ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

রাঙ্গামাটির বাজার আনারসে সয়লাব

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ এপ্রিল ২০১৬
  • ৫৫৬ বার

মৌসুমের আগেই আগাম আনারসে সয়লাব পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বাজারগুলো। মৌসুমী ফল আনারসের মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর পাহাড়ি এলাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আনারস বাজারজাত হয়ে যাচ্ছে জেলার বাইরেও। তবে টক না হলেও মিষ্টি কম। হরমোন জাতীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা আনারসের আগাম ফলন আনতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

কৃষিবিদরা জানান, প্রতি বছর গ্রীষ্ম-বর্ষা মৌসুমে রাঙ্গামাটি জেলায় প্রচুর আনারসের ফলন হয়। উন্নত চাষাবাদ এবং উপযুক্ত জলবায়ুর কারণে প্রতি মৌসুমে এ জেলায় আনারসের ফলন ভালো পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক মৌসুমে হরমোন জাতীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে মৌসুমের আগেই আনারসের আগাম ফলন আসছে। ফলে চলতি মৌসুমে মে মাসের শুরুর দিকে আনারসের ফলন আসার কথা থাকলেও ইতিমধ্যে জেলার হাটবাজারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে আনারস বিক্রি করছেন কৃষকরা।

নানিয়ারচরের কৃষক নূরুল আবছার ও পুষ্প মোহন চাকমা জানান, এ বছর অগ্রীম ফলন হওয়ায় বাজারে আনারস বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। বাজার দরও ভালো। বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরেও বাজারজাত হয়ে যাচ্ছে এখানকার আনারস। বর্তমানে রাঙ্গামাটি শহরের হাটবাজারগুলোতে প্রতিটি আনারস বিক্রি হচ্ছে ২০/২৫ টাকায়। কিন্তু স্থানীয়ভাবে কোথাও হিমাগার না থাকায় এবং যোগাযোগ দুর্গমতার কারণে সঠিক সময়ে সুষ্ঠু বাজারজাত নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, পাহাড়ি এলাকায় প্রতি বছর কয়েক হাজার একর জমিতে আনারসের চাষাবাদ হয়ে থাকে। ফলন আসে লক্ষ্যমাত্রার অধিক। সারা দেশের মধ্যে হানিকুইন জাতের আনারস সবচেয়ে বেশি ফলে রাঙ্গামাটি জেলায়। এ জাতের আনরসকে স্থানীয়ভাবে দেশি আনারসও বলা হয়। দেশি আনারস পাকলে খুব মিষ্টি হয়। যে কারণে এ জাতের আনারসের কদরও বেশি। এছাড়া জায়েনকিউ বা সিঙ্গাপুরি আনারসের আবাদও হয় রাঙ্গামাটিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর, লংগদু, সদর ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় আনারসের আবাদ ও উৎপাদন হয় বেশি। বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত আনারস কৃষকরা ছোট ছোট ইঞ্জিন বোট করে রাঙ্গামাটি শহরের সমতাঘাট, পৌরসভা ট্রাক টার্মিনাল ও রির্জাভবাজারে নিয়ে আসেন। এখানকার উৎপাদিত আনারস ঢাকা-চট্টগ্রামসহ জেলার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কৃষিবিদরা মনে করেন, আনারসসহ পার্বত্যাঞ্চলে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজজাত পণ্য সংরক্ষরণের জন্য হিমাগার এবং কৃষিভিত্তিক ফলমূল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প-কারখানা স্থাপন করা গেলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেত। পচনশীল পণ্য আর নষ্ট হতো না। কৃষকরাও ন্যায্য দর থেকে বঞ্চিত হতো না।

রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ মৌসুমে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর পাহাড়ি ঢালু জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

রাঙ্গামাটির বাজার আনারসে সয়লাব

আপডেট টাইম : ১১:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ এপ্রিল ২০১৬

মৌসুমের আগেই আগাম আনারসে সয়লাব পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বাজারগুলো। মৌসুমী ফল আনারসের মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর পাহাড়ি এলাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আনারস বাজারজাত হয়ে যাচ্ছে জেলার বাইরেও। তবে টক না হলেও মিষ্টি কম। হরমোন জাতীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা আনারসের আগাম ফলন আনতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

কৃষিবিদরা জানান, প্রতি বছর গ্রীষ্ম-বর্ষা মৌসুমে রাঙ্গামাটি জেলায় প্রচুর আনারসের ফলন হয়। উন্নত চাষাবাদ এবং উপযুক্ত জলবায়ুর কারণে প্রতি মৌসুমে এ জেলায় আনারসের ফলন ভালো পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক মৌসুমে হরমোন জাতীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে মৌসুমের আগেই আনারসের আগাম ফলন আসছে। ফলে চলতি মৌসুমে মে মাসের শুরুর দিকে আনারসের ফলন আসার কথা থাকলেও ইতিমধ্যে জেলার হাটবাজারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে আনারস বিক্রি করছেন কৃষকরা।

নানিয়ারচরের কৃষক নূরুল আবছার ও পুষ্প মোহন চাকমা জানান, এ বছর অগ্রীম ফলন হওয়ায় বাজারে আনারস বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। বাজার দরও ভালো। বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরেও বাজারজাত হয়ে যাচ্ছে এখানকার আনারস। বর্তমানে রাঙ্গামাটি শহরের হাটবাজারগুলোতে প্রতিটি আনারস বিক্রি হচ্ছে ২০/২৫ টাকায়। কিন্তু স্থানীয়ভাবে কোথাও হিমাগার না থাকায় এবং যোগাযোগ দুর্গমতার কারণে সঠিক সময়ে সুষ্ঠু বাজারজাত নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, পাহাড়ি এলাকায় প্রতি বছর কয়েক হাজার একর জমিতে আনারসের চাষাবাদ হয়ে থাকে। ফলন আসে লক্ষ্যমাত্রার অধিক। সারা দেশের মধ্যে হানিকুইন জাতের আনারস সবচেয়ে বেশি ফলে রাঙ্গামাটি জেলায়। এ জাতের আনরসকে স্থানীয়ভাবে দেশি আনারসও বলা হয়। দেশি আনারস পাকলে খুব মিষ্টি হয়। যে কারণে এ জাতের আনারসের কদরও বেশি। এছাড়া জায়েনকিউ বা সিঙ্গাপুরি আনারসের আবাদও হয় রাঙ্গামাটিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর, লংগদু, সদর ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় আনারসের আবাদ ও উৎপাদন হয় বেশি। বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত আনারস কৃষকরা ছোট ছোট ইঞ্জিন বোট করে রাঙ্গামাটি শহরের সমতাঘাট, পৌরসভা ট্রাক টার্মিনাল ও রির্জাভবাজারে নিয়ে আসেন। এখানকার উৎপাদিত আনারস ঢাকা-চট্টগ্রামসহ জেলার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কৃষিবিদরা মনে করেন, আনারসসহ পার্বত্যাঞ্চলে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজজাত পণ্য সংরক্ষরণের জন্য হিমাগার এবং কৃষিভিত্তিক ফলমূল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প-কারখানা স্থাপন করা গেলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেত। পচনশীল পণ্য আর নষ্ট হতো না। কৃষকরাও ন্যায্য দর থেকে বঞ্চিত হতো না।

রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ মৌসুমে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর পাহাড়ি ঢালু জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার মেট্রিক টন।