ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

মরুর বুকে সবজি চাষে ভাগ্য ফেরালেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ মার্চ ২০১৬
  • ৪০৯ বার

ঝিনাইদহের নতুন কোর্টপাড়া এলাকার বেলায়েত আলী সরকারের বড় ছেলে শাহ আলম সরকার। মরুভূমির বুকে সবজি চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন তিনি। ১৯৮৯ সালে এসএসসি আর ১৯৯১ সালে এইচএসসি পাস করার পর চরমপন্থীদের অত্যাচারে দেশ ছাড়েন শাহ আলম।

পাড়ি জমান মরুভূমির দেশ সৌদি আরবে। সামান্য বেতনে কাজ নেন একটি মাজরাতে (কৃষি খামার)। হাল ছাড়েননি শাহ আলম। বেশ কয়েক বছর অল্প বেতনে কাজ করে কফিলের (স্পন্সর) কাছ থেকে সামান্য জমি ভাড়া নিয়ে নিজেই শুরু করেন চাষাবাদ। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি শাহ আলম সরকারকে।

বর্তমানে শাহ আলমের ভাড়া নেওয়া জমির পরিমাণ ৭০ হেক্টর (প্রায় ১২০ বিঘা)। এই জমিতে চাষ হচ্ছে বেগুন, লাউ, সিম, মরিচ, ক্যাপসিকাম, সুদানী ফুল, কুচা সহ রকমারি সবজি। শাহ আলমের বর্তমান কৃষি খামারটি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে ‘আল খারিজ’ নামে জায়গায় অবস্থিত। সেখানে আরও বেশ কিছু কৃষি খামার রয়েছে যার অধিকাংশই পরিচালনা করছে বাংলাদেশিরা।

এক সময় অন্যের অধীনে সামান্য বেতনে কাজ করা শাহ আলমের বর্তমান শ্রমিকের সংখ্যা ৪৫ এর বেশি। এবং এর অধিকাংশই বাংলাদেশি। শাহ আলম বলেন, ‘আমার এখানে কাজ করা শ্রমিকের অধিকাংশই বাংলাদেশি। শুধু তাই নয়, ক্ষেত্র বিশেষ অন্য দেশের শ্রমিকের চাইতে বাংলাদেশিদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ। বাংলাদেশিদের ভিসা চালু হলে বাংলাদেশ থেকে আরও কিছু শ্রমিক নেওয়ার কথাও জানান শাহ আলম।

তিনি আরও বলেন, এখানে কাজ করা অনেক বাংলাদেশিরই ইকামা ছিল না। সৌদি বাদশার সাধারণ ক্ষমার সময় নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সবাইকে বৈধ করেছি। কারণ একটাই, বাংলাদেশিরা খুব সহজে সব কাজ আয়ত্বে আনতে পারে। তারা কাজে ফাঁকি দেয় না।

স্কুল পড়ুয়া দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে আল খারিজে বসবাস করা শাহ আলমের আয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনিতে খরচ অনেক। তার ওপর বেড়েছে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম। সব খরচ বাদ দিলে বছরে কোটি টাকার মতো সেভ করতে পারি।

উৎপাদিত পণ্যের বিপণন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের গাড়িতে করে রিয়াদের সবচেয়ে বড় পাইকারি সবজির বাজার আজিজিয়াতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে পাইকারি বিক্রি হয় তার খামারের সবজি।

বাংলাদেশ থেকে স্বল্প খরচে শ্রমিক নেওয়া গেলে এই খামারের ব্যবসাকে আরও কয়েকগুণে উন্নীত করা সম্ভব। তাই এই ব্যাপারে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন শাহ আলম সরকার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

মরুর বুকে সবজি চাষে ভাগ্য ফেরালেন

আপডেট টাইম : ১২:০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ মার্চ ২০১৬

ঝিনাইদহের নতুন কোর্টপাড়া এলাকার বেলায়েত আলী সরকারের বড় ছেলে শাহ আলম সরকার। মরুভূমির বুকে সবজি চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন তিনি। ১৯৮৯ সালে এসএসসি আর ১৯৯১ সালে এইচএসসি পাস করার পর চরমপন্থীদের অত্যাচারে দেশ ছাড়েন শাহ আলম।

পাড়ি জমান মরুভূমির দেশ সৌদি আরবে। সামান্য বেতনে কাজ নেন একটি মাজরাতে (কৃষি খামার)। হাল ছাড়েননি শাহ আলম। বেশ কয়েক বছর অল্প বেতনে কাজ করে কফিলের (স্পন্সর) কাছ থেকে সামান্য জমি ভাড়া নিয়ে নিজেই শুরু করেন চাষাবাদ। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি শাহ আলম সরকারকে।

বর্তমানে শাহ আলমের ভাড়া নেওয়া জমির পরিমাণ ৭০ হেক্টর (প্রায় ১২০ বিঘা)। এই জমিতে চাষ হচ্ছে বেগুন, লাউ, সিম, মরিচ, ক্যাপসিকাম, সুদানী ফুল, কুচা সহ রকমারি সবজি। শাহ আলমের বর্তমান কৃষি খামারটি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে ‘আল খারিজ’ নামে জায়গায় অবস্থিত। সেখানে আরও বেশ কিছু কৃষি খামার রয়েছে যার অধিকাংশই পরিচালনা করছে বাংলাদেশিরা।

এক সময় অন্যের অধীনে সামান্য বেতনে কাজ করা শাহ আলমের বর্তমান শ্রমিকের সংখ্যা ৪৫ এর বেশি। এবং এর অধিকাংশই বাংলাদেশি। শাহ আলম বলেন, ‘আমার এখানে কাজ করা শ্রমিকের অধিকাংশই বাংলাদেশি। শুধু তাই নয়, ক্ষেত্র বিশেষ অন্য দেশের শ্রমিকের চাইতে বাংলাদেশিদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ। বাংলাদেশিদের ভিসা চালু হলে বাংলাদেশ থেকে আরও কিছু শ্রমিক নেওয়ার কথাও জানান শাহ আলম।

তিনি আরও বলেন, এখানে কাজ করা অনেক বাংলাদেশিরই ইকামা ছিল না। সৌদি বাদশার সাধারণ ক্ষমার সময় নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সবাইকে বৈধ করেছি। কারণ একটাই, বাংলাদেশিরা খুব সহজে সব কাজ আয়ত্বে আনতে পারে। তারা কাজে ফাঁকি দেয় না।

স্কুল পড়ুয়া দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে আল খারিজে বসবাস করা শাহ আলমের আয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমনিতে খরচ অনেক। তার ওপর বেড়েছে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম। সব খরচ বাদ দিলে বছরে কোটি টাকার মতো সেভ করতে পারি।

উৎপাদিত পণ্যের বিপণন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের গাড়িতে করে রিয়াদের সবচেয়ে বড় পাইকারি সবজির বাজার আজিজিয়াতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে পাইকারি বিক্রি হয় তার খামারের সবজি।

বাংলাদেশ থেকে স্বল্প খরচে শ্রমিক নেওয়া গেলে এই খামারের ব্যবসাকে আরও কয়েকগুণে উন্নীত করা সম্ভব। তাই এই ব্যাপারে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন শাহ আলম সরকার।