ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

মাঠ ভরা সরিষা ফুলে স্বপ্ন বুনছে কৃষক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১
  • ৩০০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলের দিগন্ত জুড়ে মাঠ সেজেছে সরিষার হলুদ ফুলে। মৌ-মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে চারদিক। মাঠ ভরা এ হলুদ ফুলে স্বপ্ন বুনছে কৃষক। গেল ছয় দফা বন্যায় নষ্ট হয়ে যায় কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চল আর চরাঞ্চলের আবাদী ফসল। বন্যা পরবর্তী এসব এলাকায় চাষ হয়েছে সরিষা।

জেলার ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, সংকোষসহ ১৬টি নদ-নদীর চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলে চাষ হওয়া এসব সরিষা অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক পরিচর্যায় মাঠ ভরে উঠেছে হলুদ ফুলের সমারোহে। দেখে মনে হবে এ যেন হুলুদ সমুদ্র। মৌ মৌ ঘ্রাণে আকৃষ্ট হয়ে আসছে মধু আহরণে মৌমাছি। সরিষার এমন বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

হরিপুরে সরিষার ফুলের ঢাকা পড়েছে বিস্তৃত প্রকৃতি | BDJAHAN

উন্নত জাতের বারি-১৪ এবং দেশী জাতের বীজে চাষ হয়েছে এবার। ইরি চাষের আগে স্বল্প মেয়াদী এ ফসল ফলিয়ে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন চাষিরা। বিঘা প্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ করে ৪/৫ মণ সরিষার ফলন পাওয়ার আশা কৃষকের। মণ প্রতি ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা বিক্রি করতে পারলে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন সরিষা চাষিরা। পানি শুকানোর পরপরই সরিষার আবাদ শুরু করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। সরিষা ফলন তুলে ক্ষেতে ইরি চাষ শুরু করবেন বলে জানান কৃষকরা।

হলুদ রঙের ফুলে ছেঁয়ে গেছে মান্দার সরিষা ক্ষেত

চরাঞ্চলের কৃষক আমিনুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও সাইফুল মিয়া জানান, সরিষার তেল ভোজ্য, খৈল গবাদি পশুর খাবার এবং সরিষার পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সবুজ পাতা শাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সরিষার শাক খেতে বেশ সুস্বাদু। এছাড়া সরিষার ক্ষেতে এসময় বতুয়া শাকও পাওয়া যায়। দুই মিলে পরিবারের শাকের পুষ্টি চাহিদা মিটে যায় প্রান্তিক জনপদের সাধারণ মানুষের। সরিষার শাকে আছে ভিটামিন এ, সি এবং কে। সরিষার শাকে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিজেন, যা ভাইরাসজনিত রোগ প্রতিরোধ করে। বতুয়া শাক হজম শক্তি বাড়ায়, কিডনির পাথর গলাতে সাহায্য করে, মুখের ঘা সারায় এবং আগুন কিংবা গরম পানিতে ত্বক পুড়ে গেলে বতুয়ার পাতার প্রলেপ দিলে নিরাময় হয়।

সরিষার আশানুরূপ ফলন হওয়ার আশা ব্যক্ত করে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুরুল হক বলেন, কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলের ১৩ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের বারি-১৪ এবং দেশী জাতের সরিষার চাষ হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

মাঠ ভরা সরিষা ফুলে স্বপ্ন বুনছে কৃষক

আপডেট টাইম : ০৪:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলের দিগন্ত জুড়ে মাঠ সেজেছে সরিষার হলুদ ফুলে। মৌ-মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে চারদিক। মাঠ ভরা এ হলুদ ফুলে স্বপ্ন বুনছে কৃষক। গেল ছয় দফা বন্যায় নষ্ট হয়ে যায় কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চল আর চরাঞ্চলের আবাদী ফসল। বন্যা পরবর্তী এসব এলাকায় চাষ হয়েছে সরিষা।

জেলার ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, সংকোষসহ ১৬টি নদ-নদীর চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলে চাষ হওয়া এসব সরিষা অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক পরিচর্যায় মাঠ ভরে উঠেছে হলুদ ফুলের সমারোহে। দেখে মনে হবে এ যেন হুলুদ সমুদ্র। মৌ মৌ ঘ্রাণে আকৃষ্ট হয়ে আসছে মধু আহরণে মৌমাছি। সরিষার এমন বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

হরিপুরে সরিষার ফুলের ঢাকা পড়েছে বিস্তৃত প্রকৃতি | BDJAHAN

উন্নত জাতের বারি-১৪ এবং দেশী জাতের বীজে চাষ হয়েছে এবার। ইরি চাষের আগে স্বল্প মেয়াদী এ ফসল ফলিয়ে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন চাষিরা। বিঘা প্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ করে ৪/৫ মণ সরিষার ফলন পাওয়ার আশা কৃষকের। মণ প্রতি ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা বিক্রি করতে পারলে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন সরিষা চাষিরা। পানি শুকানোর পরপরই সরিষার আবাদ শুরু করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। সরিষা ফলন তুলে ক্ষেতে ইরি চাষ শুরু করবেন বলে জানান কৃষকরা।

হলুদ রঙের ফুলে ছেঁয়ে গেছে মান্দার সরিষা ক্ষেত

চরাঞ্চলের কৃষক আমিনুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও সাইফুল মিয়া জানান, সরিষার তেল ভোজ্য, খৈল গবাদি পশুর খাবার এবং সরিষার পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সবুজ পাতা শাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সরিষার শাক খেতে বেশ সুস্বাদু। এছাড়া সরিষার ক্ষেতে এসময় বতুয়া শাকও পাওয়া যায়। দুই মিলে পরিবারের শাকের পুষ্টি চাহিদা মিটে যায় প্রান্তিক জনপদের সাধারণ মানুষের। সরিষার শাকে আছে ভিটামিন এ, সি এবং কে। সরিষার শাকে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিজেন, যা ভাইরাসজনিত রোগ প্রতিরোধ করে। বতুয়া শাক হজম শক্তি বাড়ায়, কিডনির পাথর গলাতে সাহায্য করে, মুখের ঘা সারায় এবং আগুন কিংবা গরম পানিতে ত্বক পুড়ে গেলে বতুয়ার পাতার প্রলেপ দিলে নিরাময় হয়।

সরিষার আশানুরূপ ফলন হওয়ার আশা ব্যক্ত করে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুরুল হক বলেন, কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলের ১৩ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের বারি-১৪ এবং দেশী জাতের সরিষার চাষ হয়েছে।