ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

সবজিতে বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১
  • ২৫৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ভোর হলেই চাষিরা ছুটে যান সবজি ক্ষেতে। কারণ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আসেন বিভিন্ন জেলার পাইকাররা। তাই আগেভাগেই সবজি তুলে প্রস্তুত রাখেন নারী-পুরুষসহ সব বয়সী লোকজন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের বনগজ গ্রামে প্রায় প্রতিদিনই এমন চিত্র দেখা যায়। তিতাস নদী ঘেঁষা বনগজ বিলে সবজি আবাদ যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমিতে পরিণত হয়ে উঠেছে।

ক্ষেত থেকে করলা তুলছেন চাষিরা

ক্ষেত থেকে করলা তুলছেন চাষিরা

বনগজ বিলের পতিত জমিতে কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়াই করলা, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, খিরাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে বদলে যাচ্ছে শতাধিক কৃষকের জীবনযাত্রা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে বনগজ এলাকায় প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার সবজির আবাদ হয়েছে অনেক বেশি।

করলা বস্তায় ভরছেন কৃষক

করলা বস্তায় ভরছেন কৃষক

কৃষকরা জানান, ধান ও পাটের ফলন ভালো না হওয়ায় বর্তমানে তারা নানা ধরনের সবজি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। ফলে সবজি চাষেই বদলে দিয়েছে এ গ্রামের শতাধিক পরিবারের ভাগ্যের চাকা। ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে সবজি চাষের পরিধি।

চলতি মৌসুমে কি পরিমাণ সবজি উৎপাদন হয়েছে এর সঠিক তথ্য কৃষি অফিসে না থাকলেও প্রায় দেড় কোটি টাকার ওপর সবজি বিক্রি হবে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। সবজির কারণে বনগজ গ্রামটি ‘সবজি গ্রাম’ হিসেবেই মানুষ চেনেন।

ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক মো. রমজান মিয়া, মো. রুহুল আমীন, মো. সহিদুল ইসলাম, মো. হিরণ মিয়া, মো. কবির মিয়া, মো. সৈয়দ খান সর্দার. মো. ইরন খান. মো. জামির হোসেন সরকারসহ অনেকেই সবজি পরিচর্যাসহ বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এসব কাজে সহযোগিতা করছেন। সবজি ক্ষেত যেন গোটা গ্রামটিকে সাজিয়েছে সবুজে করে। এছাড়া গ্রামের হতদরিদ্র অনেকেই সবজি ক্ষেতে কাজ করে গুছিয়েছেন বেকারত্ব।

কৃষক মো. জামির হোসেন বলেন, বনগজ বিলে বর্ষার সময় প্রায় পাঁচ মাস পানি থাকে। এ সময় কোনো কিছু করা যায় না। কিন্তু এবার বন্যার পানি আগে চলে যাওয়ায় ৬০ শতাংশ জমিতে করলা, মিষ্টি কুমড়া, খিরাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছি। এতে আমার ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। তবে এরই মধ্যে ৮০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি।

পুরুষের সঙ্গে নারীরাও সময় দিচ্ছেন সবজি ক্ষেতে

পুরুষের সঙ্গে নারীরাও সময় দিচ্ছেন সবজি ক্ষেতে

তিনি বলেন, ধান চাষে লোকসান হওয়ায় প্রায় আট বছর ধরে সবজি চাষ করছি। এ বছর ফলন ও বাজার দর ভালো হওয়ায় যাবতীয় খরচ বাদে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হবে বলে আশাবাদী।

কৃষক হিরণ মিয়া বলেন, দেশীয় পদ্ধতিতে এ বছর প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে করলা ও খিরা চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তবে গত ১০ দিনে ৪০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করছি। বাজার দর ভালো থাকলে গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ করতে পারব।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক বলেন, সবজি চাষের জন্য বনগজ গ্রাম খুবই উপযোগী। সবজি চাষে কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় ঝুঁকছেন চাষিরা। সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হতে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দেয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

সবজিতে বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রা

আপডেট টাইম : ১১:২৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ভোর হলেই চাষিরা ছুটে যান সবজি ক্ষেতে। কারণ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আসেন বিভিন্ন জেলার পাইকাররা। তাই আগেভাগেই সবজি তুলে প্রস্তুত রাখেন নারী-পুরুষসহ সব বয়সী লোকজন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের বনগজ গ্রামে প্রায় প্রতিদিনই এমন চিত্র দেখা যায়। তিতাস নদী ঘেঁষা বনগজ বিলে সবজি আবাদ যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমিতে পরিণত হয়ে উঠেছে।

ক্ষেত থেকে করলা তুলছেন চাষিরা

ক্ষেত থেকে করলা তুলছেন চাষিরা

বনগজ বিলের পতিত জমিতে কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়াই করলা, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, খিরাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে বদলে যাচ্ছে শতাধিক কৃষকের জীবনযাত্রা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে বনগজ এলাকায় প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার সবজির আবাদ হয়েছে অনেক বেশি।

করলা বস্তায় ভরছেন কৃষক

করলা বস্তায় ভরছেন কৃষক

কৃষকরা জানান, ধান ও পাটের ফলন ভালো না হওয়ায় বর্তমানে তারা নানা ধরনের সবজি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। ফলে সবজি চাষেই বদলে দিয়েছে এ গ্রামের শতাধিক পরিবারের ভাগ্যের চাকা। ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে সবজি চাষের পরিধি।

চলতি মৌসুমে কি পরিমাণ সবজি উৎপাদন হয়েছে এর সঠিক তথ্য কৃষি অফিসে না থাকলেও প্রায় দেড় কোটি টাকার ওপর সবজি বিক্রি হবে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। সবজির কারণে বনগজ গ্রামটি ‘সবজি গ্রাম’ হিসেবেই মানুষ চেনেন।

ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক মো. রমজান মিয়া, মো. রুহুল আমীন, মো. সহিদুল ইসলাম, মো. হিরণ মিয়া, মো. কবির মিয়া, মো. সৈয়দ খান সর্দার. মো. ইরন খান. মো. জামির হোসেন সরকারসহ অনেকেই সবজি পরিচর্যাসহ বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এসব কাজে সহযোগিতা করছেন। সবজি ক্ষেত যেন গোটা গ্রামটিকে সাজিয়েছে সবুজে করে। এছাড়া গ্রামের হতদরিদ্র অনেকেই সবজি ক্ষেতে কাজ করে গুছিয়েছেন বেকারত্ব।

কৃষক মো. জামির হোসেন বলেন, বনগজ বিলে বর্ষার সময় প্রায় পাঁচ মাস পানি থাকে। এ সময় কোনো কিছু করা যায় না। কিন্তু এবার বন্যার পানি আগে চলে যাওয়ায় ৬০ শতাংশ জমিতে করলা, মিষ্টি কুমড়া, খিরাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছি। এতে আমার ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। তবে এরই মধ্যে ৮০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি।

পুরুষের সঙ্গে নারীরাও সময় দিচ্ছেন সবজি ক্ষেতে

পুরুষের সঙ্গে নারীরাও সময় দিচ্ছেন সবজি ক্ষেতে

তিনি বলেন, ধান চাষে লোকসান হওয়ায় প্রায় আট বছর ধরে সবজি চাষ করছি। এ বছর ফলন ও বাজার দর ভালো হওয়ায় যাবতীয় খরচ বাদে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হবে বলে আশাবাদী।

কৃষক হিরণ মিয়া বলেন, দেশীয় পদ্ধতিতে এ বছর প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে করলা ও খিরা চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তবে গত ১০ দিনে ৪০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করছি। বাজার দর ভালো থাকলে গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ করতে পারব।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক বলেন, সবজি চাষের জন্য বনগজ গ্রাম খুবই উপযোগী। সবজি চাষে কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় ঝুঁকছেন চাষিরা। সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হতে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দেয়া হয়।