ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আমদানিতে মূল্যবৃদ্ধি: কারসাজিতে বাড়ল দেশি আলুর দামও

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
  • ২২ বার

ভারত থেকে আমদানি করা আলুর দাম বৃদ্ধির অজুহাতে আলুর বাজারে ফের নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। কারসাজিতে বাড়ানো হয়েছে দেশি জাতের দামও। ফলে এক মাস আগে প্রতি কেজি আলু ৩৫ টাকা বিক্রি হলেও এখন ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সর্বশেষ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি কেজি ২৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে হিসাবে বাজারে কেজিপ্রতি আলু কিনতে ক্রেতাকে অতিরিক্ত ৩১ টাকা বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। পাশাপাশি সরবরাহ ঠিক থাকলেও খুচরা বাজারে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে ক্রেতার এসব পণ্য কিনতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বুধবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ড. গোলাম রহমান বলেন, মৌসুমে আলুর দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এখন পণ্যটির দাম কম থাকার কথা। কিন্তু ভোক্তাকে বাড়তি দরে কিনতে হচ্ছে। এগুলো ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে হয়েছে। এছাড়া সরকার দাম নির্ধারণ করলেও সেই দামে বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে তদারকিও নেই। ফলে প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তা।

ঈদের পর হিলি স্থলবন্দর এলাকায় প্রতি কেজি আলুর দাম ১০-১২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভারতে আলুখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সেখানে সংকট দেখা দিয়েছে। বেড়েছে দামও। তবে মঙ্গলবার ভারত থেকে আলু আমদানি আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদের আগে যে ভারতীয় আলু বন্দর অভ্যন্তরে পাইকাররা কেজিতে ২৮-৩০ টাকা কেজিতে কিনেছে, সেই আলু ৩৮-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন জানান, হিলি স্থলবন্দরে আলু আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। রমজানে প্রতি কেজি আলু আমদানিতে খরচ পড়ত ২৮-২৯ টাকা। এখন ৫-৭ টাকা বেশি দরে কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত থেকে আলু আমদানি না হলে দেশে এর দাম ৭০-৮০ টাকা হবে।

এদিকে গত মৌসুমে কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল সর্বোচ্চ ১৩ টাকা। এবার কৃষি বিভাগের হিসাবে, উৎপাদন খরচ কেজিতে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা। বলা হয়েছিল কৃষকরা ১৮ থেকে ১৯ টাকায় আলু বিক্রি করবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মৌসুমের শুরুতেই কৃষক পর্যায়ে আলুর কেজি ছিল ২৬ টাকা। আর এখন তা ৩০ টাকা ছাড়িয়েছে। রাজধানীর কাওরান বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদের আগে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৩৫-৩৭ টাকা। বুধবার বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা, যা পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা। এক মাস আগে ৩৫ টাকা ছিল। আর গত বছর একই সময় ২৮-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, খুচরা বাজারে মাসের তুলনায় প্রতি কেজি আলুর দাম ২৬.৬৭ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। আর বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৬৩.৭৯ শতাংশ।

শান্তিনগর কাঁচাবাজারে আলু কিনতে আসা নাজমুল বলেন, কয়েকদিন পরপর বাজারে আলুর দাম নিয়ে কারসাজি হচ্ছে। সুযোগ বুঝে বাড়ানো হচ্ছে দাম। তবে বাজারে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদামতো কেনা যাচ্ছে। তবে খরচ করতে হচ্ছে বেশি টাকা, যা ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা করার কারসাজি।

একই বাজারে আলু বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, ঈদের আগে প্রতি কেজি আলু পাইকারি পর্যায়ে ৩৫-৩৬ টাকায় কিনেছি। এখন ৪৫-৪৮ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বস্তায় পচা আলু বাদ দিতে হচ্ছে। সঙ্গে পরিবহণ খরচ আছে। সব মিলে আলু ৫৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ হিমাগার মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, কৃষক আলু মাঠ থেকে তুলে ৩০ টাকার ওপরে বিক্রি করছে। এর সঙ্গে যোগ হবে ব্যাগিংয়ের খরচ, পরিবহণ খরচ এবং হিমাগারে সংরক্ষণের খরচ। বিদ্যুতের দামে যে পরিবর্তন আসছে, সেটারও একটা প্রভাব পড়বে। এতে ব্যবসায়ীদের কোনো কারসাজি নেই।

এদিকে রাজধানীর খুচরা বাজারে পেঁয়াজ, আদা-রসুনের দামও বাড়ানো হয়েছে। বুধবার খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ৬০-৭০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৭০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগেও ১২০-১৫০ টাকা ছিল। আর আমদানি করা আদা সর্বোচ্চ ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ২২০ টাকা ছিল।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

আমদানিতে মূল্যবৃদ্ধি: কারসাজিতে বাড়ল দেশি আলুর দামও

আপডেট টাইম : ১০:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

ভারত থেকে আমদানি করা আলুর দাম বৃদ্ধির অজুহাতে আলুর বাজারে ফের নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। কারসাজিতে বাড়ানো হয়েছে দেশি জাতের দামও। ফলে এক মাস আগে প্রতি কেজি আলু ৩৫ টাকা বিক্রি হলেও এখন ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সর্বশেষ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি কেজি ২৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে হিসাবে বাজারে কেজিপ্রতি আলু কিনতে ক্রেতাকে অতিরিক্ত ৩১ টাকা বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। পাশাপাশি সরবরাহ ঠিক থাকলেও খুচরা বাজারে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে ক্রেতার এসব পণ্য কিনতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বুধবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ড. গোলাম রহমান বলেন, মৌসুমে আলুর দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এখন পণ্যটির দাম কম থাকার কথা। কিন্তু ভোক্তাকে বাড়তি দরে কিনতে হচ্ছে। এগুলো ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে হয়েছে। এছাড়া সরকার দাম নির্ধারণ করলেও সেই দামে বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে তদারকিও নেই। ফলে প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তা।

ঈদের পর হিলি স্থলবন্দর এলাকায় প্রতি কেজি আলুর দাম ১০-১২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভারতে আলুখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সেখানে সংকট দেখা দিয়েছে। বেড়েছে দামও। তবে মঙ্গলবার ভারত থেকে আলু আমদানি আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদের আগে যে ভারতীয় আলু বন্দর অভ্যন্তরে পাইকাররা কেজিতে ২৮-৩০ টাকা কেজিতে কিনেছে, সেই আলু ৩৮-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন জানান, হিলি স্থলবন্দরে আলু আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। রমজানে প্রতি কেজি আলু আমদানিতে খরচ পড়ত ২৮-২৯ টাকা। এখন ৫-৭ টাকা বেশি দরে কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত থেকে আলু আমদানি না হলে দেশে এর দাম ৭০-৮০ টাকা হবে।

এদিকে গত মৌসুমে কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল সর্বোচ্চ ১৩ টাকা। এবার কৃষি বিভাগের হিসাবে, উৎপাদন খরচ কেজিতে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা। বলা হয়েছিল কৃষকরা ১৮ থেকে ১৯ টাকায় আলু বিক্রি করবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মৌসুমের শুরুতেই কৃষক পর্যায়ে আলুর কেজি ছিল ২৬ টাকা। আর এখন তা ৩০ টাকা ছাড়িয়েছে। রাজধানীর কাওরান বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদের আগে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৩৫-৩৭ টাকা। বুধবার বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা, যা পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা। এক মাস আগে ৩৫ টাকা ছিল। আর গত বছর একই সময় ২৮-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, খুচরা বাজারে মাসের তুলনায় প্রতি কেজি আলুর দাম ২৬.৬৭ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। আর বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৬৩.৭৯ শতাংশ।

শান্তিনগর কাঁচাবাজারে আলু কিনতে আসা নাজমুল বলেন, কয়েকদিন পরপর বাজারে আলুর দাম নিয়ে কারসাজি হচ্ছে। সুযোগ বুঝে বাড়ানো হচ্ছে দাম। তবে বাজারে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদামতো কেনা যাচ্ছে। তবে খরচ করতে হচ্ছে বেশি টাকা, যা ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা করার কারসাজি।

একই বাজারে আলু বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, ঈদের আগে প্রতি কেজি আলু পাইকারি পর্যায়ে ৩৫-৩৬ টাকায় কিনেছি। এখন ৪৫-৪৮ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বস্তায় পচা আলু বাদ দিতে হচ্ছে। সঙ্গে পরিবহণ খরচ আছে। সব মিলে আলু ৫৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ হিমাগার মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, কৃষক আলু মাঠ থেকে তুলে ৩০ টাকার ওপরে বিক্রি করছে। এর সঙ্গে যোগ হবে ব্যাগিংয়ের খরচ, পরিবহণ খরচ এবং হিমাগারে সংরক্ষণের খরচ। বিদ্যুতের দামে যে পরিবর্তন আসছে, সেটারও একটা প্রভাব পড়বে। এতে ব্যবসায়ীদের কোনো কারসাজি নেই।

এদিকে রাজধানীর খুচরা বাজারে পেঁয়াজ, আদা-রসুনের দামও বাড়ানো হয়েছে। বুধবার খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ৬০-৭০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৭০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগেও ১২০-১৫০ টাকা ছিল। আর আমদানি করা আদা সর্বোচ্চ ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ২২০ টাকা ছিল।