ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

ইউটিউবার ৯ বছরের বালক ৫ কোটি ডলারের মালিক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১
  • ২৮৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিস্ময় বালক জাপানি বংশোদ্ভূত রায়ান কাজি। মাত্র ৯ বছর  বয়সের সে বিশ্বের সেরা ইউটিউবার। পিতামাতা, যমজ দুই বোনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রায়ান এরই মধ্যে নিট ৫ কোটি ডলারের মালিক। ২০২০ সালেও তৃতীয় বছরের মতো ইউটিউব থেকে টানা সর্বোচ্চ অর্থ উপার্জনকারী নির্বাচিত হয়েছে। তাকে এমন শীর্ষ স্থান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন ফোরবস। কিভাবে সম্ভব হলো মাত্র ৯ বছর বয়সী একটি বালকের এত্ত বিশাল অর্থের মালিক হয়ে যাওয়া!
আরো কম বয়সে তার সফলতার গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে। ইউটিউবে তার চ্যানেলের নাম ‘রায়ান’স ওয়ার্ল্ড’। এখানে সে প্রথমে ভিডিও কন্টেন্ট আনবক্সিং করে তা আপলোড করা শুরু করে।

এটা ২০১৫ সালের কথা। তখন তার বয়স মাত্র ৩ বছর। প্রথমে তার চ্যানেলের নাম ছিল রায়ান টয়েজ রিভিউ। পরে সেই নাম পাল্টে নাম রাখে রায়ানস ওয়ার্ল্ড। এরপর থেকে সে তার চ্যানেলকে বিস্তৃত করতে থাকে। তাতে অন্তর্ভুক্ত করতে থাকে শিক্ষা বিষয়ক কন্টেন্ট, পারিবারিক সম্পর্ক বিষয়ক ভিডিও, যেমন ‘ডিআইওয়াই’ বিজ্ঞান বিষয়ক পরীক্ষা। এ ছাড়া এতে যোগ করতে থাকে তার যমজ বোন এমা কাজি ও কেট কাজির বিভিন্ন সময়ের খেলার ভিডিও।
রায়ান কাজির পিতা শিওন কাজি ও মাতা লোয়ান কাজি। রায়ানস ওয়ার্ল্ডের এত জনপ্রিয়তার কারণ রায়ান ও তার পিতার মধ্যকার বন্ধন। চ্যানেলের নেপথ্যে পিতা তাকে সময় দিয়েছেন। মা-ও ছিলেন উৎসাহ নিয়ে পাশে। জানুয়ারিতে রায়ানের এই চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি ৭৯ লাখ। এখানে উল্লেখ্য, ইউটিউবের মালিকের একাউন্টে টাকা জমা হয় এর ভিউ এবং কি পরিমাণ সাবস্ক্রাইবার আছে তার ওপর ভিত্তি করে। এক্ষেত্রে রায়ান কাজির কন্টেট দেখেন সব বয়সী মানুষ। তার এই চ্যানেল ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ভিউ হয়েছে ১২২০ কোটি বার। বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই, এর ফলে সে আয় করেছে ২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। ফোরবস বলেছে, তাকে ইউটিউব থেকে সর্বোচ্চ অর্থ আয়কারীদের শীর্ষে রাখতে এই অর্থ যথেষ্ট।
রায়ান কাজির বয়স ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করছে সে। তবে তার এই সফলতার নেপথ্যে রয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষের কঠোর পরিশ্রম। তার চ্যানেল থেকে প্রতিদিন একটি করে ভিডিও আপলোড দেয়া হয়। এ জন্য তার পরিবার ৩০ জনের একটি টিম গঠন করেছে। এই টিমের নাম দেয়া হয়েছে সানলাইট এন্টারটেইনমেন্ট। এটার ব্যবস্থাপনা করে তার পরিবার। এই টিম ভিডিও তৈরি এবং তা আপলোডে সহায়তা করে। রায়ানস ওয়ার্ল্ড এখন লাইসেন্সপ্রাপ্ত। এই চ্যানেলে আছে প্রায় ৫০০০ ভিডিও। সেখান থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০ কোটি ডলার রাজস্ব বা রয়েলটি আসে। এছাড়া রায়ান কাজির রয়েছে নিকেলোডিওন, হুলু এবং রোকু’র সঙ্গে রয়েছে চুক্তি। সব মিলিয়ে তার পরিবার কমপক্ষে ১০ কোটি ডলার আয় করেছে। আর তারা যে মিডিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, তার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার।
২০১৬ এবং ২০১৭ সালে রায়ান কাজি আয় করেছে এক কোটি ১০ লাখ ডলার। ২০১৮ সালে রাজস্ব হিসেবে আয় করেছে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। উইকিপেডিয়া জানাচ্ছে, রায়ানের এই চ্যানেল থেকে প্রতিদিন একটি করে নতুন ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এতে যেসব ভিডিও আছে তার মধ্যে অন্যতম ‘হিউজ এগস সারপ্রাইজ টয়েজ চ্যালেঞ্জ’। এই ভিডিওটি ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভিউ হয়েছে ২০০ কোটি বারের বেশি। ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি দেখা হয়েছে এমন ৬০টি ভিডিওর একটি এই ভিডিও। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি যেসব ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব হয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম।
প্রযুক্তি বিষয়ক অনলাইন দ্য ভার্গি রায়ানের এই চ্যানেলটিকে ব্যক্তিগত ভেøাগে একাকার করে দিয়েছে। নিষ্পাপ শৈশবের এক বিরল সংমিশ্রণ বলে উল্লেখ করেছে তারা। রায়ানের এই চ্যানেলটি অন্যান্য ভাষায়ও চলমান। এর মধ্যে রয়েছে স্প্যানিশ ও জাপানিজ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

ইউটিউবার ৯ বছরের বালক ৫ কোটি ডলারের মালিক

আপডেট টাইম : ০৬:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিস্ময় বালক জাপানি বংশোদ্ভূত রায়ান কাজি। মাত্র ৯ বছর  বয়সের সে বিশ্বের সেরা ইউটিউবার। পিতামাতা, যমজ দুই বোনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রায়ান এরই মধ্যে নিট ৫ কোটি ডলারের মালিক। ২০২০ সালেও তৃতীয় বছরের মতো ইউটিউব থেকে টানা সর্বোচ্চ অর্থ উপার্জনকারী নির্বাচিত হয়েছে। তাকে এমন শীর্ষ স্থান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন ফোরবস। কিভাবে সম্ভব হলো মাত্র ৯ বছর বয়সী একটি বালকের এত্ত বিশাল অর্থের মালিক হয়ে যাওয়া!
আরো কম বয়সে তার সফলতার গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে। ইউটিউবে তার চ্যানেলের নাম ‘রায়ান’স ওয়ার্ল্ড’। এখানে সে প্রথমে ভিডিও কন্টেন্ট আনবক্সিং করে তা আপলোড করা শুরু করে।

এটা ২০১৫ সালের কথা। তখন তার বয়স মাত্র ৩ বছর। প্রথমে তার চ্যানেলের নাম ছিল রায়ান টয়েজ রিভিউ। পরে সেই নাম পাল্টে নাম রাখে রায়ানস ওয়ার্ল্ড। এরপর থেকে সে তার চ্যানেলকে বিস্তৃত করতে থাকে। তাতে অন্তর্ভুক্ত করতে থাকে শিক্ষা বিষয়ক কন্টেন্ট, পারিবারিক সম্পর্ক বিষয়ক ভিডিও, যেমন ‘ডিআইওয়াই’ বিজ্ঞান বিষয়ক পরীক্ষা। এ ছাড়া এতে যোগ করতে থাকে তার যমজ বোন এমা কাজি ও কেট কাজির বিভিন্ন সময়ের খেলার ভিডিও।
রায়ান কাজির পিতা শিওন কাজি ও মাতা লোয়ান কাজি। রায়ানস ওয়ার্ল্ডের এত জনপ্রিয়তার কারণ রায়ান ও তার পিতার মধ্যকার বন্ধন। চ্যানেলের নেপথ্যে পিতা তাকে সময় দিয়েছেন। মা-ও ছিলেন উৎসাহ নিয়ে পাশে। জানুয়ারিতে রায়ানের এই চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি ৭৯ লাখ। এখানে উল্লেখ্য, ইউটিউবের মালিকের একাউন্টে টাকা জমা হয় এর ভিউ এবং কি পরিমাণ সাবস্ক্রাইবার আছে তার ওপর ভিত্তি করে। এক্ষেত্রে রায়ান কাজির কন্টেট দেখেন সব বয়সী মানুষ। তার এই চ্যানেল ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ভিউ হয়েছে ১২২০ কোটি বার। বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই, এর ফলে সে আয় করেছে ২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। ফোরবস বলেছে, তাকে ইউটিউব থেকে সর্বোচ্চ অর্থ আয়কারীদের শীর্ষে রাখতে এই অর্থ যথেষ্ট।
রায়ান কাজির বয়স ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করছে সে। তবে তার এই সফলতার নেপথ্যে রয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষের কঠোর পরিশ্রম। তার চ্যানেল থেকে প্রতিদিন একটি করে ভিডিও আপলোড দেয়া হয়। এ জন্য তার পরিবার ৩০ জনের একটি টিম গঠন করেছে। এই টিমের নাম দেয়া হয়েছে সানলাইট এন্টারটেইনমেন্ট। এটার ব্যবস্থাপনা করে তার পরিবার। এই টিম ভিডিও তৈরি এবং তা আপলোডে সহায়তা করে। রায়ানস ওয়ার্ল্ড এখন লাইসেন্সপ্রাপ্ত। এই চ্যানেলে আছে প্রায় ৫০০০ ভিডিও। সেখান থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০ কোটি ডলার রাজস্ব বা রয়েলটি আসে। এছাড়া রায়ান কাজির রয়েছে নিকেলোডিওন, হুলু এবং রোকু’র সঙ্গে রয়েছে চুক্তি। সব মিলিয়ে তার পরিবার কমপক্ষে ১০ কোটি ডলার আয় করেছে। আর তারা যে মিডিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, তার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার।
২০১৬ এবং ২০১৭ সালে রায়ান কাজি আয় করেছে এক কোটি ১০ লাখ ডলার। ২০১৮ সালে রাজস্ব হিসেবে আয় করেছে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। উইকিপেডিয়া জানাচ্ছে, রায়ানের এই চ্যানেল থেকে প্রতিদিন একটি করে নতুন ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এতে যেসব ভিডিও আছে তার মধ্যে অন্যতম ‘হিউজ এগস সারপ্রাইজ টয়েজ চ্যালেঞ্জ’। এই ভিডিওটি ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভিউ হয়েছে ২০০ কোটি বারের বেশি। ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি দেখা হয়েছে এমন ৬০টি ভিডিওর একটি এই ভিডিও। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি যেসব ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব হয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম।
প্রযুক্তি বিষয়ক অনলাইন দ্য ভার্গি রায়ানের এই চ্যানেলটিকে ব্যক্তিগত ভেøাগে একাকার করে দিয়েছে। নিষ্পাপ শৈশবের এক বিরল সংমিশ্রণ বলে উল্লেখ করেছে তারা। রায়ানের এই চ্যানেলটি অন্যান্য ভাষায়ও চলমান। এর মধ্যে রয়েছে স্প্যানিশ ও জাপানিজ।