমপন্থি তৎপরতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিলে অর্থ পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। একই সঙ্গে তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

শনিবার বিকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইজিপি। রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কোথাও অবৈধ অস্ত্র বা চরমপন্থি কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেলে তা গোপনে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, সম্প্রতি কিছু বিপজ্জনক বিস্ফোরক ও নাশকতার পরিকল্পনার আলামত পাওয়া গেছে। যদিও আগের তুলনায় চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা কম, তবুও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান, তল্লাশি ও অস্ত্র উদ্ধারের সময় পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

ধর্মীয় উগ্রবাদ ও চরমপন্থার ঝুঁকি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, এসব বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদারিত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীল ও আইনানুগ আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন আইজিপি। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় পুলিশের প্রধান লক্ষ্য হবে জনগণ যেন নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে- সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা।

বলপ্রয়োগের বিষয়ে আইজিপি বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী একান্ত প্রয়োজনের বাইরে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করা যাবে না। এ সংক্রান্ত সব নির্দেশনা ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) ও পুলিশ রেগুলেশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং তা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আইন প্রয়োগে নতুন কোনো বাধা বা নিষেধাজ্ঞা নেই। আইন যেমন আছে, তেমনভাবেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা অবৈধ সুবিধার প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা হবে কমিশনের অধীনে গঠিত এনফোর্সমেন্ট ও ইনকোয়ারি কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া। ভোটের দিন সব ইউনিটকে সক্রিয় রেখে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি।

আইজিপি বলেন, নির্বাচনের সময় ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে পুলিশের ভাবার প্রয়োজন নেই। পেশাদারিত্ব, আত্মমর্যাদা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করলেই পুলিশের সাফল্য নিশ্চিত হবে।

বিশেষ কল্যাণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. মো. জিললুর রহমান, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান।