ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বারে অভিযান, ২৩০ পিস অননুমোদিত লিকার জব্দ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৯:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার

ঢাকার গুলশানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডসহ চারটি বার ও রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে কাগজপত্রবিহীন ২৩০ পিস লিকারসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) এনবিআরের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের তথ্য জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, লিকারজাতীয় পণ্য মজুত এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে যারা ব্যবসা করছে, তা প্রতিহত করার লক্ষ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চারটি দল একাধিক বারে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছে।

অভিযানের প্রথম দল গুলশানের ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালায়। প্রতিষ্ঠানটি সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন। সেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩০ পিস লিকার পাওয়া যায়। এসব পণ্যের বৈধ কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানটি দেখাতে পারেনি। পণ্যগুলো একটি কাভার্ডভ্যানে করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে সেগুলো আটক করা হয়।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে ‘জিনশেং’ নামে একটি পণ্য পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা জানান, এটি শর্তযুক্ত আমদানি পণ্য। ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের পণ্য আমদানি করা যায় না। এ পণ্যেরও কোনো কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানটি দেখাতে পারেনি।

অভিযানে প্রায় এক কেজি জাফরানও পাওয়া যায়। এটি উচ্চ শুল্কের দামি পণ্য বলে জানান কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি ও বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

অন্যদিকে, গুলশানের মার্গারিটা লাউঞ্জে ৬০৮ লিটার অনুমোদিত মদ পাওয়া যায়। এর মধ্যে মাত্র ৩৬ লিটার দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য। পুরো মদই জব্দ করা হয়েছে।

তেজগাঁওয়ের হোটেল হলিডে ইন ইন্টারন্যাশনালেও অভিযান চালানো হয়। রিজভী আহমেদ বলেন, হোটেলটির বারটি হোটেলের নামে লাইসেন্স করা নয়। এটি ‘হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল’-এর নামে পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন হলেও সংশ্লিষ্টরা কোনো নথি দেখাতে পারেননি। তাদের নথিপত্র সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

কোনো আক্রোশ থেকে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বারে অভিযান কি না জানতে চাইলে রিজভী আহমেদ বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যে অভিযান পরিচালনা করছে সেখানে কোনো ব্যক্তি কিংবা সংঘ মুখ্য বিষয় নয়। মুখ্য বিষয় হচ্ছে আমাদের কাছে যেসব নথিপত্র সংরক্ষিত আছে সেগুলো। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা তথ্য পাই। সেসব তথ্য বিশ্লেষণ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে এমন সম্ভাবনা রয়েছে অভিযান পরিচালনা করেছি। এখানে ব্যক্তি, সংঘ কিংবা কোনো কনটেন্ট ক্রিয়েটর একেবারেই মুখ্য বিষয় নয়। এটা নির্দ্বিধায় আপনাদেরকে নিশ্চিত করতে পারি।

তিনি বলেন, একটি মুদ্রা দুই রকম পিঠ থাকে। যদি এরকম কিছু আপনাদের কাছে মনে হয়, সেটা হতে পারে একটি মুদ্রার কাকতালীয় এক পিঠ। আরেক পিঠ হচ্ছে এটাকে হয়তো কাকতালীয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর বাইরে আর কিছুই নয়। এসব বারে আগেও রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন দপ্তর থেকে মামলা করা হয়েছে বিভিন্ন অভিযোগে।

এছাড়া তেজগাঁওয়ের আরএডাব্লিউ ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট থেকে ২৯ লিটার অননুমোদিত লিকার জব্দ করা হয়েছে।

এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কয়েকটি বার, রেস্টুরেন্ট, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহ, প্রযোজ্য শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে এসব পণ্য সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযানের জন্য সিআইআইডি চারটি দল গঠন করে। এসব দলের সঙ্গে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বারে অভিযান, ২৩০ পিস অননুমোদিত লিকার জব্দ

আপডেট টাইম : ১২:২৯:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার গুলশানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডসহ চারটি বার ও রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে কাগজপত্রবিহীন ২৩০ পিস লিকারসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) এনবিআরের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের তথ্য জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, লিকারজাতীয় পণ্য মজুত এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে যারা ব্যবসা করছে, তা প্রতিহত করার লক্ষ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চারটি দল একাধিক বারে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছে।

অভিযানের প্রথম দল গুলশানের ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালায়। প্রতিষ্ঠানটি সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন। সেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩০ পিস লিকার পাওয়া যায়। এসব পণ্যের বৈধ কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানটি দেখাতে পারেনি। পণ্যগুলো একটি কাভার্ডভ্যানে করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে সেগুলো আটক করা হয়।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে ‘জিনশেং’ নামে একটি পণ্য পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা জানান, এটি শর্তযুক্ত আমদানি পণ্য। ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের পণ্য আমদানি করা যায় না। এ পণ্যেরও কোনো কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানটি দেখাতে পারেনি।

অভিযানে প্রায় এক কেজি জাফরানও পাওয়া যায়। এটি উচ্চ শুল্কের দামি পণ্য বলে জানান কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি ও বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

অন্যদিকে, গুলশানের মার্গারিটা লাউঞ্জে ৬০৮ লিটার অনুমোদিত মদ পাওয়া যায়। এর মধ্যে মাত্র ৩৬ লিটার দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য। পুরো মদই জব্দ করা হয়েছে।

তেজগাঁওয়ের হোটেল হলিডে ইন ইন্টারন্যাশনালেও অভিযান চালানো হয়। রিজভী আহমেদ বলেন, হোটেলটির বারটি হোটেলের নামে লাইসেন্স করা নয়। এটি ‘হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল’-এর নামে পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন হলেও সংশ্লিষ্টরা কোনো নথি দেখাতে পারেননি। তাদের নথিপত্র সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

কোনো আক্রোশ থেকে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বারে অভিযান কি না জানতে চাইলে রিজভী আহমেদ বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যে অভিযান পরিচালনা করছে সেখানে কোনো ব্যক্তি কিংবা সংঘ মুখ্য বিষয় নয়। মুখ্য বিষয় হচ্ছে আমাদের কাছে যেসব নথিপত্র সংরক্ষিত আছে সেগুলো। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা তথ্য পাই। সেসব তথ্য বিশ্লেষণ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে এমন সম্ভাবনা রয়েছে অভিযান পরিচালনা করেছি। এখানে ব্যক্তি, সংঘ কিংবা কোনো কনটেন্ট ক্রিয়েটর একেবারেই মুখ্য বিষয় নয়। এটা নির্দ্বিধায় আপনাদেরকে নিশ্চিত করতে পারি।

তিনি বলেন, একটি মুদ্রা দুই রকম পিঠ থাকে। যদি এরকম কিছু আপনাদের কাছে মনে হয়, সেটা হতে পারে একটি মুদ্রার কাকতালীয় এক পিঠ। আরেক পিঠ হচ্ছে এটাকে হয়তো কাকতালীয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর বাইরে আর কিছুই নয়। এসব বারে আগেও রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন দপ্তর থেকে মামলা করা হয়েছে বিভিন্ন অভিযোগে।

এছাড়া তেজগাঁওয়ের আরএডাব্লিউ ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট থেকে ২৯ লিটার অননুমোদিত লিকার জব্দ করা হয়েছে।

এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কয়েকটি বার, রেস্টুরেন্ট, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহ, প্রযোজ্য শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে এসব পণ্য সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযানের জন্য সিআইআইডি চারটি দল গঠন করে। এসব দলের সঙ্গে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।