ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

জ্বালানি তেলের সংকট সমাধানে বুধবার আন্দোলনে নামছে সিলেটের তেল ব্যবসায়ীরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ মার্চ ২০২২
  • ১৯৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট চলছে সিলেটে। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও হচ্ছে না সুরাহা। এ অবস্থায় আগামী ৯ মার্চ ( বুধবার) থেকে আন্দোলনে নামছেন সিলেটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। ওইদিন সকল ট্যাংক-লরি নিয়ে তারা রাস্তায় নেমে করবেন বিক্ষোভ প্রদর্শন। পরবর্তীতে কঠোর পদক্ষেপ নিবেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, সিলেটে জ্বালানি তেল সংকট চলছে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। সিলেটের ফিল্ডগুলোতে উত্তোলন বন্ধ ও চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পরিবহন সমস্যায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। কোনোভাবেই জ্বালানি তেলের এ সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারছেন না সিলেটের ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বার বার ধর্ণা এবং কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েও হচ্ছে না সমাধান। সর্বশেষ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এক মতবিনিময় সভা। ওই সভায় এক সপ্তাহের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন সিলেটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। এ সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন বলে ওইদিন হুশিয়ারি দিয়েছিলেন তারা। এসময় দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কোনো সমাধান হয়নি। সেকারনে বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামছেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, রবিবার দক্ষিণ সুরমার কয়েকটি পাম্পে জ্বালানি তেল প্রায় নেই বলে জানিয়েছেন ‘সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প, সিএনজি, এলপিজি, ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’র আহবায়ক সিরাজুল হোসেন আহমদ আলমগীর। বিষয়টি জানিয়ে রবিবার এ সংশ্লিষ্ট ৫টি সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবরে করা হয়েছে স্মারকলিপি প্রদান। সংগঠনগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস্ এন্ড পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ এলপিজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি এবং সিলেট বিভাগীয় ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত ‘সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প সিএনজি এলপিজি, ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে আগামী ৯ মার্চ সিলেটের রাস্তায় ট্যাংক-লরি দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবো। এরপরে আসবে কঠোর আন্দোলনের ডাক।
উল্লেখ্য, সিলেটে গত প্রায় দেড় বছর ধরে স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি তেলের উৎপাদন বন্ধ। যে কারণে তেল সংকটে পড়েছেন এখানের ব্যবসায়ীরা। গত বছরের অক্টোবরে সিলেটে তেলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় বৈঠক করে আন্দোলনের হুমকি দেয়ার পরে তেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়। তবে এ সরবরাহ পর্যাপ্ত ছিলো না। এরই মাঝে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে সিলেটে তেলের সঙ্কট দেখা দেয় আবারও। এই সংকটের জন্য সংশ্লিষ্টরা সিলেটে উৎপাদন বন্ধ, চট্টগ্রামে তেল শূন্যতা ও রেল কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় ওয়াগন আসার অনিয়মকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীদের তথ্যে মতে, সিলেটে জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ লিটার। এর মধ্যে বর্তমান সরবরাহ অনুযায়ী মাত্র ৩ থেকে সোয়া ৩ লক্ষ লিটারের মতো পড়ে। সে তেল সিলেটের ৪টি ডিপোর মধ্যে ভাগ করে নেন তারা। এর জন্য কোনো কোম্পানিই চাহিদা পূরণ করতে পারেন না গ্রাহকের। চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি তেল আসে সিলেটের পেট্রোল পাম্পগুলোতে। সিলেটে তেল সরবরাহ রেলের ওয়াগন নির্ভর। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রেল বিভাগের উদাসিনতাও সিলেটে তেলের তীব্র সঙ্কটের একটি অন্যতম কারণ। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এক বছর পূর্বেও সিলেটের গ্যাস ফিল্ডসমূহের খনির উত্তোলিত কনডেনসেট থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন করে সরবরাহ করা হতো সিলেটের পাম্পগুলোতে। সেসময় কখনো জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়নি সিলেটে। ১ বছরের বেশি সময় থেকে সিলেটের গ্যাস ফিল্ড থেকে পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে সিলেটের পাম্প মালিকদেরকে ওয়াগনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি সরবরাহ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। সিলেটের গ্যাসফিল্ড থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ করাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন স্থানীয় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার নারীর স্বাস্থ্যকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে

জ্বালানি তেলের সংকট সমাধানে বুধবার আন্দোলনে নামছে সিলেটের তেল ব্যবসায়ীরা

আপডেট টাইম : ১০:৩৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ মার্চ ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কট চলছে সিলেটে। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও হচ্ছে না সুরাহা। এ অবস্থায় আগামী ৯ মার্চ ( বুধবার) থেকে আন্দোলনে নামছেন সিলেটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। ওইদিন সকল ট্যাংক-লরি নিয়ে তারা রাস্তায় নেমে করবেন বিক্ষোভ প্রদর্শন। পরবর্তীতে কঠোর পদক্ষেপ নিবেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, সিলেটে জ্বালানি তেল সংকট চলছে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। সিলেটের ফিল্ডগুলোতে উত্তোলন বন্ধ ও চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পরিবহন সমস্যায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। কোনোভাবেই জ্বালানি তেলের এ সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারছেন না সিলেটের ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বার বার ধর্ণা এবং কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েও হচ্ছে না সমাধান। সর্বশেষ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এক মতবিনিময় সভা। ওই সভায় এক সপ্তাহের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন সিলেটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। এ সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন বলে ওইদিন হুশিয়ারি দিয়েছিলেন তারা। এসময় দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কোনো সমাধান হয়নি। সেকারনে বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামছেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, রবিবার দক্ষিণ সুরমার কয়েকটি পাম্পে জ্বালানি তেল প্রায় নেই বলে জানিয়েছেন ‘সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প, সিএনজি, এলপিজি, ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’র আহবায়ক সিরাজুল হোসেন আহমদ আলমগীর। বিষয়টি জানিয়ে রবিবার এ সংশ্লিষ্ট ৫টি সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবরে করা হয়েছে স্মারকলিপি প্রদান। সংগঠনগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস্ এন্ড পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ এলপিজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি এবং সিলেট বিভাগীয় ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত ‘সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প সিএনজি এলপিজি, ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে আগামী ৯ মার্চ সিলেটের রাস্তায় ট্যাংক-লরি দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবো। এরপরে আসবে কঠোর আন্দোলনের ডাক।
উল্লেখ্য, সিলেটে গত প্রায় দেড় বছর ধরে স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি তেলের উৎপাদন বন্ধ। যে কারণে তেল সংকটে পড়েছেন এখানের ব্যবসায়ীরা। গত বছরের অক্টোবরে সিলেটে তেলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় বৈঠক করে আন্দোলনের হুমকি দেয়ার পরে তেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়। তবে এ সরবরাহ পর্যাপ্ত ছিলো না। এরই মাঝে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে সিলেটে তেলের সঙ্কট দেখা দেয় আবারও। এই সংকটের জন্য সংশ্লিষ্টরা সিলেটে উৎপাদন বন্ধ, চট্টগ্রামে তেল শূন্যতা ও রেল কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় ওয়াগন আসার অনিয়মকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীদের তথ্যে মতে, সিলেটে জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ লিটার। এর মধ্যে বর্তমান সরবরাহ অনুযায়ী মাত্র ৩ থেকে সোয়া ৩ লক্ষ লিটারের মতো পড়ে। সে তেল সিলেটের ৪টি ডিপোর মধ্যে ভাগ করে নেন তারা। এর জন্য কোনো কোম্পানিই চাহিদা পূরণ করতে পারেন না গ্রাহকের। চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি তেল আসে সিলেটের পেট্রোল পাম্পগুলোতে। সিলেটে তেল সরবরাহ রেলের ওয়াগন নির্ভর। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রেল বিভাগের উদাসিনতাও সিলেটে তেলের তীব্র সঙ্কটের একটি অন্যতম কারণ। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এক বছর পূর্বেও সিলেটের গ্যাস ফিল্ডসমূহের খনির উত্তোলিত কনডেনসেট থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন করে সরবরাহ করা হতো সিলেটের পাম্পগুলোতে। সেসময় কখনো জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়নি সিলেটে। ১ বছরের বেশি সময় থেকে সিলেটের গ্যাস ফিল্ড থেকে পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে সিলেটের পাম্প মালিকদেরকে ওয়াগনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি সরবরাহ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। সিলেটের গ্যাসফিল্ড থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ করাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন স্থানীয় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা।