ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক প্রার্থী নির্ধারণে প্রস্তুতি বিএনপিতে নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৬২৩, নিখোঁজ ২৪৮২ অটোরিকশাচালক থেকে কোটিপতি, আ.লীগ পুনর্বাসনের কারিগর কে এই ফিরোজ জেনে নিন বিনাখরচে কিভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়া যাবে নেপালে শুটিংয়ে গিয়ে তাণ্ডবের মুখোমুখি অপু, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা ৪২ কি.মি. যানজট: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আটকা শত শত গাড়ি ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ এনসিপির সারা দেশে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আইরিন খান ১০১ মণের ‘বরকতি ড্যাগের’ খিচুড়ি, খেলেই নাকি রোগমুক্তি ও সন্তান লাভ

হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০১৭
  • ৮৫৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চল উপজেলায় দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। এক সময়ে এ উপজেলার দেশীয় মাছ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে জাতীয় পর্যায়ে বাজারজাতসহ বিদেশেও রপ্তানি করা হতো। এখন আর তা হয় না বললেই চলে। নদীর নাব্যতা হ্রাস, খাল-বিল ভরাট করে কৃষি ক্ষেত-বাড়িঘর তৈরি, জমিতে কীটনাশকের ব্যবহারের কারণে দেশীয় প্রজাতীর মাছ বিলুপ্ত হতে বসেছে।
স্থানীয় জেলেরা বলেন, হাওর এ উপজেলা থেকে ৫০ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। এক সময়ে দেশের মৎস্য ভা-ার হিসেবে পরিচিত হাওর উপজেলা। অগণিত নদী বিল-হাওর-খালে পরিপূর্ণ ছিল। মিঠা পানিতে পরিপূর্ণ এ উপজেলায় প্রায় ২৫০ প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। মূলত নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাস, খাল-বিল ভরাট করে কৃষি ক্ষেত-বাড়িঘর তৈরি, জলমহালগুলোতে ইজারাদারদের স্বেচ্ছাচারিতা, মাছের অভয় আশ্রয়স্থলের পার্শ্ববর্তী জমিগুলোতে কীটনাশকের ব্যবহারে মৎস্য সম্পদ উজাড় হয়ে গেছে। এছাড়াও অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করে মাছের চলাচলে বাধা সৃষ্টি, সেচপ্রকল্প বাস্তবায়ন, মাছ আহরণ কারেন্ট জাল মশারি জালে রেণুপোনা ও মাছ ধরার কারণে এ অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিলুপ্ত হওয়া প্রধান মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে নানিদ মাছ, মাশুল মাছ, পাঙ্গাশ মাছ, টাকা মাছ, কৈ মাছ, মাগুর মাছ, শিং মাছ, বাতাসী মাছ, গুং মাছ, রানী মাছ, পান মাছ, মৃগা মাছ, রিডা মাছ, খৈলিশা মাছ, বৈচা মাছ, কানলা মাছ, বামট মাছ, পাপদা মাছ, চেং মাছ, বাঘাইর মাছ, বেংরা মাছ, সিলুন মাছ, খল্লা মাছ, লাচ মাছ, এলগন মাছ, রামচেলা মাছ, গিলাকানি নাপিত মাছ ও গলদা চিংড়ি। এছাড়াও বিলুপ্তির পথে প্রধান মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে ইলিশ মাছ, মলা মাছ, রুই মাছ, কাতলা মাছ, বজরি মাছ, হালনী মাছ, ডান কানা মাছ, গুতুম মাছ, স্বরপুটি মাছ, চান্দা মাছ, ডিমা চিংড়ি, বাইম মাছ ও মেনি মাছ। নদী ও হাওরে দেশীয় প্রজাতির মাছ মাঝে মধ্যে পাওয়া গেলে দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। খামারের মাছের দাম আনুপাতিক হারে কম।
এ ব্যাপারে একাধিক মাছ বিক্রেতা জানান, দেশীয় প্রজাতির মাছ খুবই কম পাওয়া যায় এবং দাম বেশি। এছাড়াও ফড়িয়া ব্যাপারীরা নদী ও হাওর থেকে এগুলো কিনে ভৈরব, কুলিয়ারচর, আশুগঞ্জ, হবিগঞ্জ চালান করে দেয়। পরে তা ঢাকা, চিটাগাংসহ জাতীয় পর্যায়ে বাজারজাত করা হয়।
এ বছর দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের মাছ হাওরে ছাড়া হয়েছে।
দেশীয় মাছের সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পুকুরে মাছের পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন একক প্রার্থী নির্ধারণে প্রস্তুতি বিএনপিতে

হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

আপডেট টাইম : ১১:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চল উপজেলায় দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। এক সময়ে এ উপজেলার দেশীয় মাছ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে জাতীয় পর্যায়ে বাজারজাতসহ বিদেশেও রপ্তানি করা হতো। এখন আর তা হয় না বললেই চলে। নদীর নাব্যতা হ্রাস, খাল-বিল ভরাট করে কৃষি ক্ষেত-বাড়িঘর তৈরি, জমিতে কীটনাশকের ব্যবহারের কারণে দেশীয় প্রজাতীর মাছ বিলুপ্ত হতে বসেছে।
স্থানীয় জেলেরা বলেন, হাওর এ উপজেলা থেকে ৫০ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। এক সময়ে দেশের মৎস্য ভা-ার হিসেবে পরিচিত হাওর উপজেলা। অগণিত নদী বিল-হাওর-খালে পরিপূর্ণ ছিল। মিঠা পানিতে পরিপূর্ণ এ উপজেলায় প্রায় ২৫০ প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। মূলত নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাস, খাল-বিল ভরাট করে কৃষি ক্ষেত-বাড়িঘর তৈরি, জলমহালগুলোতে ইজারাদারদের স্বেচ্ছাচারিতা, মাছের অভয় আশ্রয়স্থলের পার্শ্ববর্তী জমিগুলোতে কীটনাশকের ব্যবহারে মৎস্য সম্পদ উজাড় হয়ে গেছে। এছাড়াও অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করে মাছের চলাচলে বাধা সৃষ্টি, সেচপ্রকল্প বাস্তবায়ন, মাছ আহরণ কারেন্ট জাল মশারি জালে রেণুপোনা ও মাছ ধরার কারণে এ অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিলুপ্ত হওয়া প্রধান মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে নানিদ মাছ, মাশুল মাছ, পাঙ্গাশ মাছ, টাকা মাছ, কৈ মাছ, মাগুর মাছ, শিং মাছ, বাতাসী মাছ, গুং মাছ, রানী মাছ, পান মাছ, মৃগা মাছ, রিডা মাছ, খৈলিশা মাছ, বৈচা মাছ, কানলা মাছ, বামট মাছ, পাপদা মাছ, চেং মাছ, বাঘাইর মাছ, বেংরা মাছ, সিলুন মাছ, খল্লা মাছ, লাচ মাছ, এলগন মাছ, রামচেলা মাছ, গিলাকানি নাপিত মাছ ও গলদা চিংড়ি। এছাড়াও বিলুপ্তির পথে প্রধান মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে ইলিশ মাছ, মলা মাছ, রুই মাছ, কাতলা মাছ, বজরি মাছ, হালনী মাছ, ডান কানা মাছ, গুতুম মাছ, স্বরপুটি মাছ, চান্দা মাছ, ডিমা চিংড়ি, বাইম মাছ ও মেনি মাছ। নদী ও হাওরে দেশীয় প্রজাতির মাছ মাঝে মধ্যে পাওয়া গেলে দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। খামারের মাছের দাম আনুপাতিক হারে কম।
এ ব্যাপারে একাধিক মাছ বিক্রেতা জানান, দেশীয় প্রজাতির মাছ খুবই কম পাওয়া যায় এবং দাম বেশি। এছাড়াও ফড়িয়া ব্যাপারীরা নদী ও হাওর থেকে এগুলো কিনে ভৈরব, কুলিয়ারচর, আশুগঞ্জ, হবিগঞ্জ চালান করে দেয়। পরে তা ঢাকা, চিটাগাংসহ জাতীয় পর্যায়ে বাজারজাত করা হয়।
এ বছর দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের মাছ হাওরে ছাড়া হয়েছে।
দেশীয় মাছের সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পুকুরে মাছের পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।