ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর: শিক্ষামন্ত্রী টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠক সম্পন্ন মাছের সংকটে অস্তিত্বের লড়াইয়ে ভাঙ্গুড়ার ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি শিল্প ইয়োহেই সাসাকাওয়ার নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী, ভ্যাকসিন উৎপাদন কারখানা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর গুরুত্বপূর্ণ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ জাইকার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

পৌষের সাজে অপরূপ গ্রাম বাংলা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩
  • ২৮৫ বার

গাছপালা ঘেরা শান্ত পরিবেশে নিরিবিলি ভোর। কোন গাড়ির হর্নের আওয়াজ নেই, যান্ত্রিক জীবনের তাড়াহুড়ো নেই। ঠাণ্ডায় ঘরের বাইরে পা না রাখতে চাইলেও প্রকৃতি দেখার বিশেষ আকর্ষণে ঘরের বাইরে যাই।

আহ! কি চমৎকার কুয়াশা-ঢাকা সকাল। গাছের পাতায় শিশিরের ছোঁয়া। গাছে গাছে জবা, গোলাপ, করবী আর পারিজাত ফুলের হাসাহাসি। পুকুরে ভেসে বেড়াচ্ছে পাতি হাঁসের দল।

উঠোন জুড়ে হালকা মিষ্টি রোদের ঝিলিক দেখেই পা বাড়াই বাড়ির বাইরে। উদ্দেশ্য সর্ষে ক্ষেত দেখবো।

পৌষের শুরুতেই প্রকৃতি শীতের বিভিন্ন আয়োজনে যেন মেলা বসেছে। পুরো গ্রামের ক্ষেত জুড়ে হলুদের ঢেউ।  সর্ষের হলুদ আর সবুজ গাছে পুরো গ্রাম যেন সেজেছে সবুজ-হলুদে। সর্ষের ফুলের চারপাশ ঘিরে মৌমাছির আনাগোনা। সূর্যের আলো আর সর্ষের সংমিশ্রণে সৃষ্টি হচ্ছে দারুণ এক দৃশ্যের।

গাছে গাছে খেজুরের রসের হাঁড়ি। নিপাহ ভাইরাসের কারণে রস খেলাম না। কিন্তু প্রকৃতি উপভোগ করতে তো সমস্যা নেই। মেঠো পথের দু’ধারে খেজুরের গাছ। দু’পাশে সর্ষে ক্ষেত, কি অসাধারণ উপভোগ্য সময়। সর্ষে ফুলের ঘ্রানে বিভোর আর খেজুরের রসে ঘ্রাণ আ…হা…।

পথে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পাখির ডাক।  দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ সুরেলা কন্ঠ শুনলাম। আবার স্বপ্নের পথে হেঁটে চলা।

সন্ধ্যা হতেই উঠোনে ব্যাডমিন্টন খেলা শুরু। আরেক পাশে চলছে ইট দিয়ে চুলা তৈরির কাজ। পিকনিক হবে সবাই মিলে। খিচুড়ি আর গরুর মাংস।

শীতে গ্রামে হাঁস, পিঠাপুলি খাওয়ার রেওয়াজ বাঙালির বহু দিনের। সৌভাগ্যক্রমে পেলাম ছিটা রুটি আর নারকেল দিয়ে পাতি হাঁসের মাংস। শীত এলেই যেন স্বাদ বেড়ে যায় এসব খাবারের।

পরদিন সকাল হতেই পুকুরে মাছ ধরার পালা। শীতে কি আর মাছ ধরা দেয়! অনেকবার জাল ফেলার পর পাওয়া গেলো মাছ।

বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামই সুন্দর। আ-হা কি সেই রূপ! কেবলই মনে পড়ছে দিজেন্দ্রলাল রায়ের দেশাত্মবোধক ওই গানটা।

“এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি

সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।”

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির

পৌষের সাজে অপরূপ গ্রাম বাংলা

আপডেট টাইম : ১২:৩৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩

গাছপালা ঘেরা শান্ত পরিবেশে নিরিবিলি ভোর। কোন গাড়ির হর্নের আওয়াজ নেই, যান্ত্রিক জীবনের তাড়াহুড়ো নেই। ঠাণ্ডায় ঘরের বাইরে পা না রাখতে চাইলেও প্রকৃতি দেখার বিশেষ আকর্ষণে ঘরের বাইরে যাই।

আহ! কি চমৎকার কুয়াশা-ঢাকা সকাল। গাছের পাতায় শিশিরের ছোঁয়া। গাছে গাছে জবা, গোলাপ, করবী আর পারিজাত ফুলের হাসাহাসি। পুকুরে ভেসে বেড়াচ্ছে পাতি হাঁসের দল।

উঠোন জুড়ে হালকা মিষ্টি রোদের ঝিলিক দেখেই পা বাড়াই বাড়ির বাইরে। উদ্দেশ্য সর্ষে ক্ষেত দেখবো।

পৌষের শুরুতেই প্রকৃতি শীতের বিভিন্ন আয়োজনে যেন মেলা বসেছে। পুরো গ্রামের ক্ষেত জুড়ে হলুদের ঢেউ।  সর্ষের হলুদ আর সবুজ গাছে পুরো গ্রাম যেন সেজেছে সবুজ-হলুদে। সর্ষের ফুলের চারপাশ ঘিরে মৌমাছির আনাগোনা। সূর্যের আলো আর সর্ষের সংমিশ্রণে সৃষ্টি হচ্ছে দারুণ এক দৃশ্যের।

গাছে গাছে খেজুরের রসের হাঁড়ি। নিপাহ ভাইরাসের কারণে রস খেলাম না। কিন্তু প্রকৃতি উপভোগ করতে তো সমস্যা নেই। মেঠো পথের দু’ধারে খেজুরের গাছ। দু’পাশে সর্ষে ক্ষেত, কি অসাধারণ উপভোগ্য সময়। সর্ষে ফুলের ঘ্রানে বিভোর আর খেজুরের রসে ঘ্রাণ আ…হা…।

পথে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পাখির ডাক।  দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ সুরেলা কন্ঠ শুনলাম। আবার স্বপ্নের পথে হেঁটে চলা।

সন্ধ্যা হতেই উঠোনে ব্যাডমিন্টন খেলা শুরু। আরেক পাশে চলছে ইট দিয়ে চুলা তৈরির কাজ। পিকনিক হবে সবাই মিলে। খিচুড়ি আর গরুর মাংস।

শীতে গ্রামে হাঁস, পিঠাপুলি খাওয়ার রেওয়াজ বাঙালির বহু দিনের। সৌভাগ্যক্রমে পেলাম ছিটা রুটি আর নারকেল দিয়ে পাতি হাঁসের মাংস। শীত এলেই যেন স্বাদ বেড়ে যায় এসব খাবারের।

পরদিন সকাল হতেই পুকুরে মাছ ধরার পালা। শীতে কি আর মাছ ধরা দেয়! অনেকবার জাল ফেলার পর পাওয়া গেলো মাছ।

বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামই সুন্দর। আ-হা কি সেই রূপ! কেবলই মনে পড়ছে দিজেন্দ্রলাল রায়ের দেশাত্মবোধক ওই গানটা।

“এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি

সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।”