ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী

দুই কোটি টাকা সম্পদের মালিক মাত্র ১০ হাজার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০১৫
  • ৪৯১ বার

দেশে এখন ১০ হাজার ১৫২ জনের দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। ২০১৩-১৪ কর বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) দেওয়া আয়কর বিবরণীতে তাঁরা দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ দেখিয়েছেন। এর বিপরীতে আরোপিত আয়করের ওপর সারচার্জ দিয়েছেন তাঁরা। এতে এনবিআর পেয়েছে ২০৬ কোটি টাকা।
অথচ শুধু ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় সাড়ে তিন লাখ বাড়ি বা হোল্ডিং রয়েছে। এর মধ্যে অনেক বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য দুই কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে এনবিআরের এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৬২ হাজার বাড়ি মালিকের টিআইএন নেই, তাঁরা কোনো করও দেন না।
দেশে বর্তমানে ১৯ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন। অর্থাৎ তাঁদের আয় করযোগ্য বলে ধরে নেয় এনবিআর। এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, এসব করদাতার মাত্র আধা শতাংশের দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। মূলত ক্রয়মূল্য অনুযায়ী সম্পদের হিসাব করা হয়।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দুই কোটি টাকার কম সম্পদের মালিকের যে চিত্র পাওয়া যায়, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ হয় না বলেই সম্পদশালীদের সঠিক সংখ্যা উঠে আসে না। এ ছাড়া সম্পদের ওপর করারোপেও নানা জটিলতা রয়েছে। সম্পদের ওপর পৌর কর রয়েছে। আবার সেই সম্পদের ওপর রাজস্ব বোর্ডেও কর দিতে হয়। এতে দ্বৈতকর হয়। এ ছাড়া বাড়ি বা জমির মতো সম্পদ হস্তান্তর করার সময়ও কর দিতে হয়। তাঁর মতে, সম্পদশালীদের কাছ থেকে কর আদায় করতে হলে সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে ব্যাপক সংস্কারমূলক কার্যক্রম নিতে হবে।
২০১১-১২ অর্থবছরে সম্পদের ওপর প্রথম সারচার্জ আরোপ করে এনবিআর। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ওই অর্থবছরে মাত্র ৪ হাজার ৪৪৬ জন করদাতা দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ দেখিয়েছেন। ১০ শতাংশ হারে করারোপ করে এনবিআর পায় ৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। গত তিন বছরের ব্যবধানে দুই কোটি টাকার সম্পদের মালিক বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। এ ছাড়া ২০১২-১৩ অর্থবছরে মাত্র ৫ হাজার ৬৬২ জন সারচার্জ দিয়েছেন। এতে এনবিআরের প্রাপ্তি ছিল ৬০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
চলতি অর্থবছর থেকে সম্পদের ওপর সারচার্জ আরোপের হার চারটি স্তরে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদধারীরা আয়করের ১০ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ এবং ৩১ কোটি টাকার ওপরে বেশি সম্পদধারীদের আয়করের ২৫ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে। এ বছর কত জন সারচার্জ দিয়েছেন সেই হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কোথায় কত সম্পদশালী: কর অঞ্চল হিসেবে রাজধানীর ধানমন্ডির করদাতারা বেশি সম্পদশালী। এনবিআরের সর্বশেষ হিসাব মতে, ধানমন্ডি এলাকার ৭৫৬ জন করদাতার ২ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। তাঁরা কর অঞ্চল-৬-এর করদাতা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তাঁরা ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা সারচার্জ দিয়েছিলেন।
এসব বড় করদাতাদের মধ্যে মাত্র ২৮৮ জন আবার বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) করদাতা। তিন বছরের ব্যবধানে এই এলটিইউতে সম্পদশালী করদাতা কমেছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে ৪৩৫ জন বড় করদাতা দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক ছিলেন।
উল্লেখ্য, এনবিআরের এলটিইউতে নিবন্ধিত বড় করদাতার সংখ্যা ৭০৬। এঁরাই সব ব্যাংক, বিমা, লিজিং কোম্পানি, বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক। বর্তমানে এলটিইউর মাত্র ৪০ শতাংশ করদাতা দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক। গত অর্থবছরে রিটার্ন জমার সময় তাঁরা মোট ৪৪ কোটি ৭৮ কোটি টাকা সারচার্জ দিয়েছেন। যাঁরা সারচার্জ দেননি, তাঁদের বাড়ি-গাড়ি ব্যক্তিমালিকানায় নয়, কোম্পানি বা উত্তরাধিকারদের নামে দেখানো থাকে বলে এলটিইউ সূত্রে জানা গেছে।
এনবিআর সূত্র জানায়, দেশের মাত্র ৫৪২ জন ডাক্তার-প্রকৌশলী দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ তাঁদের আয়কর বিবরণীতে দেখিয়েছেন। আর বিভিন্ন ছোট-বড় কোম্পানির পরিচালকের মধ্যে এই সংখ্যা মাত্র ৫০৪ জন।
বগুড়া কর অঞ্চলে সবচেয়ে কম ৫২ জনের দুই কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। আর চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চলে এমন সম্পদধারীর সংখ্যা ১ হাজার ৬২৬ জন। এ ছাড়া রংপুরে ৬৭, ময়মনসিংহে ৭০, রাজশাহীতে ৭৩ জন, বরিশালে ৮৬ জন, গাজীপুরে ১০৭, নারায়ণগঞ্জে ১৮৪ জন, সিলেটে ২৩৬, কুমিল্লায় ২৪১ ও খুলনায় ৩০৬ জন করদাতার দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

দুই কোটি টাকা সম্পদের মালিক মাত্র ১০ হাজার

আপডেট টাইম : ০৩:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০১৫

দেশে এখন ১০ হাজার ১৫২ জনের দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। ২০১৩-১৪ কর বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) দেওয়া আয়কর বিবরণীতে তাঁরা দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ দেখিয়েছেন। এর বিপরীতে আরোপিত আয়করের ওপর সারচার্জ দিয়েছেন তাঁরা। এতে এনবিআর পেয়েছে ২০৬ কোটি টাকা।
অথচ শুধু ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় সাড়ে তিন লাখ বাড়ি বা হোল্ডিং রয়েছে। এর মধ্যে অনেক বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য দুই কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে এনবিআরের এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৬২ হাজার বাড়ি মালিকের টিআইএন নেই, তাঁরা কোনো করও দেন না।
দেশে বর্তমানে ১৯ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন। অর্থাৎ তাঁদের আয় করযোগ্য বলে ধরে নেয় এনবিআর। এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, এসব করদাতার মাত্র আধা শতাংশের দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। মূলত ক্রয়মূল্য অনুযায়ী সম্পদের হিসাব করা হয়।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দুই কোটি টাকার কম সম্পদের মালিকের যে চিত্র পাওয়া যায়, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ হয় না বলেই সম্পদশালীদের সঠিক সংখ্যা উঠে আসে না। এ ছাড়া সম্পদের ওপর করারোপেও নানা জটিলতা রয়েছে। সম্পদের ওপর পৌর কর রয়েছে। আবার সেই সম্পদের ওপর রাজস্ব বোর্ডেও কর দিতে হয়। এতে দ্বৈতকর হয়। এ ছাড়া বাড়ি বা জমির মতো সম্পদ হস্তান্তর করার সময়ও কর দিতে হয়। তাঁর মতে, সম্পদশালীদের কাছ থেকে কর আদায় করতে হলে সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে ব্যাপক সংস্কারমূলক কার্যক্রম নিতে হবে।
২০১১-১২ অর্থবছরে সম্পদের ওপর প্রথম সারচার্জ আরোপ করে এনবিআর। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ওই অর্থবছরে মাত্র ৪ হাজার ৪৪৬ জন করদাতা দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ দেখিয়েছেন। ১০ শতাংশ হারে করারোপ করে এনবিআর পায় ৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। গত তিন বছরের ব্যবধানে দুই কোটি টাকার সম্পদের মালিক বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। এ ছাড়া ২০১২-১৩ অর্থবছরে মাত্র ৫ হাজার ৬৬২ জন সারচার্জ দিয়েছেন। এতে এনবিআরের প্রাপ্তি ছিল ৬০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
চলতি অর্থবছর থেকে সম্পদের ওপর সারচার্জ আরোপের হার চারটি স্তরে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদধারীরা আয়করের ১০ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ এবং ৩১ কোটি টাকার ওপরে বেশি সম্পদধারীদের আয়করের ২৫ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে। এ বছর কত জন সারচার্জ দিয়েছেন সেই হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কোথায় কত সম্পদশালী: কর অঞ্চল হিসেবে রাজধানীর ধানমন্ডির করদাতারা বেশি সম্পদশালী। এনবিআরের সর্বশেষ হিসাব মতে, ধানমন্ডি এলাকার ৭৫৬ জন করদাতার ২ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। তাঁরা কর অঞ্চল-৬-এর করদাতা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তাঁরা ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা সারচার্জ দিয়েছিলেন।
এসব বড় করদাতাদের মধ্যে মাত্র ২৮৮ জন আবার বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) করদাতা। তিন বছরের ব্যবধানে এই এলটিইউতে সম্পদশালী করদাতা কমেছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে ৪৩৫ জন বড় করদাতা দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক ছিলেন।
উল্লেখ্য, এনবিআরের এলটিইউতে নিবন্ধিত বড় করদাতার সংখ্যা ৭০৬। এঁরাই সব ব্যাংক, বিমা, লিজিং কোম্পানি, বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক। বর্তমানে এলটিইউর মাত্র ৪০ শতাংশ করদাতা দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক। গত অর্থবছরে রিটার্ন জমার সময় তাঁরা মোট ৪৪ কোটি ৭৮ কোটি টাকা সারচার্জ দিয়েছেন। যাঁরা সারচার্জ দেননি, তাঁদের বাড়ি-গাড়ি ব্যক্তিমালিকানায় নয়, কোম্পানি বা উত্তরাধিকারদের নামে দেখানো থাকে বলে এলটিইউ সূত্রে জানা গেছে।
এনবিআর সূত্র জানায়, দেশের মাত্র ৫৪২ জন ডাক্তার-প্রকৌশলী দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ তাঁদের আয়কর বিবরণীতে দেখিয়েছেন। আর বিভিন্ন ছোট-বড় কোম্পানির পরিচালকের মধ্যে এই সংখ্যা মাত্র ৫০৪ জন।
বগুড়া কর অঞ্চলে সবচেয়ে কম ৫২ জনের দুই কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। আর চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চলে এমন সম্পদধারীর সংখ্যা ১ হাজার ৬২৬ জন। এ ছাড়া রংপুরে ৬৭, ময়মনসিংহে ৭০, রাজশাহীতে ৭৩ জন, বরিশালে ৮৬ জন, গাজীপুরে ১০৭, নারায়ণগঞ্জে ১৮৪ জন, সিলেটে ২৩৬, কুমিল্লায় ২৪১ ও খুলনায় ৩০৬ জন করদাতার দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে।