অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন পর্যন্ত বাংলাদেশের নদী ও সাগরের সব জায়গায় ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন রমজান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘একইসঙ্গে এই ৫৮ দিন ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয় ও বিক্রি কার্যক্রমও নিষিদ্ধ থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘সারা বছর পাঠানো না গেলেও আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসীদের জন্য ইলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী সর্বাধিক প্রবাসী কর্মজীবী আছেন সৌদি আরবে, প্রায় ৪৪ লাখ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছেন প্রায় ২২ লাখ।’
তিনি আরও বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক অবস্থায় দুটি দেশে মোট ১১ হাজার টন ইলিশ রপ্তানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে। চলতি বছর আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এটি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর অন্যান্য দেশে পাঠানোর বিষয়ে বিবেচনা করা যেতে পারে।’
এ সময় আসন্ন রমজানে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের সরবরাহ এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে নিজেদের উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘১ রমজান থেকে ২৮ রমজান পর্যন্ত রাজধানীতে সাশ্রয়ী মূল্যে ব্রয়লার মুরগি, ডিম, পাস্তুরিত দুধ ও গরুর মাংস বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
ফরিদা আখতার বলেন, ‘ড্রেসড ব্রয়লার মাংস প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, পাস্তুরিত দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা, প্রতি ডজন ডিম ১১৪ টাকা এবং প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ টাকায় বিক্রয় হবে।’
রাজধানীর ২৫টি স্থানে গাড়িতে করে এসব পণ্য ন্যায্য দামে বিক্রয় করা হবে বলে জানান তিনি।