আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন বিশিষ্ট আলেমে-দীন, সাংবাদিক ও চিন্তাবিদ মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী।
দেশবরেণ্য আলেম ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আতাউর রহমান খান (রহ.)-এর জ্যেষ্ঠ সন্তান মাওলানা নদভী দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, সমাজসেবা, সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে জাতীয় অঙ্গনে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণজীবন:
মাওলানা নদভীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু কিশোরগঞ্জের জামিয়া ইমদাদিয়া মাদরাসায়। ১৯৮৩ সালে সেখান থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করে ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রামের জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ায় আরবি সাহিত্যে তাখাসসুস করেন।
পরবর্তীতে ভারতের প্রখ্যাত নদওয়াতুল উলামা লখনউ থেকে ১৯৮৫-৮৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৯৪ সালে উচ্চতর এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৮৫ সালে মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামি দাওয়াহ ও সংস্কৃতি বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। এছাড়া ১৯৯২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রাষ্ট্র ও রাজনীতি বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা এবং মিডিয়া বিষয়ে পেশাগত প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেন।
সাংবাদিকতা ও ধর্মীয় সেবায় দীর্ঘ যাত্রা:
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত আছেন মাওলানা নদভী। তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ঢাকার মিরপুর মদিনা নগর মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শীর্ষ কওমি মাদরাসায় অতিথি অধ্যাপক হিসেবে পাঠদান করেন তিনি।
দৈনিক ইনকিলাবের স্বর্ণযুগ থেকেই তিনি পত্রিকাটির সঙ্গে যুক্ত। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক ও জাতীয় ইস্যুতে তাঁর বিশ্লেষণধর্মী লেখালেখি পাঠকমহলে ব্যাপক প্রশংসিত।
সাহিত্য ও লেখনীতে বিশেষ অবদান:
বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণায় মাওলানা নদভীর অবদান অনন্য। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ‘আমার দেখা প্রাচ্য’ এবং প্রথম মৌলিক গ্রন্থ ‘অমুসলিম মনীষীদের চোখে আমাদের প্রিয়নবী (সা.)’ পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
তাছাড়া তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে—
‘আধুনিক বিশ্বের চল্লিশজন নওমুসলিমের আত্মকাহিনী’,
‘ইতিহাসের কান্না’, ‘হৃদয় থেকে’, ‘নবীজী (সা.) কেমন ছিলেন’,
‘রক্তভেজা গুজরাট’, ‘ছেঁড়া পাতা’, ‘মুজাহিদের জীবনকথা’ এবং ‘আফগানিস্তানে আমি আল্লাহকে দেখেছি’।
প্রতিটি বই ইসলামী চেতনা, মানবিকতা ও বিশ্ববাস্তবতার মেলবন্ধনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সম্মাননা ও অর্জন:
দীর্ঘ কর্মজীবনে মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী অর্জন করেছেন একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
তিনি পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ পদক, শুরূক সাহিত্য পদক, শিকড় সম্মাননা পদক, আদর্শ নারী গুণীজন সম্মাননা ও মারকাজুত তাহফিজ সম্মাননা।
ব্যক্তিজীবন ও আগ্রহ:
১৯৬৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ শহরের জামিয়া রোডের নূর মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা নদভী। তাঁর পিতা মাওলানা আতাউর রহমান খান (রহ.) ও মাতা মুরশিদা-ই-আমিনা। বর্তমানে তিনি ঢাকার আর কে মিশন রোডে বসবাস করছেন।
ভ্রমণ তাঁর অন্যতম প্রিয় শখ। কাজ ও আগ্রহের মিল ঘটিয়ে তিনি ভ্রমণ করেছেন ভারত, পাকিস্তান, ইরান, কুয়েত, কাতার, আবুধাবি, দুবাই ও সৌদি আরবসহ বহু দেশ।
নতুন সমীকরণে কিশোরগঞ্জ-১ আসন:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি জোট থেকে যদি মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী মনোনয়ন পান, তাহলে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে তৈরি হবে নতুন ও ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক সমীকরণ।
ধর্মীয় শিক্ষা, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই জনপ্রিয় আলেমের প্রার্থীতা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: স্থানীয় রাজনৈতিক মহল
Reporter Name 





















