ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস

রাঙ্গামাটির বাজার আনারসে সয়লাব

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ এপ্রিল ২০১৬
  • ৫৪৬ বার

মৌসুমের আগেই আগাম আনারসে সয়লাব পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বাজারগুলো। মৌসুমী ফল আনারসের মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর পাহাড়ি এলাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আনারস বাজারজাত হয়ে যাচ্ছে জেলার বাইরেও। তবে টক না হলেও মিষ্টি কম। হরমোন জাতীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা আনারসের আগাম ফলন আনতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

কৃষিবিদরা জানান, প্রতি বছর গ্রীষ্ম-বর্ষা মৌসুমে রাঙ্গামাটি জেলায় প্রচুর আনারসের ফলন হয়। উন্নত চাষাবাদ এবং উপযুক্ত জলবায়ুর কারণে প্রতি মৌসুমে এ জেলায় আনারসের ফলন ভালো পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক মৌসুমে হরমোন জাতীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে মৌসুমের আগেই আনারসের আগাম ফলন আসছে। ফলে চলতি মৌসুমে মে মাসের শুরুর দিকে আনারসের ফলন আসার কথা থাকলেও ইতিমধ্যে জেলার হাটবাজারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে আনারস বিক্রি করছেন কৃষকরা।

নানিয়ারচরের কৃষক নূরুল আবছার ও পুষ্প মোহন চাকমা জানান, এ বছর অগ্রীম ফলন হওয়ায় বাজারে আনারস বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। বাজার দরও ভালো। বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরেও বাজারজাত হয়ে যাচ্ছে এখানকার আনারস। বর্তমানে রাঙ্গামাটি শহরের হাটবাজারগুলোতে প্রতিটি আনারস বিক্রি হচ্ছে ২০/২৫ টাকায়। কিন্তু স্থানীয়ভাবে কোথাও হিমাগার না থাকায় এবং যোগাযোগ দুর্গমতার কারণে সঠিক সময়ে সুষ্ঠু বাজারজাত নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, পাহাড়ি এলাকায় প্রতি বছর কয়েক হাজার একর জমিতে আনারসের চাষাবাদ হয়ে থাকে। ফলন আসে লক্ষ্যমাত্রার অধিক। সারা দেশের মধ্যে হানিকুইন জাতের আনারস সবচেয়ে বেশি ফলে রাঙ্গামাটি জেলায়। এ জাতের আনরসকে স্থানীয়ভাবে দেশি আনারসও বলা হয়। দেশি আনারস পাকলে খুব মিষ্টি হয়। যে কারণে এ জাতের আনারসের কদরও বেশি। এছাড়া জায়েনকিউ বা সিঙ্গাপুরি আনারসের আবাদও হয় রাঙ্গামাটিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর, লংগদু, সদর ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় আনারসের আবাদ ও উৎপাদন হয় বেশি। বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত আনারস কৃষকরা ছোট ছোট ইঞ্জিন বোট করে রাঙ্গামাটি শহরের সমতাঘাট, পৌরসভা ট্রাক টার্মিনাল ও রির্জাভবাজারে নিয়ে আসেন। এখানকার উৎপাদিত আনারস ঢাকা-চট্টগ্রামসহ জেলার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কৃষিবিদরা মনে করেন, আনারসসহ পার্বত্যাঞ্চলে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজজাত পণ্য সংরক্ষরণের জন্য হিমাগার এবং কৃষিভিত্তিক ফলমূল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প-কারখানা স্থাপন করা গেলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেত। পচনশীল পণ্য আর নষ্ট হতো না। কৃষকরাও ন্যায্য দর থেকে বঞ্চিত হতো না।

রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ মৌসুমে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর পাহাড়ি ঢালু জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা

রাঙ্গামাটির বাজার আনারসে সয়লাব

আপডেট টাইম : ১১:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ এপ্রিল ২০১৬

মৌসুমের আগেই আগাম আনারসে সয়লাব পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বাজারগুলো। মৌসুমী ফল আনারসের মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর পাহাড়ি এলাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আনারস বাজারজাত হয়ে যাচ্ছে জেলার বাইরেও। তবে টক না হলেও মিষ্টি কম। হরমোন জাতীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা আনারসের আগাম ফলন আনতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

কৃষিবিদরা জানান, প্রতি বছর গ্রীষ্ম-বর্ষা মৌসুমে রাঙ্গামাটি জেলায় প্রচুর আনারসের ফলন হয়। উন্নত চাষাবাদ এবং উপযুক্ত জলবায়ুর কারণে প্রতি মৌসুমে এ জেলায় আনারসের ফলন ভালো পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক মৌসুমে হরমোন জাতীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে মৌসুমের আগেই আনারসের আগাম ফলন আসছে। ফলে চলতি মৌসুমে মে মাসের শুরুর দিকে আনারসের ফলন আসার কথা থাকলেও ইতিমধ্যে জেলার হাটবাজারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে আনারস বিক্রি করছেন কৃষকরা।

নানিয়ারচরের কৃষক নূরুল আবছার ও পুষ্প মোহন চাকমা জানান, এ বছর অগ্রীম ফলন হওয়ায় বাজারে আনারস বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। বাজার দরও ভালো। বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরেও বাজারজাত হয়ে যাচ্ছে এখানকার আনারস। বর্তমানে রাঙ্গামাটি শহরের হাটবাজারগুলোতে প্রতিটি আনারস বিক্রি হচ্ছে ২০/২৫ টাকায়। কিন্তু স্থানীয়ভাবে কোথাও হিমাগার না থাকায় এবং যোগাযোগ দুর্গমতার কারণে সঠিক সময়ে সুষ্ঠু বাজারজাত নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, পাহাড়ি এলাকায় প্রতি বছর কয়েক হাজার একর জমিতে আনারসের চাষাবাদ হয়ে থাকে। ফলন আসে লক্ষ্যমাত্রার অধিক। সারা দেশের মধ্যে হানিকুইন জাতের আনারস সবচেয়ে বেশি ফলে রাঙ্গামাটি জেলায়। এ জাতের আনরসকে স্থানীয়ভাবে দেশি আনারসও বলা হয়। দেশি আনারস পাকলে খুব মিষ্টি হয়। যে কারণে এ জাতের আনারসের কদরও বেশি। এছাড়া জায়েনকিউ বা সিঙ্গাপুরি আনারসের আবাদও হয় রাঙ্গামাটিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর, লংগদু, সদর ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় আনারসের আবাদ ও উৎপাদন হয় বেশি। বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত আনারস কৃষকরা ছোট ছোট ইঞ্জিন বোট করে রাঙ্গামাটি শহরের সমতাঘাট, পৌরসভা ট্রাক টার্মিনাল ও রির্জাভবাজারে নিয়ে আসেন। এখানকার উৎপাদিত আনারস ঢাকা-চট্টগ্রামসহ জেলার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কৃষিবিদরা মনে করেন, আনারসসহ পার্বত্যাঞ্চলে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজজাত পণ্য সংরক্ষরণের জন্য হিমাগার এবং কৃষিভিত্তিক ফলমূল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প-কারখানা স্থাপন করা গেলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেত। পচনশীল পণ্য আর নষ্ট হতো না। কৃষকরাও ন্যায্য দর থেকে বঞ্চিত হতো না।

রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ মৌসুমে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর পাহাড়ি ঢালু জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার মেট্রিক টন।