ঢাকা ০১:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
‘পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে মানসম্মত উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি’ শাহজালালে বিমানের জরুরি অবতরণের পর ছুটে গেলেন মন্ত্রী এআই দিয়ে জামায়াত-শিবির সরকারবিরোধী যে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, তা আ. লীগও করেনি দেশের ৫০৩টি উপজেলার উন্নয়নে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী আঙুলের কালির দাগ শুকানোর আগেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ৪ সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ ৭ হাজারের বেশি আটক: মোদি সরকারকে তীব্র নিন্দা জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টিসহ বিরোধীদের আগামী বছরের রমজান শুরু হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি ক্যামেরার ফ্রেমে পরিযায়ী পাখির চোখজুড়ানো দৃশ্য পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদির সরকার বিদ্যুৎ বিভাগের ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার সহায়তা

স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যায় নতুন তথ্য, কক্সবাজারে দেখা গেছে যার সঙ্গে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ বার

স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যায় বেশ কিছু নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার তথ্য এতদিন গণমাধ্যমে এলেও এবার তার সঙ্গে এক ছেলে বন্ধুকেও সেখানে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই স্কুলছাত্রী যে বাসে কুমিল্লায় ফিরেছেন সেটির টিকিটও রাজু চৌধুরী (২০) নামের ওই ছেলেটি কেটে দিয়েছিল। তিনি কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন।

জানা গেছে, কলাতলি ডলফিন মোড়ের উপরের অংশে একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন রাজু চৌধুরী। তার বাড়ি চকরিয়া লামা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের বরছনখোলা গ্রামে। এর বেশি পরিচয় ও তথ্য জানা যায়নি। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে তার মোবাইলটি বন্ধ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশ বা আইনি ঝামেলার ভয়ে সে আত্মগোপনে গেছে। হোটেলও তাকে পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজার কক্সেস পেনারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার পর তাজমিন বন্ধু রাজুসহ বাসের টিকিট কাটতে তাদের কাউন্টারে আসে। পরদিন বুধবারের জন্য একটি টিকিট কাটে ছেলেটি। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কুমিল্লার উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়ে। রাতে হোটেল নূরজাহানে এসে পৌঁছে। বাসটি ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে।

এদিকে, হত্যার ঘটনা আলোচনায় আসার পর আবদুল্লাহ ঘটনায় মনোযোগী হন ও মেয়েটি তাজমিন বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ জানতে চাইতে পারে বলেই আগে থেকে প্রস্তুতি নেন। পরে জানতে পারেন, সঙ্গে আসা ছেলে বন্ধুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে একজনই, বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫)। তাই ছেলেটির আর কোনও খোঁজখবর নেয়নি।

চারদিন ধরে তাজমিন নিখোঁজ থাকলেও কবে কক্সবাজার গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমদিন পাশের জেলা ব্রাক্ষণবাড়িয়া যায়। সেখানে থেকে কুমিল্লা ফিরে কক্সবাজার যায়। যাওয়ার সময় বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে বলে মাকে জানায়।

কক্সবাজার থেকে বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা প্রবেশমুখ পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড হোটেল নূরজাহানে আইকনিক এক্সপ্রেস বাস থেকে তাজমিন নেমেছে সিসিটিভি ফুটেজে এমনটাই দেখা গেছে।

এদিকে ঘটনার পর তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে চেয়েছিল। কেয়া খাতুন মেয়ের কাছে বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও সে কিছু জানায়নি।

মেয়ের বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন তাজমিনের মা। কোনও অঘটন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করতেন। জানতে চাইতেন তার চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে। কিন্তু এত সতর্কতার পরও শেষ পর্যন্ত মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি।

এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যে বান্ধবীকে দুষছেন তাজমিনের মা তিনি তার চেয়ে বয়সে বড়। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা এখনও মেলেনি। তবে মেয়ে অবাধ্য হয়ে উঠেছিল। পাপজিসহ মোবাইল গেমে আসক্ত ছিল।

তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, আমি তাকে দীর্ঘদিন পড়িয়েছি। সে খুবই চঞ্চল স্বভাবের ছিল। তার মা অসুস্থ হলে দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখভাল করত তাজমিন। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এ কারণে তার বাবা সকালে বাসা থেকে বের হলে রাতে ফিরতেন। তবে বাবা তাজমিনকে খুব আদর করতেন। ঘরে রাগ হলে সে হুটহাট করে বাসা থেকে বের হয়ে যেত।

পুলিশ বলেছে, ঘাতক একজনই, সিএনজি অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। সে আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের বাস থেকে পদুয়ারবাজার হোটেল নূরজাহানে নেমে শহরের রেইসকোর্স বাসায় যেতে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। গ্রেফতার সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন ঘটনাস্থলে নিয়ে ধর্ষণের পর তার হত্যা নিশ্চিত করে।

পর দিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সুমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে আদালতে ঘটনায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে মানসম্মত উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি’

স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যায় নতুন তথ্য, কক্সবাজারে দেখা গেছে যার সঙ্গে

আপডেট টাইম : ১১:০৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যায় বেশ কিছু নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার যাওয়ার তথ্য এতদিন গণমাধ্যমে এলেও এবার তার সঙ্গে এক ছেলে বন্ধুকেও সেখানে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই স্কুলছাত্রী যে বাসে কুমিল্লায় ফিরেছেন সেটির টিকিটও রাজু চৌধুরী (২০) নামের ওই ছেলেটি কেটে দিয়েছিল। তিনি কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন।

জানা গেছে, কলাতলি ডলফিন মোড়ের উপরের অংশে একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন রাজু চৌধুরী। তার বাড়ি চকরিয়া লামা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের বরছনখোলা গ্রামে। এর বেশি পরিচয় ও তথ্য জানা যায়নি। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে তার মোবাইলটি বন্ধ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশ বা আইনি ঝামেলার ভয়ে সে আত্মগোপনে গেছে। হোটেলও তাকে পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজার কক্সেস পেনারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির আবদুল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার পর তাজমিন বন্ধু রাজুসহ বাসের টিকিট কাটতে তাদের কাউন্টারে আসে। পরদিন বুধবারের জন্য একটি টিকিট কাটে ছেলেটি। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কুমিল্লার উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়ে। রাতে হোটেল নূরজাহানে এসে পৌঁছে। বাসটি ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে।

এদিকে, হত্যার ঘটনা আলোচনায় আসার পর আবদুল্লাহ ঘটনায় মনোযোগী হন ও মেয়েটি তাজমিন বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ জানতে চাইতে পারে বলেই আগে থেকে প্রস্তুতি নেন। পরে জানতে পারেন, সঙ্গে আসা ছেলে বন্ধুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে একজনই, বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫)। তাই ছেলেটির আর কোনও খোঁজখবর নেয়নি।

চারদিন ধরে তাজমিন নিখোঁজ থাকলেও কবে কক্সবাজার গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমদিন পাশের জেলা ব্রাক্ষণবাড়িয়া যায়। সেখানে থেকে কুমিল্লা ফিরে কক্সবাজার যায়। যাওয়ার সময় বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে বলে মাকে জানায়।

কক্সবাজার থেকে বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা প্রবেশমুখ পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড হোটেল নূরজাহানে আইকনিক এক্সপ্রেস বাস থেকে তাজমিন নেমেছে সিসিটিভি ফুটেজে এমনটাই দেখা গেছে।

এদিকে ঘটনার পর তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে চেয়েছিল। কেয়া খাতুন মেয়ের কাছে বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও সে কিছু জানায়নি।

মেয়ের বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন তাজমিনের মা। কোনও অঘটন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করতেন। জানতে চাইতেন তার চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে। কিন্তু এত সতর্কতার পরও শেষ পর্যন্ত মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি।

এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যে বান্ধবীকে দুষছেন তাজমিনের মা তিনি তার চেয়ে বয়সে বড়। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা এখনও মেলেনি। তবে মেয়ে অবাধ্য হয়ে উঠেছিল। পাপজিসহ মোবাইল গেমে আসক্ত ছিল।

তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, আমি তাকে দীর্ঘদিন পড়িয়েছি। সে খুবই চঞ্চল স্বভাবের ছিল। তার মা অসুস্থ হলে দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখভাল করত তাজমিন। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এ কারণে তার বাবা সকালে বাসা থেকে বের হলে রাতে ফিরতেন। তবে বাবা তাজমিনকে খুব আদর করতেন। ঘরে রাগ হলে সে হুটহাট করে বাসা থেকে বের হয়ে যেত।

পুলিশ বলেছে, ঘাতক একজনই, সিএনজি অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। সে আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের বাস থেকে পদুয়ারবাজার হোটেল নূরজাহানে নেমে শহরের রেইসকোর্স বাসায় যেতে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। গ্রেফতার সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন ঘটনাস্থলে নিয়ে ধর্ষণের পর তার হত্যা নিশ্চিত করে।

পর দিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সুমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে আদালতে ঘটনায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে।