ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ: বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেনশনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অডিট কর্মকর্তা ইশরাত বরখাস্ত দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে পেটাল দিল্লি পুলিশ ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ‘ভোট ব্যাংক’, এ কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার হয়েছে’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেই: মান্না ২ মন্ত্রী আসার খবরে বদলে গেল হাসপাতালের পরিবেশ, অবাক রোগীরা বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ : জাতিসংঘ সমুদ্রপাড়ে নতুন লুকে দীঘি, ভক্তদের কৌতূহল তুঙ্গে আবারো মেসিকে ফেরাতে চায় আর্জেন্টিনা

গাউছিয়ায় কাপড়ের ব্যবসা করে যেভাবে দিন কাটছে শাহিন আলমের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০
  • ৩২৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলা চলচ্চিত্রের খুব পরিচিত অভিনেতা শাহিন আলম। ১৮ বছর বয়সে মেয়ে আত্মহত্যা করে। রাতে ব্যবসার কাজে বাইরে ছিলেন শাহিন আলম। একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়লেন মানসিকভাবে, বদলে গেল শাহিন আলমের জীবন। ছেড়ে দিলেন অভিনয়। আগেই অভিনয়ের সঙ্গে টুকটাক গার্মেন্টসের ব্যবসা করতেন। সেটাকেই জীবিকা হিসেবে নিলেন। এখন তিনি পুরোদস্তর ব্যবসায়ী।

আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিলেও তখন যে ছবিগুলো হাতে ছিল, সেগুলোর কাজ শেষ করে দিলেন। নতুন করে আর কোনো ছবির কাজ হাতে নিলেন না। শেষ তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান রকিবুল আলম পরিচালিত ‘দারোয়ানের ছেলে’ ছবির জন্য। শেষের দিকে কাজী হায়াতের অনুরোধে দু-একটি ছবিতে কাজ করেছেন। তাঁরও আগেই থেকেই তিনি অভিনয় থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

শাহিন আলম বলেন, ছবি যখন পরিচালকদের হাত থেকে প্রযোজকদের হাতে চলে গেল, তখন থেকেই সিনেমার অবস্থা খারাপ হতে শুরু করল। প্রযোজকেরা আমার কাছে ভালগার শট দেওয়ার অনেক অনুরোধ করেছে। আমি করিনি। পরে তারা কাটপিস শুট করেছে। পর্দায় আমার ক্লোজআপ ব্যবহার করেছে। আমি ধরলে বলেছে, না করে উপায় নেই, ভাই। এসব দেখেশুনে অভিনয়ের নেশাটা কেটে গেল।

প্রায় দেড় শ ছবিতে অভিনয়ের পর শাহিন আলম ব্যবসায় মনোযোগ দেন। অভিনয়ের পাশাপাশি গার্মেন্টসের ব্যবসা করতেন। অভিনয় ছাড়ার পর পুরোপুরি সেখানেই মন দেন। কিন্তু গার্মেন্টসের ব্যবসায় সুবিধা করে উঠতে পারেননি। রাজধানীর গাউছিয়ায় তাঁদের পৈতৃক দুটো শোরুম ছিল। অভিনয় ছাড়ার পর এই শোরুমগুলোতে ব্যবসা শুরু করেন শাহিন আলম। একটি শোরুম ভাড়ায় চলে। আরেকটি শোরুমে নিজে ব্যবসা করেন। গুলশানের নিকেতনে নিজের ফ্ল্যাটে থাকেন শাহিন আলম। স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার।

আগে নিজেই শোরুমে বসতেন। এখন তাঁর ভাতিজা বসেন। কারণ, চার বছর ধরে গুরুতর অসুস্থ শাহিন আলম। জটিল কিডনি রোগে ভুগছেন। সাড়ে তিন বছর ধরে ডায়ালাইসিস চলছে। প্রতি সপ্তাহে তিন দিন সাভারের গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডায়ালাইসিসের জন্য যেতে হয় তাকে। তাঁর অসুস্থতার খবর খুব বেশি লোকের জানা নেই। শাহিন আলম বললেন, ‘অভিনয় ছাড়ার পর প্রথম দুই বছর অনেকে যোগাযোগ করত। যখন সবাই জেনে গেল, অভিনয় ছেড়ে দিয়েছি, তখন আর তেমন কেউ যোগাযোগ করে না।’

সিনেমার লোকদের মধ্যে অমিত হাসান ও মিশা সওদাগর নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নেন। অনেক দিন আগে শিল্পী সমিতির কয়েকজন তাঁকে দেখতে এসেছিলেন। কেউ কেউ তাঁকে বলেছেন, চিকিৎসার সহযোগিতার জন্য শিল্পী সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে। কিন্তু শাহিন আলম তা করেননি। সরকারের কাছ থেকে চিকিৎসা সহায়তা নেওয়ার জন্যও তদবির করেননি। অথচ তিনি গুরুতর অসুস্থ।

শাহিন আলম বললেন, আমার চেয়েও যাদের বেশি প্রয়োজন, তারা যাক। এত দিন আল্লাহ একভাবে চালিয়ে নিয়েছেন। সহায়তার কথা ভাবিনি। কিন্তু করোনায় ব্যবসার অবস্থা খারাপ।এখন চাইছি সরকার আমাদের দিকে তাকাক।

শাহিন আলম জানালেন, ছোট বোন তাঁকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। করোনার সময়ও তাঁকে পাশে পেয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে

গাউছিয়ায় কাপড়ের ব্যবসা করে যেভাবে দিন কাটছে শাহিন আলমের

আপডেট টাইম : ১১:৪০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলা চলচ্চিত্রের খুব পরিচিত অভিনেতা শাহিন আলম। ১৮ বছর বয়সে মেয়ে আত্মহত্যা করে। রাতে ব্যবসার কাজে বাইরে ছিলেন শাহিন আলম। একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়লেন মানসিকভাবে, বদলে গেল শাহিন আলমের জীবন। ছেড়ে দিলেন অভিনয়। আগেই অভিনয়ের সঙ্গে টুকটাক গার্মেন্টসের ব্যবসা করতেন। সেটাকেই জীবিকা হিসেবে নিলেন। এখন তিনি পুরোদস্তর ব্যবসায়ী।

আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিলেও তখন যে ছবিগুলো হাতে ছিল, সেগুলোর কাজ শেষ করে দিলেন। নতুন করে আর কোনো ছবির কাজ হাতে নিলেন না। শেষ তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান রকিবুল আলম পরিচালিত ‘দারোয়ানের ছেলে’ ছবির জন্য। শেষের দিকে কাজী হায়াতের অনুরোধে দু-একটি ছবিতে কাজ করেছেন। তাঁরও আগেই থেকেই তিনি অভিনয় থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

শাহিন আলম বলেন, ছবি যখন পরিচালকদের হাত থেকে প্রযোজকদের হাতে চলে গেল, তখন থেকেই সিনেমার অবস্থা খারাপ হতে শুরু করল। প্রযোজকেরা আমার কাছে ভালগার শট দেওয়ার অনেক অনুরোধ করেছে। আমি করিনি। পরে তারা কাটপিস শুট করেছে। পর্দায় আমার ক্লোজআপ ব্যবহার করেছে। আমি ধরলে বলেছে, না করে উপায় নেই, ভাই। এসব দেখেশুনে অভিনয়ের নেশাটা কেটে গেল।

প্রায় দেড় শ ছবিতে অভিনয়ের পর শাহিন আলম ব্যবসায় মনোযোগ দেন। অভিনয়ের পাশাপাশি গার্মেন্টসের ব্যবসা করতেন। অভিনয় ছাড়ার পর পুরোপুরি সেখানেই মন দেন। কিন্তু গার্মেন্টসের ব্যবসায় সুবিধা করে উঠতে পারেননি। রাজধানীর গাউছিয়ায় তাঁদের পৈতৃক দুটো শোরুম ছিল। অভিনয় ছাড়ার পর এই শোরুমগুলোতে ব্যবসা শুরু করেন শাহিন আলম। একটি শোরুম ভাড়ায় চলে। আরেকটি শোরুমে নিজে ব্যবসা করেন। গুলশানের নিকেতনে নিজের ফ্ল্যাটে থাকেন শাহিন আলম। স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার।

আগে নিজেই শোরুমে বসতেন। এখন তাঁর ভাতিজা বসেন। কারণ, চার বছর ধরে গুরুতর অসুস্থ শাহিন আলম। জটিল কিডনি রোগে ভুগছেন। সাড়ে তিন বছর ধরে ডায়ালাইসিস চলছে। প্রতি সপ্তাহে তিন দিন সাভারের গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডায়ালাইসিসের জন্য যেতে হয় তাকে। তাঁর অসুস্থতার খবর খুব বেশি লোকের জানা নেই। শাহিন আলম বললেন, ‘অভিনয় ছাড়ার পর প্রথম দুই বছর অনেকে যোগাযোগ করত। যখন সবাই জেনে গেল, অভিনয় ছেড়ে দিয়েছি, তখন আর তেমন কেউ যোগাযোগ করে না।’

সিনেমার লোকদের মধ্যে অমিত হাসান ও মিশা সওদাগর নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নেন। অনেক দিন আগে শিল্পী সমিতির কয়েকজন তাঁকে দেখতে এসেছিলেন। কেউ কেউ তাঁকে বলেছেন, চিকিৎসার সহযোগিতার জন্য শিল্পী সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে। কিন্তু শাহিন আলম তা করেননি। সরকারের কাছ থেকে চিকিৎসা সহায়তা নেওয়ার জন্যও তদবির করেননি। অথচ তিনি গুরুতর অসুস্থ।

শাহিন আলম বললেন, আমার চেয়েও যাদের বেশি প্রয়োজন, তারা যাক। এত দিন আল্লাহ একভাবে চালিয়ে নিয়েছেন। সহায়তার কথা ভাবিনি। কিন্তু করোনায় ব্যবসার অবস্থা খারাপ।এখন চাইছি সরকার আমাদের দিকে তাকাক।

শাহিন আলম জানালেন, ছোট বোন তাঁকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। করোনার সময়ও তাঁকে পাশে পেয়েছেন।