ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জ-৩ ড. ওসমান ফারুকের প্রার্থিতায় দ্বন্দ্ব ভুলে উচ্ছ্বাসে বিএনপি নেতাকর্মীরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৪৮ বার

Oplus_16908288

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) ড. ওসমান ফারুককে কেন্দ্র করে বিএনপিতে অভূতপূর্ব ঐক্য, দ্বন্দ্ব ভুলে এক কণ্ঠে নেতাকর্মীদের সমর্থন

কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। কোথাও কোথাও মনোনয়ন নিয়ে দলে ভিন্নমত থাকলেও কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে দাঁড় করানো বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও সাবেক সফল  শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুককে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরল ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা পর্যন্ত তাঁর প্রার্থিতাকে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, শুরু থেকেই এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জজকোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউস, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা এবং যুববিষয়ক সম্পাদক ও করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমন। কিন্তু তারা কেউ মনোনয়ন না পেলেও দলীয় শৃঙ্খলার জায়গা থেকে সকলেই ড. ওসমান ফারুকের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) অধ্যাপক ডা. জেহাদ খানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন জেলা সভাপতি মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী প্রভাষক আতাউর রহমান শাহান এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, গত দেড় দশক ধরে এ আসনে প্রভাব বিস্তার করেছেন জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা চারবার বিজয়ী হলেও তাঁর বিরুদ্ধে “রাতের ভোট”, “ভোট ডাকাতি”, এমনকি “বিনা ভোটে এমপি” হওয়ার অভিযোগ বহুবার উঠেছে।

অতীতের নির্বাচনী ফলাফল ঘেঁটে দেখা যায়—
১৯৭৩ সালে জয়ী হন আওয়ামী লীগের এম এ কুদ্দুস
১৯৭৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এম ও গণি
১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু
১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ড. মিজানুল হক
আর ২০০১ সালে বিপুল ভোটে বিজয় হন বিএনপির ড. এম ওসমান ফারুক

এরপর থেকেই আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থনপুষ্ট পরিবেশে এ আসনে জাতীয় পার্টির আধিপত্য টিকে ছিল।

এবারের নির্বাচনে বিএনপির ঐক্য, ড. ওসমান ফারুকের গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘদিনের ক্ষোভ-অসন্তোষ—সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনকে ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জ-৩ ড. ওসমান ফারুকের প্রার্থিতায় দ্বন্দ্ব ভুলে উচ্ছ্বাসে বিএনপি নেতাকর্মীরা

আপডেট টাইম : ১২:০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) ড. ওসমান ফারুককে কেন্দ্র করে বিএনপিতে অভূতপূর্ব ঐক্য, দ্বন্দ্ব ভুলে এক কণ্ঠে নেতাকর্মীদের সমর্থন

কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। কোথাও কোথাও মনোনয়ন নিয়ে দলে ভিন্নমত থাকলেও কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে দাঁড় করানো বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও সাবেক সফল  শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুককে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরল ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা পর্যন্ত তাঁর প্রার্থিতাকে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, শুরু থেকেই এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জজকোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট জালাল মোহাম্মদ গাউস, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা এবং যুববিষয়ক সম্পাদক ও করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমন। কিন্তু তারা কেউ মনোনয়ন না পেলেও দলীয় শৃঙ্খলার জায়গা থেকে সকলেই ড. ওসমান ফারুকের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) অধ্যাপক ডা. জেহাদ খানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন জেলা সভাপতি মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী প্রভাষক আতাউর রহমান শাহান এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, গত দেড় দশক ধরে এ আসনে প্রভাব বিস্তার করেছেন জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা চারবার বিজয়ী হলেও তাঁর বিরুদ্ধে “রাতের ভোট”, “ভোট ডাকাতি”, এমনকি “বিনা ভোটে এমপি” হওয়ার অভিযোগ বহুবার উঠেছে।

অতীতের নির্বাচনী ফলাফল ঘেঁটে দেখা যায়—
১৯৭৩ সালে জয়ী হন আওয়ামী লীগের এম এ কুদ্দুস
১৯৭৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এম ও গণি
১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু
১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ড. মিজানুল হক
আর ২০০১ সালে বিপুল ভোটে বিজয় হন বিএনপির ড. এম ওসমান ফারুক

এরপর থেকেই আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থনপুষ্ট পরিবেশে এ আসনে জাতীয় পার্টির আধিপত্য টিকে ছিল।

এবারের নির্বাচনে বিএনপির ঐক্য, ড. ওসমান ফারুকের গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘদিনের ক্ষোভ-অসন্তোষ—সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনকে ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন।