ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছাত্রদলের নেতৃত্বে রুয়েলকে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হঠাৎ যেন বন্যা পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের নতুন নাম দিলেন সোহেল তাজ বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া সরকার : প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ফ্যাসিবাদ সমর্থন করা সংবাদমাধ্যমকে বয়কট করতে বললেন তথ্যমন্ত্রী মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ: রাষ্ট্রপতি দুই ডিআইজিসহ পুলিশের ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা ইসির সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে একমত নন অ্যাটর্নি জেনারেল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৬
  • ৫১৫ বার

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘অবসরে যাওয়া বিচারপতিদের রায় লেখা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটা তার নিজস্ব বক্তব্য। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের সাথে একমত নই।’

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। মাহবুবে আলম বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির কথা ধরা হলে, অবসরে যাওয়ার তিন-চার মাস আগ থেকে বিচারপতিরা আদলতে বসতে পারবেন না।’

তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান বিচারপতির মন্তব্য নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত ১৩তম সংশোধনীর বিষয়ে প্রাক্তন বিচারপতি এ বি এম খাইরুল হকের রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খাইরুল হক অন্য ৫ বিচারপতির পক্ষে রায় লিখেছেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার মামলার লিখিত রায় পরিবর্তন হয়েছে, তা-ও সত্য নয়। প্রসঙ্গত, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার দ্বায়িত্বের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১৮ জানুয়ারি এক বাণী দেন।

বাণীর এক অংশে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের মামলাজট নিরসনকল্পে বিদ্যমান অবকাশকালীন ছুটি কমিয়ে আনা ও যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তিকৃত মামলার রায় লেখা নিশ্চিত করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা সত্ত্বেও সহকর্মী সকল বিচারপতিগণকে এ বিষয়ে সম্মত করতে সমর্থ হইনি। এটা আমার ব্যর্থতা। কোনো কোনো বিচারক রায় লিখতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করেন, আবার কেউ কেউ অবসর গ্রহণের দীর্ঘদিন পর পর্যন্ত রায় লেখা অব্যাহত রাখেন, যা আইন ও সংবিধান পরিপন্থী।’

বাণীতে তিনি আরো বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ বাংলাদেশের সংবিধান, আইনের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানের শপথ গ্রহণ করেন। কোনো বিচারপতি অবসর গ্রহণের পর তিনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে গণ্য হন। তাই তার গৃহীত শপথও বহাল থাকে না। আদালতের নথি সরকারি দলিল। একজন বিচারপতি অবসর গ্রহণের পর আদালতের নথি নিজের নিকট সংরক্ষণ, পর্যালোচনা বা রায় প্রস্তুত করা এবং তাতে দস্তখত করার অধিকার হারান। আশা করি, বিচারকগণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এমন বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকবেন।’

প্রধান বিচারপতির এই বিবৃতির পর আইনজীবীসহ বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের নেতৃত্বে রুয়েলকে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে একমত নন অ্যাটর্নি জেনারেল

আপডেট টাইম : ১১:২৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৬

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘অবসরে যাওয়া বিচারপতিদের রায় লেখা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটা তার নিজস্ব বক্তব্য। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের সাথে একমত নই।’

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। মাহবুবে আলম বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির কথা ধরা হলে, অবসরে যাওয়ার তিন-চার মাস আগ থেকে বিচারপতিরা আদলতে বসতে পারবেন না।’

তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান বিচারপতির মন্তব্য নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত ১৩তম সংশোধনীর বিষয়ে প্রাক্তন বিচারপতি এ বি এম খাইরুল হকের রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খাইরুল হক অন্য ৫ বিচারপতির পক্ষে রায় লিখেছেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার মামলার লিখিত রায় পরিবর্তন হয়েছে, তা-ও সত্য নয়। প্রসঙ্গত, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার দ্বায়িত্বের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১৮ জানুয়ারি এক বাণী দেন।

বাণীর এক অংশে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের মামলাজট নিরসনকল্পে বিদ্যমান অবকাশকালীন ছুটি কমিয়ে আনা ও যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তিকৃত মামলার রায় লেখা নিশ্চিত করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা সত্ত্বেও সহকর্মী সকল বিচারপতিগণকে এ বিষয়ে সম্মত করতে সমর্থ হইনি। এটা আমার ব্যর্থতা। কোনো কোনো বিচারক রায় লিখতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করেন, আবার কেউ কেউ অবসর গ্রহণের দীর্ঘদিন পর পর্যন্ত রায় লেখা অব্যাহত রাখেন, যা আইন ও সংবিধান পরিপন্থী।’

বাণীতে তিনি আরো বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ বাংলাদেশের সংবিধান, আইনের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানের শপথ গ্রহণ করেন। কোনো বিচারপতি অবসর গ্রহণের পর তিনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে গণ্য হন। তাই তার গৃহীত শপথও বহাল থাকে না। আদালতের নথি সরকারি দলিল। একজন বিচারপতি অবসর গ্রহণের পর আদালতের নথি নিজের নিকট সংরক্ষণ, পর্যালোচনা বা রায় প্রস্তুত করা এবং তাতে দস্তখত করার অধিকার হারান। আশা করি, বিচারকগণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এমন বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকবেন।’

প্রধান বিচারপতির এই বিবৃতির পর আইনজীবীসহ বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।