ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জামায়াত নির্বাচনে সমঝোতার নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম বিগত ৩ নির্বাচনে প্রশাসন, পুলিশ, ইসি ও গোয়েন্দা সংস্থার একাংশ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহৃত হয় সব রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণের দামে ইতিহাস, ভরি কত মোস্তাফিজ বিশ্বকাপ দলে থাকলে বাড়বে নিরাপত্তা ঝুঁকি: আইসিসির চিঠি কোটিপতি তাহেরীর স্বর্ণ ৩১ ভরি, স্ত্রীর নামে কিছুই নেই কথিত একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে সহিংসতা করছে: মির্জা আব্বাস ইসিতে আপিল শুনানি: তৃতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরও ৪১ জন বিক্ষোভকারীদের হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চরিত্র একই ফ্রিল্যান্সারদের ডিজিটাল কার্ড দিচ্ছে সরকার, মিলবে যেসব সুবিধা অবশেষে সুখবর পেলেন মেহজাবীন

৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না :তারেক রহমান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার

বাংলাদেশকে আর ৫ আগস্টের আগের অবস্থান ও পরিস্থিতিতে দেখতে চান না বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল, আমাদের সমস্যা আছে। অবশ্যই আমরা ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি, আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা। একই সাথে আমার এক পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের একটি জানাজা আর আমার আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ঘটনা। কাজেই আমার মনে হয় এটি শুধু বোধহয় আমার একার জন্য নয়। যারা আমার দলের নেতা-কর্মী-সদস্য এবং সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের মানুষের সামনে বোধহয় এই দু’টি উদাহরণ বিবেচনা করার জন্য সবচাইতে ভালো উদাহরণ যে, আসলে ৫ আগস্টে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই আমাদের।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। চেয়ারম্যান হিসেবে শুক্রবার রাতে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের দিনের প্রথম কর্মসূচি শুরু করেন সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ প্রধানসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা, একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবে আমরা বিবেচনা করি তার পরিণতি কী হতে পারে আমরা দেখেছি ৫ আগস্ট। আমি সেজন্যই সকলকে অনুরোধ করব দল-মত নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি তাহলে সেই মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্যের মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে সেটির অনেক সমস্যার সমাধান হয়তো আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব। কিন্তু কোনোভাবেই সেটি যাতে মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। মতবিভেদ হলে, বিভেদ হলে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে আমরা দেখেছি। আজকে সে জন্যই অনেকের মুখে অনেক কথা শুনি, হতাশার কথা আমরা শুনি কিন্তু তারপরও আশার কথা হচ্ছে যে, তাদের কাছে ভবিষ্যতের চিন্তাও আছে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে।

সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক : বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয় ইয়েস সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম মতপার্থক্য আছে। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আজকে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কাছে সামগ্রিকভাবে সমাজের সকল মানুষের কাছে আমি একটি বিনীত আহ্বান রাখতে চাই যে, আমাদের বিভিন্ন মতপার্থক্যগুলো যাতে আমরা আলোচনা করতে পারি, আলাপ করতে পারি। আমাদের যেকোনো মূল্যে ডেমোক্র্যাটিক প্রসেস যেটা আমরা ১২ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) থেকে ইনশাল্লাহ শুরু করতে যাচ্ছি। আমাদের যেকোনো মূল্যে হোক ডেমোক্র্যাটিক প্রসেসটা চালু রাখতে হবে, আমাদের জবাবদিহিতাটা চালু রাখতে হবে যেকোনো মূল্যে। সেটি জাতীয় পর্যায়ে হোক সেটি লোকাল পর্যায়ে হোক অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হোক, পৌরসভা নির্বাচন, লোকাল পর্যায়ে নির্বাচন হোক, সেটা কোনো ট্রেড বডির ইলেকশন হোক। আমার যেটা বিশ্বাস আমরা যেকোনো মূল্যে যদি এই জবাবদিহিতাটা, গণতান্ত্রিক প্রসেসটা যদি আমরা কন্টিনিউ করতে পারি অনেক বেগ হয়তো আসবে, অনেক কঠিন হবে কিন্তু একটা সার্টেন টাইম পরে আমরা যদি গণতান্ত্রিক প্রসেসটাকে কন্টিনিউ করে যেতে পারি তাহলে নিশ্চয়ই আমরা অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হব।

দেশের মানুষের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাউকে আঘাত না করে আমি বলতে চাইছি, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-সদস্য কাউকে আমি আঘাত করতে চাইছি না, আমি আমার চিন্তাটা শুধু তাদের সামনে তুলে ধরতে চাইছি যে, আসুন আমরা দেশের মানুষের শিক্ষা, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, দেশের নারীদের অধিকার, এমপাওয়ারমেন্ট, কর্মসংস্থান পরিবেশ, সবকিছু মিলিয়ে এই যে বিষয়গুলো যেটি একটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য। অনেকদিন ধরে রিফর্মের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এই রিফর্মের মধ্যে আমার কাছে মনে হয়েছে যে তিনটি পার্ট আছে। একটি হচ্ছে সাংবিধানিক পার্ট, একটি হচ্ছে আইনগত পার্ট এবং আরেকটি হচ্ছে মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা নিরাপত্তা, তাদের সিকিউরিটি সবকিছু নিয়ে একটি পার্ট আছে। আমরা সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার মনে হয়েছে, মানুষের প্রতিদিনকার প্রত্যেকটি মানুষ সকল সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের প্রতিদিনকার যেই চাওয়া-পাওয়াগুলো, প্রয়োজনগুলো সেটা নিয়ে বোধহয় আমরা আলাপ-আলোচনা একটু কম করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আলোচনা করা উচিত, সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের আলোচনা করা উচিত। আমরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার করছি, সিম্পোজিয়াম করছি আলোচনা করছি, তর্ক-বিতর্ক করছি। অবশ্যই ওগুলো প্রয়োজন আছে কিন্তু অ্যাট দ্য সেম টাইম আমরা যদি মানুষের প্রতিদিনকার তার চিকিৎসাব্যবস্থা কী হবে, তার কর্মসংস্থান কী হবে, তার পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা কী হবে, রাস্তায় বের হলে নিরাপদে সে ফিরে আসতে পারবে কি না, এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আমাদের আলোচনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত, এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আমাদের প্ল্যান প্রোগ্রাম আরেকটু বেশি হওয়া উচিত, আমাদের চিন্তাভাবনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত।

আলোচনা-সমালোচনা দুইটাই চান : বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা ইনশাল্লাহ দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে যাতে আপনাদের কাছ থেকে এমন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা আমরা পাই যেটা আমাদের সাহায্য করবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। শুধু সমালোচনা সমালোচনা করার জন্য নয়। আপনাদের কাছ থেকে এমন সমালোচনা আমরা পাই যাতে আমরা দেশের মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে সে সমস্যাগুলো যাতে আমরা সমাধান করতে সক্ষম হই। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেই প্রত্যাশা আপনাদের কাছে রাখছি।

দূর দেশে থাকলেও দেশে কী হয়েছে সে বিষয়ে সবসময় জানতেন, খোঁজ-খবর রাখতেন মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, আমি দেশে অনেক দিন থাকতে পারিনি, কী কারণে সে প্রসঙ্গে আপনাদের কম-বেশি ধারণা আছে। তবে সারাক্ষণই দেশের সাথে আমার যোগাযোগ ছিল। দেশের মানুষের সাথে কী হয়েছে? এখানে মাহমুদুর রহমান (আমার দেশ সম্পাদক) সাহেব বলেছেন একটি উদাহরণ দিয়েছেন, উনার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই আমি বলতে চাইছি, উনার সাথে উনার রক্তমাখা ছবি এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে। কাজেই উনার সাথে কী হয়েছে আমি যেমন জানি, রুহুল আমিন গাজী (ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রয়াত সভাপতি) সাহেবের সাথে কী হয়েছে, যেভাবে উনি মৃত্যুবরণ করেছেন, জেলের মধ্যে সেটি আমি জানি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আমার ৬০ লাখ নেতাকর্মী এবং তার থেকে আরেকটি হৃদয়বিদারক আমার জন্য হচ্ছে সেটি হচ্ছে, আমার মায়ের সাথে কী হয়েছে। এর সবই আমি জানি। কাজেই এ ঘটনাগুলো যদি আমরা সবগুলোকে এক করি তাহলে যারা দেশে ছিলেন আপনারা অবশ্যই আমার থেকে একটু বেটার ভালো জানবেন। তবে আমি একদম যে জানি না, বোধহয় বিষয়টি তা নয়, আমার একটি ধারণা আছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামবেন ২২ জানুয়ারি : তারেক রহমান বলেন, সামনে নির্বাচন আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ তারিখ থেকে আমাদের সকল রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।

অনুষ্ঠানে দেশের মানুষের জন্য নিজের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ তারিখে যখন আমি দেশে এসে একটি কথা বলেছিলাম, মার্টিন লুথার কিং যেমন ৬২ বছর আগে বলেছিলেন আই হ্যাভ এ ড্রিম। আমি বলেছিলাম, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। সেই প্ল্যানের মধ্যে একটি অংশ আছে বাংলাদেশের যে হাফ পপুলেশন নারী তাদের ঘিরে। সেটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। যেমন: ফ্যামিলি কার্ড এর একটি পরিকল্পনা- একজন নারী এটা পাবেন, একজন গৃহিণী এটা পাবেন। কার্ডটি সারাজীবনের জন্য নয়, ৫ থেকে ৭ বছরের জন্য দেবো, এই ৫ থেকে ৭ বছর তাকে আমরা একটা সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করব। সবাই এক কার্ড পাবেন। আমি যে ফ্যামিলি কার্ডটির কথা বলেছিলাম সেটির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে, বাংলাদেশে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে। আমরা যদি পরিবার হিসেবে ভাগ করি এভারেজে একটি পরিবারে ৫ জন করে সদস্য ধরা হয়েছে।

নতুন প্রজন্ম নিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশে ফিরে আসার পর আমি যে কয়বার বাইরে যাওয়ার একটু সুযোগ হয়েছে, আমার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে, একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম না, আমার কাছে মনে হয়েছে প্রত্যেকটি প্রজন্মই মনে হয় কিছু একটি গাইডেন্স চাইছে। আমরা যারা রাজনীতিবিদ আমাদের কাছে হয়তো অনেক প্রত্যাশা। সকল প্রত্যাশা হয়তোবা পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল, ২০২৪ এর ৫ আগস্ট এই সবগুলো আমাদের সামনে রেখে যদি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই আমার কাছে মনে হয় একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা জাতিকে একটি সঠিক ডাইরেকশনে নিয়ে যেতে সক্ষম হব।

যুক্তরাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একটি ছোট ঘটনা আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরতে চাই। আমাকে চিকিৎসার জন্য এ দেশ থেকে ২০০৮ সালে চলে যেতে হয়েছিল যুক্তরাজ্যে। ২০০৮ সালে যাবার পর ২০১০ সালে সেখানে প্রথম একটি নির্বাচন আমি দেখেছিলাম। যেহেতু সেটি নির্বাচন ছিল স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার একটি ইন্টারেস্ট ছিল, টিভির সামনে বসে আমি ডিবেট দেখছিলাম। সেখানে দু’টি মেইন দল লেবার এবং কনজারভেটিভ দলের নেতার মধ্যে এই ডিভেট। অনেক দিন ধরে লেবার ক্ষমতায় ছিল, ২০১০ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভ আসে। তো দুই দলের দুই নেতার মধ্যে একটি আলোচনা হচ্ছিল। খুব দুঃখজনক হলো বাংলাদেশ বাদই দিলাম শুধু ঢাকা শহরের মধ্যেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নেই। গত ৫৪-৫৫ বছরে আমরা মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস গড়ে তুলতে সক্ষম হইনি। এটি খুব দুঃখজনক ব্যাপার। এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিয়ে ওই দুই নেতার মধ্যে তখন কথা হচ্ছিল। যতটুকু আমার মনে আছে তখন ইমার্জেন্সির জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস কল করলে ২০ মিনিটের মতো সময় লাগত অ্যাম্বুলেন্স আসতে। একজন বলছে ২০ মিনিট লাগে, এটাকে আমরা ১৯ মিনিটে নিয়ে আসব। আরেকজন বলছিল ২০ মিনিট লাগে এটাকে আমরা ১৫ মিনিটে নিয়ে আসব। অর্থাৎ একজন এক মিনিট কমাচ্ছে, একজন ৫ মিনিট কমাচ্ছে। এই কাজটি তারা তাদের জনগণের জন্যই করতে চাইছে।

পানি সমস্যার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, পানির সমস্যা এখন যেভাবে চলছে, এভাবে যদি চলে আমার যতটুক ধারণা আগামী ১০ থেকে ১৫ বছর হার্ডলি ২০ বছর পরে ঢাকা শহরে কোনো জায়গা থেকে পানি আমরা পাব না। আমাদের বুড়িগঙ্গা নদী সম্পূর্ণরূপে দূষিত, ১০০% দূষিত। শীতলক্ষ্যা নদী ৫০% এর মতো দূষিত। এখন মেঘনা নদী থেকে পানি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, কয়েকটা প্রজেক্টে কাজ হচ্ছে। কিন্তু এটার পানিও আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দূষিত হয়ে যাবে। ঢাকা শহরে যে সাড়ে তিন কোটির মতো মানুষ বাস করছে এরা পানি পাবে না। পানির অপর নাম জীবন। সারা দেশে যদি এই সমস্যা শুরু হয় তাহলে বিষয়টি কত ভয়াবহ হতে পারে আমার মনে হয় এরকম বিষয়গুলো নিয়ে এখন আলোচনা হওয়া উচিত। সেটি সংসদে হোক, বিভিন্ন সেমিনারে হোক। কারণ তা না হলে একটি ভয়াবহ ভবিষ্যৎ আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে হয়তোবা হুইচ ইজ ভেরি আনওয়ান্টেড।

কর্মসংস্থান নিয়ে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, আমাদের ২০ কোটির মতো মানুষ এই দেশে এবং এই ২০ কোটি মানুষের মধ্যে একটি বড় অংশ হচ্ছে তরুণ সমাজের সদস্য। এই তরুণ সমাজের সদস্যদের বিভিন্নভাবে উপায় বের করতে হবে, কীভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। সেটি দেশের ভেতরে হোক আর দেশের বাইরে হোক। আমরা যদি এই কাজটি করতে সক্ষম না হই তাহলে আমরা ৫ আগস্ট বলি, ’৯০-এর আন্দোলন বলি, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ বলি, আমাদের মনে হয় খুব সম্ভবত প্রত্যেকটি প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।

নারী-পুরুষের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত বছরে ৭ হাজারের মতো মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আমার কাছে বিষয়টি খুব অস্বাভাবিক লাগে। আমার ধারণা আপনারা যদি একটু চিন্তা করেন আপনাদের প্রত্যেকের কাছে বিষয়টি অস্বাভাবিক লাগবে। কিন্তু ঘটনাটি ঘটছে, কোনো বছর বেশি, কোনো বছর কম। এই অস্বাভাবিক ঘটনাটি কেন ঘটবে? একজন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে যারা মারা যাচ্ছে, আমরা যদি তাদের সামাজিক স্ট্যাটাসটা দেখি খুব অবস্থাপন্ন লোক, যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল তারা যে মারা যাচ্ছেন তা না। কিন্তু যে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে সেই মানুষটি হয়তোবা তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। সেই ব্যক্তি মারা যাবার পর সেই ফ্যামিলিটির কী হচ্ছে অথবা লোকটি যদি পঙ্গু হয়ে যায় মানুষটি যে পঙ্গু হয়ে যায় তাহলে তার ফ্যামিলির ওপর কী হচ্ছে। এই বিষয়টি বোধহয় আমাদের নজরে আনা উচিত। এরকম অনেকগুলো বিষয় আছে যে বিষয়গুলো আমার মনে হয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চিন্তাভাবনা হওয়া উচিত।
কৃষকদের অবস্থা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের বিভিন্ন অসহায়ত্বের নিউজ আপনাদের সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়। আমার দলের বিগত সরকারের কথা বলব সেই সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এত বিশাল সংখ্যাক কৃষক, যারা ২০ কোটি মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করছে, অন্নের সংস্থান করছে, সেই এত বড় সমাজটাকে কীভাবে সাপোর্ট দেওয়া যায়? তাদের হয়তো সেভাবে বলার সুযোগ নেই। এখানে আপনারা সংবাদপত্রের যারা কর্মী আছেন আপনাদের কিছু সমস্যার কথা বলেছেন, আপনাদের সমস্যাটা আমাদের জন্য শুনতে-জানতে সহজ হয়, কারণ আমাদের জন্য একটা ভেন্যু আছে, যেখানে আমরা আলাপ করতে পারি। কিন্তু ওই কৃষকগুলো, যাদের কোনো ভেন্যু নেই, যারা এরকম একটা প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করতে পারছে না তারা কীভাবে বলবে কথাগুলো? কাজেই তাদের কথা তো আমাদের জানতে হবে।

দুর্নীতি কমানোর বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, করাপশনটাকে যাতে স্প্রেড না করে, করাপশনটা যাতে স্বাভাবিক একটা পর্যায়ে থাকে। কিছু তো এনোমেলিজ হতে পারে সেটি আমরা গ্র্যাজুয়ালি ঠিক করব।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, আরেকটি ভয়াবহ পরিস্থিতি হচ্ছে যে, আমাদের জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, আমরা যদি সউদী আরব বা কুয়েতের সবগুলো তেল খনিও এখানে নিয়ে আসি তাহলে হয়তো আমরা এই এত রিসোর্স দিয়ে আমরা এত মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারব না। সেজন্য আমাদের অবশ্যই পপুলেশন কন্ট্রোলে যেতে হবে। আমাদের দেশের জনসংখ্যাকে সীমাবদ্ধতার মধ্যে আনতে হবে এবং সেজন্য এই হেলথ কেয়ারে যে নিয়োগ হবে এই হেলথ কেয়ারের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ, ১ লাখের মতো আমাদের টার্গেট নিয়োগ করা। এই হেলথ কেয়ারের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমরা নারী কর্মীকে নিয়োগ করতে চাই যাতে নারী কর্মীরা গিয়ে ঘরে ঘরে বোঝাতে সক্ষম হন যে, কী জন্য প্রয়োজন হাইজিন মেইনটেইন করা এবং পরিবারকে সুস্থ রাখা, একই সাথে পরিবারকে একটি রিজনেবল সাইজের মধ্যে রাখা পরিবারের সদস্যসংখ্যা। কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, সবার জন্য চিকিৎসা সুবিধা, তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য ভোকেশনাল টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউশন আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, আইটি সেক্টর, উদ্যোক্তা তৈরি করা, আইটি পার্কগুলোকে নতুনভাবে সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলা, কন্টেট তৈরির কাজে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করে আরো সহজ করা।

অনুষ্ঠানে সম্পাদকদের মধ্যে যায়যায় দিনের শফিক রেহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, দৈনিক ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, মানব জমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজের নুরুল কবির, যুগান্তরের আবদুল হাই শিকদার, আমার দেশ-এর মাহমুদুর রহমান, কালের কণ্ঠের হাসান হাফিজ, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, ঢাকা স্টিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ইটিভির আবদুস সালাম, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. জাহেদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- সম্পাদকদের মধ্যে সংবাদের আলতামাশ কবির, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক সমকালের শাহেদ মোহাম্মদ আলী, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ইনাম আহমেদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, প্রতিদিনের বাংলাদেশ এর মারুফ কামাল খান সোহেল, দেশ রূপান্তরের কামাল উদ্দিন সবুজ, বণিক বার্তার হানিফ মাহমুদ, ডেইলি সানের মো. রেজাউল করিম, সুরমা‘র (লন্ডন) শামসুল আলম লিটন, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, মানবকন্ঠের শহীদুল ইসলাম, দেশ বার্তার সালেহ বিপ্লব, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন।

সংবাদপত্রের অন্যদের মধ্যে- নয়া দিগন্তের মাসুমুর রহমান খলিলী, প্রথম আলোর সাজ্জাদ শরীফ, সময়ের আলো‘র সৈয়দ শাহনাজ করিম, জনকন্ঠের খুরশীদ আলম, বাংলাবাজার পত্রিকার রাশেদুল হক, যুগান্তরের এনাম আবেদীন, টাইম অব বাংলাদেশ-এর ইলিয়াস খান, আমাদের সময়ের নজরুল ইসলাম, দৈনিক নাগরিক সংবাদের সুমন প্রামাণিক, দিকপালের সম্পাদক শাহীন রাজা, নাগরিক প্রতিদিন হাসনাইন খরশীদ।

নিউজ এজেন্সির বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আল দীন, প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান, সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা মেইলের সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সুবহান, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মধ্যে- বিবিসির সম্পাদক মীর সাব্বির মোস্তফা, বিশেষ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, আল জাজিরার তানভীর চৌধুরী, রয়টার্সের রুমা পাল, এএফপির শেখ সাবিহা আলম।
টেলিভিশনের মধ্যে- বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুব আলম, জেনারেল ম্যানেজার নুরুল জম পবন, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জেড এম জাহেদুর রহমান, বেসরকারি টেলিভিশনের শীর্ষ প্রধানদের মধ্যে রয়েছেন সময় টিভির জুবায়ের আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, এনটিভির ফখরুল আলম কাঞ্চন, মোস্তফা খন্দকার, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, ডিভিসির লোটন একরাম, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, এটিএনের হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, বৈশাখী টিভির জিয়াউল কবীর সুমন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের শরীফুল ইসলাম খান, গ্রীন টিভির মাহমুদ হাসান, গাজী টিভির গাউসুল আজম দীপু, এটিএন নিউজের শহীদুল আজম, মাছরাঙার রেজানুল হক রাজা, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জহিরুল আলম, আরটিভির ইলিয়াস হোসেন, মোহনা টিভির এম এ মালেক, স্টার টিভির ওয়ালিউর রহমান মিরাজ, এখন এর তুষার আবদুল্লাহ, ইন্ডিপেনডেন্টের মোস্তফা আকমল, মাইটিভির ইউসুফ আলী।

সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে- ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, এম এ আজিজ, নুরু উদ্দিন নুরু, এ কে এম মহসিন, শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, খাজা মাইন উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম রনি, হাফিজুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন রিপন, হাফিজুর রহমান সরকারসহ বিভিন্ন পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিকরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন, মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন, শাম্মী আখতার, শায়রুল কবির খান, আবু সায়েম, বিএনপির সাইমুম পারভেজ, শামসুদ্দিন দিদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম ছিলেন অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। অনুষ্ঠানে সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত নির্বাচনে সমঝোতার নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম

৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না :তারেক রহমান

আপডেট টাইম : ১০:৪৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশকে আর ৫ আগস্টের আগের অবস্থান ও পরিস্থিতিতে দেখতে চান না বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল, আমাদের সমস্যা আছে। অবশ্যই আমরা ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি, আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা। একই সাথে আমার এক পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের একটি জানাজা আর আমার আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ঘটনা। কাজেই আমার মনে হয় এটি শুধু বোধহয় আমার একার জন্য নয়। যারা আমার দলের নেতা-কর্মী-সদস্য এবং সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের মানুষের সামনে বোধহয় এই দু’টি উদাহরণ বিবেচনা করার জন্য সবচাইতে ভালো উদাহরণ যে, আসলে ৫ আগস্টে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই আমাদের।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। চেয়ারম্যান হিসেবে শুক্রবার রাতে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের দিনের প্রথম কর্মসূচি শুরু করেন সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ প্রধানসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা, একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবে আমরা বিবেচনা করি তার পরিণতি কী হতে পারে আমরা দেখেছি ৫ আগস্ট। আমি সেজন্যই সকলকে অনুরোধ করব দল-মত নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি তাহলে সেই মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্যের মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে সেটির অনেক সমস্যার সমাধান হয়তো আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব। কিন্তু কোনোভাবেই সেটি যাতে মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। মতবিভেদ হলে, বিভেদ হলে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে আমরা দেখেছি। আজকে সে জন্যই অনেকের মুখে অনেক কথা শুনি, হতাশার কথা আমরা শুনি কিন্তু তারপরও আশার কথা হচ্ছে যে, তাদের কাছে ভবিষ্যতের চিন্তাও আছে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে।

সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক : বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয় ইয়েস সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম মতপার্থক্য আছে। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আজকে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কাছে সামগ্রিকভাবে সমাজের সকল মানুষের কাছে আমি একটি বিনীত আহ্বান রাখতে চাই যে, আমাদের বিভিন্ন মতপার্থক্যগুলো যাতে আমরা আলোচনা করতে পারি, আলাপ করতে পারি। আমাদের যেকোনো মূল্যে ডেমোক্র্যাটিক প্রসেস যেটা আমরা ১২ তারিখ (ফেব্রুয়ারি) থেকে ইনশাল্লাহ শুরু করতে যাচ্ছি। আমাদের যেকোনো মূল্যে হোক ডেমোক্র্যাটিক প্রসেসটা চালু রাখতে হবে, আমাদের জবাবদিহিতাটা চালু রাখতে হবে যেকোনো মূল্যে। সেটি জাতীয় পর্যায়ে হোক সেটি লোকাল পর্যায়ে হোক অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হোক, পৌরসভা নির্বাচন, লোকাল পর্যায়ে নির্বাচন হোক, সেটা কোনো ট্রেড বডির ইলেকশন হোক। আমার যেটা বিশ্বাস আমরা যেকোনো মূল্যে যদি এই জবাবদিহিতাটা, গণতান্ত্রিক প্রসেসটা যদি আমরা কন্টিনিউ করতে পারি অনেক বেগ হয়তো আসবে, অনেক কঠিন হবে কিন্তু একটা সার্টেন টাইম পরে আমরা যদি গণতান্ত্রিক প্রসেসটাকে কন্টিনিউ করে যেতে পারি তাহলে নিশ্চয়ই আমরা অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হব।

দেশের মানুষের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাউকে আঘাত না করে আমি বলতে চাইছি, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-সদস্য কাউকে আমি আঘাত করতে চাইছি না, আমি আমার চিন্তাটা শুধু তাদের সামনে তুলে ধরতে চাইছি যে, আসুন আমরা দেশের মানুষের শিক্ষা, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, দেশের নারীদের অধিকার, এমপাওয়ারমেন্ট, কর্মসংস্থান পরিবেশ, সবকিছু মিলিয়ে এই যে বিষয়গুলো যেটি একটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য। অনেকদিন ধরে রিফর্মের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এই রিফর্মের মধ্যে আমার কাছে মনে হয়েছে যে তিনটি পার্ট আছে। একটি হচ্ছে সাংবিধানিক পার্ট, একটি হচ্ছে আইনগত পার্ট এবং আরেকটি হচ্ছে মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা নিরাপত্তা, তাদের সিকিউরিটি সবকিছু নিয়ে একটি পার্ট আছে। আমরা সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার মনে হয়েছে, মানুষের প্রতিদিনকার প্রত্যেকটি মানুষ সকল সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের প্রতিদিনকার যেই চাওয়া-পাওয়াগুলো, প্রয়োজনগুলো সেটা নিয়ে বোধহয় আমরা আলাপ-আলোচনা একটু কম করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আলোচনা করা উচিত, সেই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের আলোচনা করা উচিত। আমরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার করছি, সিম্পোজিয়াম করছি আলোচনা করছি, তর্ক-বিতর্ক করছি। অবশ্যই ওগুলো প্রয়োজন আছে কিন্তু অ্যাট দ্য সেম টাইম আমরা যদি মানুষের প্রতিদিনকার তার চিকিৎসাব্যবস্থা কী হবে, তার কর্মসংস্থান কী হবে, তার পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা কী হবে, রাস্তায় বের হলে নিরাপদে সে ফিরে আসতে পারবে কি না, এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আমাদের আলোচনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত, এই বিষয়গুলো নিয়ে বোধহয় আমাদের প্ল্যান প্রোগ্রাম আরেকটু বেশি হওয়া উচিত, আমাদের চিন্তাভাবনা আরেকটু বেশি হওয়া উচিত।

আলোচনা-সমালোচনা দুইটাই চান : বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা ইনশাল্লাহ দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে যাতে আপনাদের কাছ থেকে এমন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা আমরা পাই যেটা আমাদের সাহায্য করবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে। শুধু সমালোচনা সমালোচনা করার জন্য নয়। আপনাদের কাছ থেকে এমন সমালোচনা আমরা পাই যাতে আমরা দেশের মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে সে সমস্যাগুলো যাতে আমরা সমাধান করতে সক্ষম হই। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেই প্রত্যাশা আপনাদের কাছে রাখছি।

দূর দেশে থাকলেও দেশে কী হয়েছে সে বিষয়ে সবসময় জানতেন, খোঁজ-খবর রাখতেন মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, আমি দেশে অনেক দিন থাকতে পারিনি, কী কারণে সে প্রসঙ্গে আপনাদের কম-বেশি ধারণা আছে। তবে সারাক্ষণই দেশের সাথে আমার যোগাযোগ ছিল। দেশের মানুষের সাথে কী হয়েছে? এখানে মাহমুদুর রহমান (আমার দেশ সম্পাদক) সাহেব বলেছেন একটি উদাহরণ দিয়েছেন, উনার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই আমি বলতে চাইছি, উনার সাথে উনার রক্তমাখা ছবি এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে। কাজেই উনার সাথে কী হয়েছে আমি যেমন জানি, রুহুল আমিন গাজী (ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রয়াত সভাপতি) সাহেবের সাথে কী হয়েছে, যেভাবে উনি মৃত্যুবরণ করেছেন, জেলের মধ্যে সেটি আমি জানি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আমার ৬০ লাখ নেতাকর্মী এবং তার থেকে আরেকটি হৃদয়বিদারক আমার জন্য হচ্ছে সেটি হচ্ছে, আমার মায়ের সাথে কী হয়েছে। এর সবই আমি জানি। কাজেই এ ঘটনাগুলো যদি আমরা সবগুলোকে এক করি তাহলে যারা দেশে ছিলেন আপনারা অবশ্যই আমার থেকে একটু বেটার ভালো জানবেন। তবে আমি একদম যে জানি না, বোধহয় বিষয়টি তা নয়, আমার একটি ধারণা আছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামবেন ২২ জানুয়ারি : তারেক রহমান বলেন, সামনে নির্বাচন আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ তারিখ থেকে আমাদের সকল রকম পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।

অনুষ্ঠানে দেশের মানুষের জন্য নিজের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ তারিখে যখন আমি দেশে এসে একটি কথা বলেছিলাম, মার্টিন লুথার কিং যেমন ৬২ বছর আগে বলেছিলেন আই হ্যাভ এ ড্রিম। আমি বলেছিলাম, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। সেই প্ল্যানের মধ্যে একটি অংশ আছে বাংলাদেশের যে হাফ পপুলেশন নারী তাদের ঘিরে। সেটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। যেমন: ফ্যামিলি কার্ড এর একটি পরিকল্পনা- একজন নারী এটা পাবেন, একজন গৃহিণী এটা পাবেন। কার্ডটি সারাজীবনের জন্য নয়, ৫ থেকে ৭ বছরের জন্য দেবো, এই ৫ থেকে ৭ বছর তাকে আমরা একটা সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করব। সবাই এক কার্ড পাবেন। আমি যে ফ্যামিলি কার্ডটির কথা বলেছিলাম সেটির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে, এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে, বাংলাদেশে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে। আমরা যদি পরিবার হিসেবে ভাগ করি এভারেজে একটি পরিবারে ৫ জন করে সদস্য ধরা হয়েছে।

নতুন প্রজন্ম নিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশে ফিরে আসার পর আমি যে কয়বার বাইরে যাওয়ার একটু সুযোগ হয়েছে, আমার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে, একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম না, আমার কাছে মনে হয়েছে প্রত্যেকটি প্রজন্মই মনে হয় কিছু একটি গাইডেন্স চাইছে। আমরা যারা রাজনীতিবিদ আমাদের কাছে হয়তো অনেক প্রত্যাশা। সকল প্রত্যাশা হয়তোবা পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল, ২০২৪ এর ৫ আগস্ট এই সবগুলো আমাদের সামনে রেখে যদি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই আমার কাছে মনে হয় একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা জাতিকে একটি সঠিক ডাইরেকশনে নিয়ে যেতে সক্ষম হব।

যুক্তরাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একটি ছোট ঘটনা আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরতে চাই। আমাকে চিকিৎসার জন্য এ দেশ থেকে ২০০৮ সালে চলে যেতে হয়েছিল যুক্তরাজ্যে। ২০০৮ সালে যাবার পর ২০১০ সালে সেখানে প্রথম একটি নির্বাচন আমি দেখেছিলাম। যেহেতু সেটি নির্বাচন ছিল স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার একটি ইন্টারেস্ট ছিল, টিভির সামনে বসে আমি ডিবেট দেখছিলাম। সেখানে দু’টি মেইন দল লেবার এবং কনজারভেটিভ দলের নেতার মধ্যে এই ডিভেট। অনেক দিন ধরে লেবার ক্ষমতায় ছিল, ২০১০ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভ আসে। তো দুই দলের দুই নেতার মধ্যে একটি আলোচনা হচ্ছিল। খুব দুঃখজনক হলো বাংলাদেশ বাদই দিলাম শুধু ঢাকা শহরের মধ্যেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নেই। গত ৫৪-৫৫ বছরে আমরা মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস গড়ে তুলতে সক্ষম হইনি। এটি খুব দুঃখজনক ব্যাপার। এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিয়ে ওই দুই নেতার মধ্যে তখন কথা হচ্ছিল। যতটুকু আমার মনে আছে তখন ইমার্জেন্সির জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস কল করলে ২০ মিনিটের মতো সময় লাগত অ্যাম্বুলেন্স আসতে। একজন বলছে ২০ মিনিট লাগে, এটাকে আমরা ১৯ মিনিটে নিয়ে আসব। আরেকজন বলছিল ২০ মিনিট লাগে এটাকে আমরা ১৫ মিনিটে নিয়ে আসব। অর্থাৎ একজন এক মিনিট কমাচ্ছে, একজন ৫ মিনিট কমাচ্ছে। এই কাজটি তারা তাদের জনগণের জন্যই করতে চাইছে।

পানি সমস্যার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, পানির সমস্যা এখন যেভাবে চলছে, এভাবে যদি চলে আমার যতটুক ধারণা আগামী ১০ থেকে ১৫ বছর হার্ডলি ২০ বছর পরে ঢাকা শহরে কোনো জায়গা থেকে পানি আমরা পাব না। আমাদের বুড়িগঙ্গা নদী সম্পূর্ণরূপে দূষিত, ১০০% দূষিত। শীতলক্ষ্যা নদী ৫০% এর মতো দূষিত। এখন মেঘনা নদী থেকে পানি আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, কয়েকটা প্রজেক্টে কাজ হচ্ছে। কিন্তু এটার পানিও আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দূষিত হয়ে যাবে। ঢাকা শহরে যে সাড়ে তিন কোটির মতো মানুষ বাস করছে এরা পানি পাবে না। পানির অপর নাম জীবন। সারা দেশে যদি এই সমস্যা শুরু হয় তাহলে বিষয়টি কত ভয়াবহ হতে পারে আমার মনে হয় এরকম বিষয়গুলো নিয়ে এখন আলোচনা হওয়া উচিত। সেটি সংসদে হোক, বিভিন্ন সেমিনারে হোক। কারণ তা না হলে একটি ভয়াবহ ভবিষ্যৎ আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে হয়তোবা হুইচ ইজ ভেরি আনওয়ান্টেড।

কর্মসংস্থান নিয়ে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, আমাদের ২০ কোটির মতো মানুষ এই দেশে এবং এই ২০ কোটি মানুষের মধ্যে একটি বড় অংশ হচ্ছে তরুণ সমাজের সদস্য। এই তরুণ সমাজের সদস্যদের বিভিন্নভাবে উপায় বের করতে হবে, কীভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। সেটি দেশের ভেতরে হোক আর দেশের বাইরে হোক। আমরা যদি এই কাজটি করতে সক্ষম না হই তাহলে আমরা ৫ আগস্ট বলি, ’৯০-এর আন্দোলন বলি, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ বলি, আমাদের মনে হয় খুব সম্ভবত প্রত্যেকটি প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।

নারী-পুরুষের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত বছরে ৭ হাজারের মতো মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আমার কাছে বিষয়টি খুব অস্বাভাবিক লাগে। আমার ধারণা আপনারা যদি একটু চিন্তা করেন আপনাদের প্রত্যেকের কাছে বিষয়টি অস্বাভাবিক লাগবে। কিন্তু ঘটনাটি ঘটছে, কোনো বছর বেশি, কোনো বছর কম। এই অস্বাভাবিক ঘটনাটি কেন ঘটবে? একজন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে যারা মারা যাচ্ছে, আমরা যদি তাদের সামাজিক স্ট্যাটাসটা দেখি খুব অবস্থাপন্ন লোক, যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল তারা যে মারা যাচ্ছেন তা না। কিন্তু যে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে সেই মানুষটি হয়তোবা তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। সেই ব্যক্তি মারা যাবার পর সেই ফ্যামিলিটির কী হচ্ছে অথবা লোকটি যদি পঙ্গু হয়ে যায় মানুষটি যে পঙ্গু হয়ে যায় তাহলে তার ফ্যামিলির ওপর কী হচ্ছে। এই বিষয়টি বোধহয় আমাদের নজরে আনা উচিত। এরকম অনেকগুলো বিষয় আছে যে বিষয়গুলো আমার মনে হয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চিন্তাভাবনা হওয়া উচিত।
কৃষকদের অবস্থা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের বিভিন্ন অসহায়ত্বের নিউজ আপনাদের সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়। আমার দলের বিগত সরকারের কথা বলব সেই সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এত বিশাল সংখ্যাক কৃষক, যারা ২০ কোটি মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করছে, অন্নের সংস্থান করছে, সেই এত বড় সমাজটাকে কীভাবে সাপোর্ট দেওয়া যায়? তাদের হয়তো সেভাবে বলার সুযোগ নেই। এখানে আপনারা সংবাদপত্রের যারা কর্মী আছেন আপনাদের কিছু সমস্যার কথা বলেছেন, আপনাদের সমস্যাটা আমাদের জন্য শুনতে-জানতে সহজ হয়, কারণ আমাদের জন্য একটা ভেন্যু আছে, যেখানে আমরা আলাপ করতে পারি। কিন্তু ওই কৃষকগুলো, যাদের কোনো ভেন্যু নেই, যারা এরকম একটা প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করতে পারছে না তারা কীভাবে বলবে কথাগুলো? কাজেই তাদের কথা তো আমাদের জানতে হবে।

দুর্নীতি কমানোর বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, করাপশনটাকে যাতে স্প্রেড না করে, করাপশনটা যাতে স্বাভাবিক একটা পর্যায়ে থাকে। কিছু তো এনোমেলিজ হতে পারে সেটি আমরা গ্র্যাজুয়ালি ঠিক করব।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, আরেকটি ভয়াবহ পরিস্থিতি হচ্ছে যে, আমাদের জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, আমরা যদি সউদী আরব বা কুয়েতের সবগুলো তেল খনিও এখানে নিয়ে আসি তাহলে হয়তো আমরা এই এত রিসোর্স দিয়ে আমরা এত মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারব না। সেজন্য আমাদের অবশ্যই পপুলেশন কন্ট্রোলে যেতে হবে। আমাদের দেশের জনসংখ্যাকে সীমাবদ্ধতার মধ্যে আনতে হবে এবং সেজন্য এই হেলথ কেয়ারে যে নিয়োগ হবে এই হেলথ কেয়ারের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ, ১ লাখের মতো আমাদের টার্গেট নিয়োগ করা। এই হেলথ কেয়ারের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমরা নারী কর্মীকে নিয়োগ করতে চাই যাতে নারী কর্মীরা গিয়ে ঘরে ঘরে বোঝাতে সক্ষম হন যে, কী জন্য প্রয়োজন হাইজিন মেইনটেইন করা এবং পরিবারকে সুস্থ রাখা, একই সাথে পরিবারকে একটি রিজনেবল সাইজের মধ্যে রাখা পরিবারের সদস্যসংখ্যা। কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, সবার জন্য চিকিৎসা সুবিধা, তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য ভোকেশনাল টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউশন আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, আইটি সেক্টর, উদ্যোক্তা তৈরি করা, আইটি পার্কগুলোকে নতুনভাবে সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলা, কন্টেট তৈরির কাজে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করে আরো সহজ করা।

অনুষ্ঠানে সম্পাদকদের মধ্যে যায়যায় দিনের শফিক রেহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, দৈনিক ইনকিলাবের এ এম এম বাহাউদ্দীন, মানব জমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজের নুরুল কবির, যুগান্তরের আবদুল হাই শিকদার, আমার দেশ-এর মাহমুদুর রহমান, কালের কণ্ঠের হাসান হাফিজ, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, ঢাকা স্টিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ইটিভির আবদুস সালাম, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. জাহেদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- সম্পাদকদের মধ্যে সংবাদের আলতামাশ কবির, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক সমকালের শাহেদ মোহাম্মদ আলী, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ইনাম আহমেদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, প্রতিদিনের বাংলাদেশ এর মারুফ কামাল খান সোহেল, দেশ রূপান্তরের কামাল উদ্দিন সবুজ, বণিক বার্তার হানিফ মাহমুদ, ডেইলি সানের মো. রেজাউল করিম, সুরমা‘র (লন্ডন) শামসুল আলম লিটন, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, মানবকন্ঠের শহীদুল ইসলাম, দেশ বার্তার সালেহ বিপ্লব, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন।

সংবাদপত্রের অন্যদের মধ্যে- নয়া দিগন্তের মাসুমুর রহমান খলিলী, প্রথম আলোর সাজ্জাদ শরীফ, সময়ের আলো‘র সৈয়দ শাহনাজ করিম, জনকন্ঠের খুরশীদ আলম, বাংলাবাজার পত্রিকার রাশেদুল হক, যুগান্তরের এনাম আবেদীন, টাইম অব বাংলাদেশ-এর ইলিয়াস খান, আমাদের সময়ের নজরুল ইসলাম, দৈনিক নাগরিক সংবাদের সুমন প্রামাণিক, দিকপালের সম্পাদক শাহীন রাজা, নাগরিক প্রতিদিন হাসনাইন খরশীদ।

নিউজ এজেন্সির বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আল দীন, প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান, সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা মেইলের সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সুবহান, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মধ্যে- বিবিসির সম্পাদক মীর সাব্বির মোস্তফা, বিশেষ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, আল জাজিরার তানভীর চৌধুরী, রয়টার্সের রুমা পাল, এএফপির শেখ সাবিহা আলম।
টেলিভিশনের মধ্যে- বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুব আলম, জেনারেল ম্যানেজার নুরুল জম পবন, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জেড এম জাহেদুর রহমান, বেসরকারি টেলিভিশনের শীর্ষ প্রধানদের মধ্যে রয়েছেন সময় টিভির জুবায়ের আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, এনটিভির ফখরুল আলম কাঞ্চন, মোস্তফা খন্দকার, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, ডিভিসির লোটন একরাম, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, এটিএনের হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, বৈশাখী টিভির জিয়াউল কবীর সুমন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের শরীফুল ইসলাম খান, গ্রীন টিভির মাহমুদ হাসান, গাজী টিভির গাউসুল আজম দীপু, এটিএন নিউজের শহীদুল আজম, মাছরাঙার রেজানুল হক রাজা, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জহিরুল আলম, আরটিভির ইলিয়াস হোসেন, মোহনা টিভির এম এ মালেক, স্টার টিভির ওয়ালিউর রহমান মিরাজ, এখন এর তুষার আবদুল্লাহ, ইন্ডিপেনডেন্টের মোস্তফা আকমল, মাইটিভির ইউসুফ আলী।

সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে- ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, এম এ আজিজ, নুরু উদ্দিন নুরু, এ কে এম মহসিন, শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, খাজা মাইন উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম রনি, হাফিজুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন রিপন, হাফিজুর রহমান সরকারসহ বিভিন্ন পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিকরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন, মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন, শাম্মী আখতার, শায়রুল কবির খান, আবু সায়েম, বিএনপির সাইমুম পারভেজ, শামসুদ্দিন দিদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম ছিলেন অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। অনুষ্ঠানে সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন।