ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক প্রশাসনের নাকের ডগায় অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৬ বার

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ইমন যুবলীগের নেতা। গ্রেপ্তার ইমন লালবাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার তদন্তে যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ ওয়ারী বিভাগের সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালায় শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ। পরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় জাহিদ হাসান ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত ১ কেজি ৫০০ গ্রাম কস্টিক সোডা, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল ও ২ কেজি ১ ইঞ্চি তারকাঁটা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ২০টি লাল কস্টেপ ও ১১টি কালো কস্টেপ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, তিন কার্টুনে রাখা কাগজের তৈরি মোট ৯ হাজার মুখোশ এবং মুখোশ পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ককটেল তৈরির উপাদান বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত জাইপান ব্র্যান্ডের একটি ব্লেন্ডার ও একটি জারও উদ্ধার করা হয়েছে।

জাহিদ হাসান ইমনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।

মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, ইমনের কাছ থেকে উদ্ধার করা মুখোশগুলো মানুষের মুখের আদলে তৈরি। বিভিন্ন মিছিল বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পরিচয় গোপন রাখতে এগুলো ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সহায়তায় মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়। পরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণের জন্য সেগুলো বাসায় রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, উদ্ধার করা বিস্ফোরক দিয়ে ককটেল তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। ইমনের বাসায় আসা আরেক ব্যক্তি বিস্ফোরক গুঁড়ো করে ককটেল তৈরি করতেন। এক নেতার নির্দেশে ইমন এ কাজে যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে ইমনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন,হ্যাঁ, অবশ্যই জড়িত।’ তবে মুখোশ ও অন্যান্য সামগ্রী তিনি নিজে তৈরি করেননি বলে জানান।

রাজধানীতে ভবিষ্যতে নাশকতার আশঙ্কা নিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন কাজ করছে এবং এ বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল

ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : ১১:১৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ইমন যুবলীগের নেতা। গ্রেপ্তার ইমন লালবাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার তদন্তে যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ ওয়ারী বিভাগের সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালায় শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ। পরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় জাহিদ হাসান ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত ১ কেজি ৫০০ গ্রাম কস্টিক সোডা, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল ও ২ কেজি ১ ইঞ্চি তারকাঁটা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ২০টি লাল কস্টেপ ও ১১টি কালো কস্টেপ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, তিন কার্টুনে রাখা কাগজের তৈরি মোট ৯ হাজার মুখোশ এবং মুখোশ পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ককটেল তৈরির উপাদান বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত জাইপান ব্র্যান্ডের একটি ব্লেন্ডার ও একটি জারও উদ্ধার করা হয়েছে।

জাহিদ হাসান ইমনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।

মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, ইমনের কাছ থেকে উদ্ধার করা মুখোশগুলো মানুষের মুখের আদলে তৈরি। বিভিন্ন মিছিল বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পরিচয় গোপন রাখতে এগুলো ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সহায়তায় মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়। পরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণের জন্য সেগুলো বাসায় রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, উদ্ধার করা বিস্ফোরক দিয়ে ককটেল তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। ইমনের বাসায় আসা আরেক ব্যক্তি বিস্ফোরক গুঁড়ো করে ককটেল তৈরি করতেন। এক নেতার নির্দেশে ইমন এ কাজে যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে ইমনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন,হ্যাঁ, অবশ্যই জড়িত।’ তবে মুখোশ ও অন্যান্য সামগ্রী তিনি নিজে তৈরি করেননি বলে জানান।

রাজধানীতে ভবিষ্যতে নাশকতার আশঙ্কা নিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন কাজ করছে এবং এ বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছে।