,

19

সবজির বাম্পার ফলনেও হতাশ কৃষক

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  বাম্পার ফলনেও হতাশ হয়ে পড়েছেন খুলনার শস্য ভান্ডার খ্যাত ডুমুরিয়ার সবজি চাষিরা। উৎপাদন খরচের অর্ধেকও ফিরে পাচ্ছেন না এসব সবজি চাষিরা। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে ডুমুরিয়ায় এক ইঞ্চি জমি খালি রাখেননি তারা।

আবাদ করেছেন বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, পালংশাক, শিম, বরবটি, মুলাসহ অন্যান্য সবজির। শীতের পরশের আগেই ভালো দাম পায় কৃষক। বেগুন থেকে শিম পর্যন্ত প্রতি কেজি মৌসুমের শুরুতেই ৮০ টাকা দরে শুরু হলেও এখন এসব সবজি ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শ্রমিক ও পরিবহন খরচ উঠছে না। প্রতি সপ্তাহে কৃষক আগ্রহ হারাচ্ছে। ফলে কৃষকের আশংকা জানুয়ারির প্রথমদিকে ক্ষেতেই রয়ে যাবে শীতের সবজি ।

জেলার ফুলতলা, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা ও দিঘলিয়ায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত সবজি খুলনার ট্রাক টার্মিনাল কাঁচা বাজার, ডুমুরিয়া, সাহাপুর, মালতিয়া, যশোর ও ঢাকায় যাচ্ছে। পাশাপাশি যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুরে উৎপাদিত সব্জি এ অঞ্চলের বাজারে আসছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হয়েছে। করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষক ব্যাপক জমিতে সবজির আবাদ করে।

ডুমুরিয়ার বরাতিয়া গ্রামের কৃষক প্রশান্ত মল্লিক সীমের আবাদ করেছেন। দেড় বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করেন। এ জমির চারিপাশে শিমের আবাদ। আইরেট জাতীয় শিমের উৎপাদন বেশি হয়েছে।

ডিসেম্বরের প্রথম দিকে প্রতি কেজি ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়। গত বুধবার দাম আরো কমে যায়। এ গ্রামের ৫শ’ কৃষক শিমের আবাদ করেছেন। এই কৃষকের ধারণা জানুয়ারির প্রথমদিকে প্রতি কেজি শিম পাঁচ টাকা দরে বিক্রি হতে পারে।

একই গ্রামের ললিত দাস জানান, ফুলকপি ও শিমের আবাদে তাকে লোকসান গুনতে হবে। শীতের সবজি  চাষের জন্য তার ছেলেরা সুদে মহাজনের কাছ থেকে টাকা নেয়। টাকা এবার শোধ হবে না।

গোবিন্দকাটি গ্রামের লিটন মোড়ল দুই বিঘা জমিতে লাল শাক চাষ করে ২০ হাজার টাকা লাভবান হয়েছে। টমেটো ও ফুলকপিতে তার লোকসান হচ্ছে। একইগ্রামের মো. হাবিবুর রহমান দুই বিঘা জমিতে বেগুন ও ফুলকপির আবাদ করেছেন। খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার টাকা। কৃষক হাবিবুর রহমান চিন্তিত বোরো আবাদের জন্য পকেটে পুঁজি নেই।

ঠাকুন্দিয়া গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজী ও মালতিয়া গ্রামের কাজী মজিদ বেগুন ও টমেটোর আবাদ করেছেন। আরশনগর গ্রামের সঞ্জয় দেবনাথ বাঁধাকপি, টমেটো ও মুলার আবাদ করেছেন। চার বিঘা জমির সবজি বিক্রিতে তার উৎপাদন খরচ উঠছে না।

মালতিয়া গ্রামের লতিফ গাজী, শুভঙ্কর কুন্ডু, আকাশ গাজী, তফসের শেখ বেগুনের আবাদ করেছেন।

শুভঙ্কর কুণ্ডু জানান, তিনি কাঁচামালের আড়তে ৭ টাকা কেজি দরে বেগুন বিক্রি করেছেন। বড় অংকের টাকা লোকসান দিতে হবে। বোরো আবাদের জন্য সেচ, শ্রমিক ও সারের অর্থ যোগান দিতে তাকে হিমশিম খেতে হবে।

ঠাকুন্দিয়া, আরশনগর ও বরাতিয়া গ্রামের কৃষকরা জানান, ২০১৪ সালে টমেটো প্রতি কেজি দুই টাকা হওয়ায় কৃষক তার উৎপাদিত টমেটো বাজারে নিয়ে যায়নি, ক্ষেতেই পড়েছিল। আগামী মাস নাগাদ কৃষক ক্ষেতের ফসল আর হয়তো তুলবে না। ফসল তুললে পরিবহন ও দিনমজুরের খরচ উঠবে না। এবারো ডুমুরিয়া ও ফুলতলার চাষিদের উৎপাদিত সবজি গো-খাদ্যে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর