ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ: বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেনশনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অডিট কর্মকর্তা ইশরাত বরখাস্ত দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে পেটাল দিল্লি পুলিশ ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ‘ভোট ব্যাংক’, এ কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার হয়েছে’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেই: মান্না ২ মন্ত্রী আসার খবরে বদলে গেল হাসপাতালের পরিবেশ, অবাক রোগীরা বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ : জাতিসংঘ সমুদ্রপাড়ে নতুন লুকে দীঘি, ভক্তদের কৌতূহল তুঙ্গে আবারো মেসিকে ফেরাতে চায় আর্জেন্টিনা

ভোট বর্জন করে কী পেয়েছে বিএনপি? নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:২৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৪
  • ১৫৭ বার

ভোট বর্জন করে কী পেয়েছে বিএনপি? সামগ্রিকভাবে কী লাভ হলো? নাকি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা? এমন নানা প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে। এসব প্রশ্নে আত্নসমালোচনা আছে বিএনপিতে, আছে নানা মত।

তবে নেতাদের দাবি, ভোট বর্জন করার লক্ষ্য শতভাগ পূরণ হয়েছে; আর দলীয়ভাবে সর্বসম্মতিক্রমে নেয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। তাদের মতে, সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রবিমুখতাই প্রমাণ করে, নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নির্বাচনই হলো ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র পথ। সভা-সমাবেশে এ কথা বিএনপিও প্রায়ই বলে এ কথা। তাহলে কেন ভোট বর্জন করলো দলটি? এমন প্রশ্ন রাখা হয় দলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবদীন ফারুকের কাছে।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন নয়, প্রহসন বর্জন করেছি। জনগণের কাছে আমরা যে আশা করেছিলাম তা পেয়েছি। জনগণ ভোটকেন্দ্রে যায়নি। ভোট প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোও তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

২৮ অক্টোবরের পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত অনেকের নামে নতুন মামলা হয়েছে বলে বিএনপির অভিযোগ। তারা বলছে, বেড়েছে নির্যাতন -নিপীড়ন। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দলীয় নেতা-কর্মীরা।

ভোটের ১০ দিন পর কী উপলব্ধি বিএনপি নেতা-কর্মীদের? ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিলো? জবাবে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দন অসীম বলেন, হ্যাঁ ভোটে যা যাওয়ার সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল

২০১৮ সালে যা হয়েছে, নির্বাচনে গেলে এবারও তাই হতো। ১০ শতাংশ ভোটারও আসেনি। তারমানে আমাদের দাবির যৌক্তিকতা জনগণ প্রমাণ করেছে। আমরা নির্বাচনে গেলে সেটা প্রমাণ হতো না।

সাধারণত, ভোটর সময় চাঙ্গা থাকে নেতা-কর্মীরা, মজবুত হয় সাংগঠনিক ভিত্তি। প্রচারণায় দলের অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারের সঙ্গে বাড়তি যোগাযোগ হয় নেতা-কর্মীদের। নির্বাচনে না গিয়ে মাঠের নেতা-কর্মীদের কি বঞ্চিত করেছে বিএনপি? প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ নয়। বরং তারা প্রমাণ করতে পেরেছে এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য না।

সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকলেও সরকারের সমালোচনা কিংবা দাবি আদায়ের নূন্যতম সুযোগ কাজে লাগানে যায়। এই যুক্তিতে ২০১৮ সালে ভোট কারচুপির অভিযোগের পরও সংসদে যোগ দেন বিএনপির ৬ এমপি। তাদেরই একজন হারুন-অর-রশীদ।

বলছেন, এবারের প্রক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। এবারে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। দেশের জনগণও করেনি। শুধুমাত্র নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এটি জাতির সাথে শুধুমাত্র উপহাস ছাড়া কিচ্ছু নয়। আমি মনে করি এই সরকার তার মেয়াদকাল পূরণ করতে পারবে না।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন ভালো না মন্দ হয়েছে-সেই মূল্যায়ন করার বদলে, নেতা-কর্মীদের মুক্ত করে রাজপথে নামার পরিকল্পনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে

ভোট বর্জন করে কী পেয়েছে বিএনপি? নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ

আপডেট টাইম : ০৬:২৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৪

ভোট বর্জন করে কী পেয়েছে বিএনপি? সামগ্রিকভাবে কী লাভ হলো? নাকি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা? এমন নানা প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে। এসব প্রশ্নে আত্নসমালোচনা আছে বিএনপিতে, আছে নানা মত।

তবে নেতাদের দাবি, ভোট বর্জন করার লক্ষ্য শতভাগ পূরণ হয়েছে; আর দলীয়ভাবে সর্বসম্মতিক্রমে নেয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। তাদের মতে, সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রবিমুখতাই প্রমাণ করে, নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নির্বাচনই হলো ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র পথ। সভা-সমাবেশে এ কথা বিএনপিও প্রায়ই বলে এ কথা। তাহলে কেন ভোট বর্জন করলো দলটি? এমন প্রশ্ন রাখা হয় দলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবদীন ফারুকের কাছে।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন নয়, প্রহসন বর্জন করেছি। জনগণের কাছে আমরা যে আশা করেছিলাম তা পেয়েছি। জনগণ ভোটকেন্দ্রে যায়নি। ভোট প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোও তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

২৮ অক্টোবরের পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত অনেকের নামে নতুন মামলা হয়েছে বলে বিএনপির অভিযোগ। তারা বলছে, বেড়েছে নির্যাতন -নিপীড়ন। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দলীয় নেতা-কর্মীরা।

ভোটের ১০ দিন পর কী উপলব্ধি বিএনপি নেতা-কর্মীদের? ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিলো? জবাবে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দন অসীম বলেন, হ্যাঁ ভোটে যা যাওয়ার সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল

২০১৮ সালে যা হয়েছে, নির্বাচনে গেলে এবারও তাই হতো। ১০ শতাংশ ভোটারও আসেনি। তারমানে আমাদের দাবির যৌক্তিকতা জনগণ প্রমাণ করেছে। আমরা নির্বাচনে গেলে সেটা প্রমাণ হতো না।

সাধারণত, ভোটর সময় চাঙ্গা থাকে নেতা-কর্মীরা, মজবুত হয় সাংগঠনিক ভিত্তি। প্রচারণায় দলের অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারের সঙ্গে বাড়তি যোগাযোগ হয় নেতা-কর্মীদের। নির্বাচনে না গিয়ে মাঠের নেতা-কর্মীদের কি বঞ্চিত করেছে বিএনপি? প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবদীন ফারুক বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ নয়। বরং তারা প্রমাণ করতে পেরেছে এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য না।

সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকলেও সরকারের সমালোচনা কিংবা দাবি আদায়ের নূন্যতম সুযোগ কাজে লাগানে যায়। এই যুক্তিতে ২০১৮ সালে ভোট কারচুপির অভিযোগের পরও সংসদে যোগ দেন বিএনপির ৬ এমপি। তাদেরই একজন হারুন-অর-রশীদ।

বলছেন, এবারের প্রক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। এবারে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। দেশের জনগণও করেনি। শুধুমাত্র নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এটি জাতির সাথে শুধুমাত্র উপহাস ছাড়া কিচ্ছু নয়। আমি মনে করি এই সরকার তার মেয়াদকাল পূরণ করতে পারবে না।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন ভালো না মন্দ হয়েছে-সেই মূল্যায়ন করার বদলে, নেতা-কর্মীদের মুক্ত করে রাজপথে নামার পরিকল্পনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।